দিকপাল

হেবা দলিলে নতুন দানকর কারা দেবেন কারা দেবেন না


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হেবা দলিলে নতুন দানকর কারা দেবেন কারা দেবেন না

সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন করে দানকর আরোপ এবং অটোমেটেড চালান (এ-চালান) ব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় দেশের বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হেবা ও দান দলিল রেজিস্ট্রি সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। এ-চালান সম্পর্কে সেবাগ্রহীতাদের পূর্বধারণা না থাকায় সাধারণ বিক্রয় দলিলের সংখ্যাও আগের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোয় দলিল রেজিস্ট্রি স্বাভাবিকের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসায় সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যমান এই পরিস্থিতি ও জটিলতা নিরসনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি স্পষ্টীকরণ সার্কুলার জারি করেছে, যা সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যকার বিভ্রান্তি দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনবিআরের সার্কুলার অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১২৫ ধারায় দানকর-বিষয়ক নতুন একটি উপধারা (২ক) সংযুক্ত করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, সম্পত্তি হস্তান্তর দলিল নিবন্ধনের সময় নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা ‘দানকর আইন, ১৯৯০’ সাপেক্ষে প্রযোজ্য হারে দানকর এ-চালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করবেন। তবে কাস্টমস ও কর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এই উপধারাটি কেবল হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলের জন্য এটি কার্যকর নয়। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দানকর প্রযোজ্য হবে না, সেখানে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা কেবল নির্ধারিত হারে উৎসে কর সংগ্রহ নিশ্চিত করবেন।

নতুন নিয়ম অনুসারে, দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলে আয়কর ও দানকর জমাদানের নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনুকূলে এ-চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হবে এবং সেই চালানের কপি মূল দলিলের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। তবে কাস্টমস ও ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এ-চালান সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো কারণে দলিল রেজিস্ট্রি না হলে চালানের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না। তাই চালানের আগে জমির দলিলটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত কি না, তা নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে। নতুন নিয়মে জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আরও কিছু কঠোর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনার রশিদে খাজনা পরিশোধের সন ২০২৬-২৭ উল্লেখ না থাকলে কোনো জমির দলিল রেজিস্ট্রি করা যাবে না। পাশাপাশি পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার অন্তর্ভুক্ত জমির বিক্রয় কবলা দলিল, বায়নানামা দলিল, লিজ দলিল এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল রেজিস্ট্রি করতে চাইলে আবশ্যিকভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) প্রদর্শন করতে হবে।

নতুন এই দানকর নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও সাব-রেজিস্ট্রাররা জানিয়েছেন যে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মুসলিম পারিবারিক আইন ও বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, নিকটাত্মীয়দের মধ্যে হেবা বা দানের ক্ষেত্রে আগের মতোই করছাড়ের সুবিধা বহাল থাকবে। পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে সম্পত্তি হেবা বা দান করলে কোনো কর দিতে হবে না। একইভাবে স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে সম্পত্তি হেবা করলে কোনো প্রকার কর লাগবে না এবং সহোদর ভাই-বোনের মধ্যে সম্পত্তি হেবা বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও কোনো কর প্রযোজ্য হবে না। তবে এই নির্দিষ্ট সম্পর্কের বাইরে অন্যান্য দূরবর্তী আত্মীয় বা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ‘দানকর আইন, ১৯৯০’ অনুযায়ী নির্ধারিত হারে দানকর পরিশোধ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


হেবা দলিলে নতুন দানকর কারা দেবেন কারা দেবেন না

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন করে দানকর আরোপ এবং অটোমেটেড চালান (এ-চালান) ব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় দেশের বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হেবা ও দান দলিল রেজিস্ট্রি সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। এ-চালান সম্পর্কে সেবাগ্রহীতাদের পূর্বধারণা না থাকায় সাধারণ বিক্রয় দলিলের সংখ্যাও আগের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোয় দলিল রেজিস্ট্রি স্বাভাবিকের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসায় সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যমান এই পরিস্থিতি ও জটিলতা নিরসনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি স্পষ্টীকরণ সার্কুলার জারি করেছে, যা সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যকার বিভ্রান্তি দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনবিআরের সার্কুলার অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১২৫ ধারায় দানকর-বিষয়ক নতুন একটি উপধারা (২ক) সংযুক্ত করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, সম্পত্তি হস্তান্তর দলিল নিবন্ধনের সময় নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা ‘দানকর আইন, ১৯৯০’ সাপেক্ষে প্রযোজ্য হারে দানকর এ-চালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করবেন। তবে কাস্টমস ও কর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এই উপধারাটি কেবল হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলের জন্য এটি কার্যকর নয়। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দানকর প্রযোজ্য হবে না, সেখানে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা কেবল নির্ধারিত হারে উৎসে কর সংগ্রহ নিশ্চিত করবেন।

নতুন নিয়ম অনুসারে, দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলে আয়কর ও দানকর জমাদানের নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনুকূলে এ-চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হবে এবং সেই চালানের কপি মূল দলিলের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। তবে কাস্টমস ও ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এ-চালান সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো কারণে দলিল রেজিস্ট্রি না হলে চালানের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না। তাই চালানের আগে জমির দলিলটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত কি না, তা নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে। নতুন নিয়মে জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আরও কিছু কঠোর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনার রশিদে খাজনা পরিশোধের সন ২০২৬-২৭ উল্লেখ না থাকলে কোনো জমির দলিল রেজিস্ট্রি করা যাবে না। পাশাপাশি পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার অন্তর্ভুক্ত জমির বিক্রয় কবলা দলিল, বায়নানামা দলিল, লিজ দলিল এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল রেজিস্ট্রি করতে চাইলে আবশ্যিকভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) প্রদর্শন করতে হবে।

নতুন এই দানকর নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও সাব-রেজিস্ট্রাররা জানিয়েছেন যে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মুসলিম পারিবারিক আইন ও বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, নিকটাত্মীয়দের মধ্যে হেবা বা দানের ক্ষেত্রে আগের মতোই করছাড়ের সুবিধা বহাল থাকবে। পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে সম্পত্তি হেবা বা দান করলে কোনো কর দিতে হবে না। একইভাবে স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে সম্পত্তি হেবা করলে কোনো প্রকার কর লাগবে না এবং সহোদর ভাই-বোনের মধ্যে সম্পত্তি হেবা বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও কোনো কর প্রযোজ্য হবে না। তবে এই নির্দিষ্ট সম্পর্কের বাইরে অন্যান্য দূরবর্তী আত্মীয় বা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ‘দানকর আইন, ১৯৯০’ অনুযায়ী নির্ধারিত হারে দানকর পরিশোধ করতে হবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল