দেশের ব্যাংক খাতে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে মোট ১১৯ কোটি টাকা (অন্য তথ্যে ১১৩ কোটি টাকা) খরচ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় কমেছে ৩১ কোটি টাকা বা ২৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। [TECHTARANGA-POST:2870]বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না পারা, মুনাফায় বড় ধাক্কা খাওয়া এবং লোকসানে থাকার কারণে ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে বাজেট কমিয়ে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।সিএসআর ব্যয়ের টানা পতন:বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে ব্যাংকগুলো রেকর্ড ১ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা সিএসআর ব্যয় করেছিল। এরপর থেকে এ ব্যয় ক্রমাগত কমছে। ২০২৩ সালে তা নেমে আসে ৯২৪ কোটি টাকায়, ২০২৪ সালে আরও কমে দাঁড়ায় ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় এবং ২০২৫ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৩৪৫ কোটি টাকায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের শেষ ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংকগুলো ১৯৮ কোটি টাকা খরচ করলেও চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে তা আরও কমে ১১৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। [TECHTARANGA-POST:2864]শীর্ষে যেসব ব্যাংক:চলতি বছরের প্রথমার্ধে সিএসআর খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা ব্যাংক। ব্যাংকটি মোট ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা খরচ করেছে, যার সিংহভাগ (৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা) গেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপখাতে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (স্ট্যানচার্ট) ব্যয় করেছে ১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তারা সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে খরচ করেছে।১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ও শিক্ষায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ জানান, তাঁদের ব্যয়ের বড় অংশ গেছে শীতের কম্বল বিতরণ ও শিক্ষার্থীদের বছরজুড়ে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানে। [TECHTARANGA-POST:2858]এছাড়া ব্যয়ের তালিকায় পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (৮.৯২ কোটি), পূবালী ব্যাংক (৮.৬৭ কোটি), ট্রাস্ট ব্যাংক (৮.৪৩ কোটি), যমুনা ব্যাংক (৮.০৭ কোটি), ব্র্যাক ব্যাংক (৭.৪১ কোটি), ডাচ্-বাংলা ব্যাংক (৬.৩৮ কোটি) এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (৬.০৮ কোটি টাকা)।খাতভিত্তিক ব্যয়ের চিত্র:বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী নিট লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে অর্থ খরচ করতে পারে না। নিয়ম অনুযায়ী সিএসআর ব্যয়ের মোট ব্যয়ের ৬০ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে (৩০% করে) এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে খরচ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে সর্বোচ্চ ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা খরচ করেছে। এরপর স্বাস্থ্য খাতে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ এবং শিক্ষা খাতে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।