দিকপাল

চট্টগ্রাম ২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০১:২৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম ২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটে তাঁর বিজয়ের গেজেট প্রকাশ ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হলো। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এই আদেশ দেন।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে সরোয়ার আলমগীরের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম জানান, আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করেছেন যে সরোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি ছিলেন না। ফলে যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) আপিল মঞ্জুর করে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ অবৈধ, একতিয়ারবহির্ভূত এবং আইনগত বিদ্বেষপ্রসূত ছিল।

শুনানিতে অংশ নেওয়া অপর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন সরোয়ার আলমগীর কোনোভাবেই ঋণখেলাপি ছিলেন না, যা রিটার্নিং কর্মকর্তাও বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে জামায়াত প্রার্থীর আপিলের পর নির্বাচন কমিশন নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে একটি পরবর্তী নথির ওপর ভিত্তি করে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে। আইন অনুযায়ী এমন সাবসিকুয়েন্ট (পরবর্তী) কোনো কাগজ আমলে নেওয়ার একতিয়ার ইসির নেই এবং হাইকোর্ট ইসির সেই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, যেহেতু সরোয়ার আলমগীর ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, তাই এখন নির্বাচন কমিশন দ্রুত তাঁর নাম গেজেটভুক্ত করবে এবং তিনি সংসদে গিয়ে শপথ নেবেন।

এই আসনের আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয় গত জানুয়ারি মাসে, যখন ফটিকছড়ি আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। গত ১৮ জানুয়ারি ইসি সেই আপিল মঞ্জুর করে সরোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়।

ইসির এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করলে সরোয়ারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ সুগম হয়। তবে এর বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আদেশ দেন যে, সরোয়ার আলমগীর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফল প্রকাশ বা গেজেট করা যাবে না।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন পান ৬২,১৬০ ভোট। বিজয়ী হলেও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নির্বাচন কমিশন ফলের গেজেট প্রকাশ করতে পারেনি এবং সরোয়ারের শপথ গ্রহণ আটকে থাকে। পরবর্তীতে ফল প্রকাশ ও শপথে অনুমতির জন্য সরোয়ার আলমগীর আপিল বিভাগে আবেদন করলে, গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করতে মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টে পাঠান। সেই রুলেরই চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ হাইকোর্ট সরোয়ারের পক্ষে এই রায় দিলেন।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

তিনি বলেন, হাইকোর্ট আজ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন এবং বলেছেন তিনি মনোনয়ন দাখিলের দিন ঋণখেলাপি ছিলেন না। তবে আমাদের আইনি যুক্তি ছিল—যাচাই-বাছাই বা স্ক্রুটিনির দিনটি এখানে প্রাসঙ্গিক নয়, বরং মনোনয়নপত্র সাবমিট করার দিনটিই প্রাসঙ্গিক এবং সেই অনুযায়ী তিনি ডিফল্টার ছিলেন। আজ কেবল মৌখিক রায় হয়েছে। লিখিত রায় প্রকাশের পর আমরা অবশ্যই উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করব।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


চট্টগ্রাম ২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটে তাঁর বিজয়ের গেজেট প্রকাশ ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হলো। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এই আদেশ দেন।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে সরোয়ার আলমগীরের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম জানান, আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করেছেন যে সরোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি ছিলেন না। ফলে যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) আপিল মঞ্জুর করে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ অবৈধ, একতিয়ারবহির্ভূত এবং আইনগত বিদ্বেষপ্রসূত ছিল।

শুনানিতে অংশ নেওয়া অপর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন সরোয়ার আলমগীর কোনোভাবেই ঋণখেলাপি ছিলেন না, যা রিটার্নিং কর্মকর্তাও বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে জামায়াত প্রার্থীর আপিলের পর নির্বাচন কমিশন নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে একটি পরবর্তী নথির ওপর ভিত্তি করে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে। আইন অনুযায়ী এমন সাবসিকুয়েন্ট (পরবর্তী) কোনো কাগজ আমলে নেওয়ার একতিয়ার ইসির নেই এবং হাইকোর্ট ইসির সেই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, যেহেতু সরোয়ার আলমগীর ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, তাই এখন নির্বাচন কমিশন দ্রুত তাঁর নাম গেজেটভুক্ত করবে এবং তিনি সংসদে গিয়ে শপথ নেবেন।

এই আসনের আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয় গত জানুয়ারি মাসে, যখন ফটিকছড়ি আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। গত ১৮ জানুয়ারি ইসি সেই আপিল মঞ্জুর করে সরোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়।

ইসির এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করলে সরোয়ারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ সুগম হয়। তবে এর বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আদেশ দেন যে, সরোয়ার আলমগীর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফল প্রকাশ বা গেজেট করা যাবে না।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন পান ৬২,১৬০ ভোট। বিজয়ী হলেও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নির্বাচন কমিশন ফলের গেজেট প্রকাশ করতে পারেনি এবং সরোয়ারের শপথ গ্রহণ আটকে থাকে। পরবর্তীতে ফল প্রকাশ ও শপথে অনুমতির জন্য সরোয়ার আলমগীর আপিল বিভাগে আবেদন করলে, গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করতে মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টে পাঠান। সেই রুলেরই চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ হাইকোর্ট সরোয়ারের পক্ষে এই রায় দিলেন।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

তিনি বলেন, হাইকোর্ট আজ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন এবং বলেছেন তিনি মনোনয়ন দাখিলের দিন ঋণখেলাপি ছিলেন না। তবে আমাদের আইনি যুক্তি ছিল—যাচাই-বাছাই বা স্ক্রুটিনির দিনটি এখানে প্রাসঙ্গিক নয়, বরং মনোনয়নপত্র সাবমিট করার দিনটিই প্রাসঙ্গিক এবং সেই অনুযায়ী তিনি ডিফল্টার ছিলেন। আজ কেবল মৌখিক রায় হয়েছে। লিখিত রায় প্রকাশের পর আমরা অবশ্যই উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করব।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল