সংবিধানের ঐতিহাসিক পঞ্চদশ সংশোধনীর বেশ কিছু বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়া ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা’ এবং সংবিধানে ‘গণভোটের’ বিধান চূড়ান্তভাবে পুনর্বহাল হলো।
আজ বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খারিজ করে এই চূড়ান্ত রায় দেন। আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ায় হাইকোর্টের রায়টিই এখন বলবৎ থাকবে।
আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী, সংবিধানের যে অনুচ্ছেদগুলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ধারাকে চিরতরে অপরিবর্তনীয় বা সংশোধন-অযোগ্য করা হয়েছিল, সেই ‘অনুচ্ছেদ ৭খ’ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক বিষয়ে জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য ‘গণভোটের’ (Referendum) বিধানকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আদালত আরও নিশ্চিত করেছেন যে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার চূড়ান্ত ক্ষমতা বা একচ্ছত্র কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের হাতেই বহাল থাকবে। তবে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে আনা অন্যান্য রাজনৈতিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করে, যা ওই বছরের ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট বাতিল করাসহ ৫৪টি ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। পরবর্তীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণফোরাম এবং বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সংগঠন এই মামলায় পক্ষভুক্ত (ইন্টারভেনার) হন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০Screen২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় দেন। সেই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি অনুচ্ছেদ ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) এবং অনুচ্ছেদ ১৪২-এর অধীনে গণভোট বাতিলের ধারাটিকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। আজ আপিল বিভাগ সেই রায়কেই চূড়ান্তভাবে সিলমোহর দিলেন।

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
সংবিধানের ঐতিহাসিক পঞ্চদশ সংশোধনীর বেশ কিছু বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়া ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা’ এবং সংবিধানে ‘গণভোটের’ বিধান চূড়ান্তভাবে পুনর্বহাল হলো।
আজ বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খারিজ করে এই চূড়ান্ত রায় দেন। আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ায় হাইকোর্টের রায়টিই এখন বলবৎ থাকবে।
আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী, সংবিধানের যে অনুচ্ছেদগুলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ধারাকে চিরতরে অপরিবর্তনীয় বা সংশোধন-অযোগ্য করা হয়েছিল, সেই ‘অনুচ্ছেদ ৭খ’ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক বিষয়ে জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য ‘গণভোটের’ (Referendum) বিধানকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আদালত আরও নিশ্চিত করেছেন যে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার চূড়ান্ত ক্ষমতা বা একচ্ছত্র কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের হাতেই বহাল থাকবে। তবে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে আনা অন্যান্য রাজনৈতিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করে, যা ওই বছরের ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট বাতিল করাসহ ৫৪টি ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। পরবর্তীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণফোরাম এবং বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সংগঠন এই মামলায় পক্ষভুক্ত (ইন্টারভেনার) হন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০Screen২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় দেন। সেই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি অনুচ্ছেদ ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) এবং অনুচ্ছেদ ১৪২-এর অধীনে গণভোট বাতিলের ধারাটিকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। আজ আপিল বিভাগ সেই রায়কেই চূড়ান্তভাবে সিলমোহর দিলেন।

আপনার মতামত লিখুন