দিকপাল

প্রতিরক্ষা খাতে ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১০:০৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিরক্ষা খাতে ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এক বিশাল মহাপরিকল্পনা উন্মোচন করেছে সরকার। একই সাথে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে উন্নতমানের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং অত্যাধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম অর্জনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে দুই সংসদ সদস্যের পৃথক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে একটি তিন বছর মেয়াদী এবং পরবর্তীতে একটি সাত বছর মেয়াদী প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সেনাবাহিনীর স্থল যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ট্যাংক, আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল, আধুনিক আর্টিলারি রকেট সিস্টেম, অ্যান্টি-ট্যাংক অস্ত্র এবং স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।

পাশাপাশি সেনাবাহিনীতে চালকবিহীন ড্রোন (UAV), কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম এবং উন্নত সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তি যুক্ত করে ইন্টেলিজেন্স ও নজরদারি সক্ষমতা বাড়ানো হবে। দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান বজায় রাখার সুবিধার্থে আর্টিলারি গোলাবারুদ, এমএলআরএস রকেট, ট্যাংক অ্যামুনিশন এবং অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইলের কৌশলগত মজুদ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, নৌবহরে নতুন ও আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর পেট্রোল ভেসেল এবং সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

অন্যদিকে, বিমানবাহিনীর ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (MRCA), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার, অ্যান্টি-ড্রোন ও ইউএভি সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, মাঝারি পাল্লার ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার রাডার যুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বগুড়ায় একটি ড্রোন (UAV) উৎপাদন প্ল্যান্ট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা খাত গড়ে তুলতে একটি ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প নীতি’ প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকার দেশে ডেডিকেটেড ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

তাছাড়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সামরিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেশেই আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল,রকেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট এবং বিভিন্ন ফিউজ ও প্রাইমার তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


প্রতিরক্ষা খাতে ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এক বিশাল মহাপরিকল্পনা উন্মোচন করেছে সরকার। একই সাথে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে উন্নতমানের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং অত্যাধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম অর্জনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে দুই সংসদ সদস্যের পৃথক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে একটি তিন বছর মেয়াদী এবং পরবর্তীতে একটি সাত বছর মেয়াদী প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সেনাবাহিনীর স্থল যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ট্যাংক, আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল, আধুনিক আর্টিলারি রকেট সিস্টেম, অ্যান্টি-ট্যাংক অস্ত্র এবং স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।

পাশাপাশি সেনাবাহিনীতে চালকবিহীন ড্রোন (UAV), কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম এবং উন্নত সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তি যুক্ত করে ইন্টেলিজেন্স ও নজরদারি সক্ষমতা বাড়ানো হবে। দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান বজায় রাখার সুবিধার্থে আর্টিলারি গোলাবারুদ, এমএলআরএস রকেট, ট্যাংক অ্যামুনিশন এবং অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইলের কৌশলগত মজুদ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, নৌবহরে নতুন ও আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর পেট্রোল ভেসেল এবং সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

অন্যদিকে, বিমানবাহিনীর ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (MRCA), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার, অ্যান্টি-ড্রোন ও ইউএভি সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, মাঝারি পাল্লার ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার রাডার যুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বগুড়ায় একটি ড্রোন (UAV) উৎপাদন প্ল্যান্ট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা খাত গড়ে তুলতে একটি ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প নীতি’ প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকার দেশে ডেডিকেটেড ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

তাছাড়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সামরিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেশেই আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল,রকেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট এবং বিভিন্ন ফিউজ ও প্রাইমার তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল