দিকপাল

ইসলামী জীবন

মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে ‘কবুল’ লিখলে কি বিয়ে হবে!

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব লেনদেনই অনলাইননির্ভর। কিন্তু মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোতে বর-কনের বার্তা আদান-প্রদান এবং মেসেজে ‘কবুল’ লিখে কি বিয়ের মতো স্পর্শকাতর বিধান সম্পন্ন করা সম্ভব? ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকাহ শাস্ত্রের মতে, কেবল টেক্সট পাঠালে কিংবা চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করলে ধর্মীয়ভাবে সেই বিয়ে বৈধ হবে না।[TECHTARANGA-POST:2344]ইসলামি আইন বিশারদদের মতে, একটি বিয়ে শরিয়াহ সম্মত ও পূর্ণাঙ্গ হতে হলে প্রধান দুটি শর্ত পূরণ করা অবশ্যকর্তব্য—প্রথমত, পাত্র ও পাত্রী অথবা তাঁদের পক্ষে মনোনীত প্রতিনিধির (উকিল) একই বৈঠকে বা মজলিসে সরাসরি উপস্থিত থাকতে হবে। অনলাইনের ডিজিটাল মেসেজিং ব্যবস্থায় এই শারীরিক উপস্থিতির শর্ত পূরণ হয় না।[TECHTARANGA-POST:2343]দ্বিতীয়ত, বিবাহের মূল রুকন বা বিধান শরিয়াহ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হতে অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারীর সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। শুধু উপস্থিত থাকলেই চলবে না, তাদের সামনেই মুখে স্পষ্ট আওয়াজে ইজাব ও কবুল উচ্চারণ করতে হবে, যেন সাক্ষীরা তা স্পষ্ট শুনতে পান। এ প্রসঙ্গে সহিহ ইবনে হিব্বানের হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না।”[TECHTARANGA-POST:2342]সুতরাং, মেসেজে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো বা ‘কবুল’ টাইপ করাকে বড়জোর একটি পারস্পরিক সম্মতি বা প্রাথমিক আলোচনা হিসেবে গণ্য করা যায়। প্রয়োজনীয় শরিয়াহসম্মত সাক্ষী ও একই মজলিসে অবস্থান ছাড়া কেবল চ্যাটিংয়ের মেসেজ কোনোভাবেই বৈধ দাম্পত্যের মর্যাদা দেয় না।[TECHTARANGA-POST:2340]

মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে ‘কবুল’ লিখলে কি বিয়ে হবে!