গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার ঘাটতিতে পড়েছে নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। উদ্বোধনের প্রথম বছরেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে রেকর্ড মুনাফা অর্জন করলেও, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারখানাটিতে প্রায় ৮৫ হাজার টন ইউরিয়া সারের উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর এই পরিবেশবান্ধব কারখানাটিতে সরকারি নির্দেশনায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কারখানাটিতে ৮ লাখ ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বছর শেষে প্রকৃত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ টনে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৫ হাজার ৪৬৫ টন সার কম উৎপাদিত হয়েছে।
দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টন এবং বছরে ৯ লাখ ২৪ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই আধুনিক কারখানার। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন সচল পাঁচটি সার কারখানার মধ্যে এটিই একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সংকটের কারণে সরকারি নির্দেশনায় চলতি বছরের ৪ মার্চ থেকে কারখানাটির গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর টানা অচলাবস্থা শেষে ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। তবে গ্যাস পাওয়ার পর কারখানার বিশাল যন্ত্রপাতি চালু ও পুরোপুরি উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল করতে আরও কয়েকদিন সময় লেগে যায়। এর ফলে সব মিলিয়ে বছরের পিক-টাইমে টানা ৪০ দিন কারখানাটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল, যা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশাল এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নতুন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের একটি নতুন ও বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কারখানা প্রশাসন আশা করছে, শিল্প খাতে সরকারের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং কারখানার যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত নিশ্চিত করা গেলে এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ক্রমাগত লোকসানে থাকা পুরোনো ঘোড়াশাল ও পলাশ সার কারখানা দুটি ভেঙে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১০ একর জমির ওপর এই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব মেগা কারখানাটি গড়ে তোলে সরকার। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এটি উদ্বোধন করা হলেও ২০২৪ সালের ১১ মার্চ থেকে এখানে বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদন শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার ঘাটতিতে পড়েছে নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। উদ্বোধনের প্রথম বছরেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে রেকর্ড মুনাফা অর্জন করলেও, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারখানাটিতে প্রায় ৮৫ হাজার টন ইউরিয়া সারের উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর এই পরিবেশবান্ধব কারখানাটিতে সরকারি নির্দেশনায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কারখানাটিতে ৮ লাখ ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বছর শেষে প্রকৃত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ টনে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৫ হাজার ৪৬৫ টন সার কম উৎপাদিত হয়েছে।
দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টন এবং বছরে ৯ লাখ ২৪ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই আধুনিক কারখানার। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন সচল পাঁচটি সার কারখানার মধ্যে এটিই একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সংকটের কারণে সরকারি নির্দেশনায় চলতি বছরের ৪ মার্চ থেকে কারখানাটির গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর টানা অচলাবস্থা শেষে ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। তবে গ্যাস পাওয়ার পর কারখানার বিশাল যন্ত্রপাতি চালু ও পুরোপুরি উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল করতে আরও কয়েকদিন সময় লেগে যায়। এর ফলে সব মিলিয়ে বছরের পিক-টাইমে টানা ৪০ দিন কারখানাটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল, যা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশাল এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নতুন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের একটি নতুন ও বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কারখানা প্রশাসন আশা করছে, শিল্প খাতে সরকারের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং কারখানার যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত নিশ্চিত করা গেলে এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ক্রমাগত লোকসানে থাকা পুরোনো ঘোড়াশাল ও পলাশ সার কারখানা দুটি ভেঙে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১০ একর জমির ওপর এই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব মেগা কারখানাটি গড়ে তোলে সরকার। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এটি উদ্বোধন করা হলেও ২০২৪ সালের ১১ মার্চ থেকে এখানে বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদন শুরু হয়।

আপনার মতামত লিখুন