দিকপাল

কৃষি ও গ্রামবাংলা

ফরিদপুরে বাড়ছে পাট চাষ, ভালো ফলনের প্রত্যাশা কৃষকদের

বাংলার ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ পাট আবারও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নবজাগরণ সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে ফরিদপুরের মাঠজুড়ে দুলছে। দেশের ‘পাটের রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত এই জেলায় চলতি মৌসুমে ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো বৃষ্টিপাতের কল্যাণে পুরো জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে, যা দেখে স্থানীয় কৃষকরা বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন। বর্তমানে কৃষকরা পাটক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার, সেচ এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন।[TECHTARANGA-POST:1473]কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাট চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের বৃদ্ধি অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং ফসলে রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাবও তুলনামূলক অনেক কম। তবে এই আশাব্যঞ্জক চিত্রের পাশাপাশি চাষিদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলাও করতে হচ্ছে। সার, উন্নতমানের বীজ এবং জ্বালানির বাড়তি মূল্য উৎপাদন ব্যয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে দিনমজুরের উচ্চ মজুরির কারণে কৃষকদের ওপর তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আর্থিক চাপ। সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের কৃষক রবিউল শেখ জানিয়েছেন, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে তাদের ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে, তাই ন্যায্যমূল্য না পেলে এই বিনিয়োগ থেকে লাভ ঘরে তোলা কঠিন হবে।[TECHTARANGA-POST:1479]ফরিদপুরের আরেক কৃষক রাফিজুল খানের মতে, ক্ষেতের পাটের অবস্থা বেশ ভালো হলেও আসল সফলতা নির্ভর করছে পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানির প্রাপ্যতা এবং বাজারের ওপর। জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত সফল কৃষক শাহেদা বেগম মনে করেন, ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও প্রকৃত মুনাফা নিশ্চিত করতে হলে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির ফলে বাজারে সঠিক দাম না পেলে সাধারণ কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন বলে তিনি সতর্ক করেছেন।[TECHTARANGA-POST:1470]এই পরিস্থিতিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপ-পরিচালক শাহাদুজ্জামান জানিয়েছেন, কৃষকদের সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি পাটের গুণগত মান যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। সব প্রতিকূলতা জয় করে সোনালি আঁশের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা আবার সচল হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ফরিদপুরের প্রান্তিক চাষিরা।

ফরিদপুরে বাড়ছে পাট চাষ, ভালো ফলনের প্রত্যাশা কৃষকদের