দিকপাল

সারের মজুত যথেষ্ট, বিতরণ ব্যবস্থায় জটিলতা: কৃষি মন্ত্রণালয়


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৫০ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

সারের মজুত যথেষ্ট, বিতরণ ব্যবস্থায় জটিলতা: কৃষি মন্ত্রণালয়

আগস্ট মাস দেশের প্রধান ধানের মৌসুম আমনের জমি প্রস্তুত করা ও চারা রোপণের সময়। চারা রোপণের পর কয়েক ধাপে কৃষককে জমিতে সার দিতে হয়। স্বাভাবিকভাবে এ সময় সারের চাহিদা বেশি থাকলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন। কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। তবে সরকারের নথিপত্র অনুযায়ী, চাহিদার বিপরীতে সারের মজুত ও বরাদ্দে কোনো ঘাটতি নেই।


কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাঁরা সার উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। ডিলাররা ঠিকমতো সার উত্তোলন ও বিতরণ করছেন কি না, তা তদারক করার দায়িত্ব উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার-নির্ধারিত পরিবেশকেরা ভর্তুকির সার বাইরে কালোবাজারে বিক্রির কারণে সংকট দেখা দিচ্ছে। পরে খোলাবাজারে সেই সার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক এলাকার সার অন্য এলাকায় পাচার করার অভিযোগে গত তিন দিনে রাজশাহীর ৪ উপজেলায় ৪ পরিবেশককে মোট ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে যশোরে ২ আগস্ট ২ পরিবেশককে মোট সাড়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) আহমেদ ফয়সল ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, 'মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের হাত-পা। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আমরা আমদানি, বরাদ্দ সঠিক পরিমাণে ও সঠিক সময়ে করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও ডিলারদের সঙ্গে যোগসাজশ সংকট তৈরি করছে।' এসব বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তে যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ফয়সল ইমাম বলেন, গত শনিবার জেলা পর্যায়ের তিন উপপরিচালককে বদলি করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে এক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আগস্ট মাসের জেলাভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, জেলাভিত্তিক সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও উত্তোলন হয়েছে কোথাও বরাদ্দের অর্ধেক, কোথাও তার চেয়ে কম। ঢাকা বিভাগের কয়েকটি জেলার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আগস্টে গাজীপুরের জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে সার বিতরণ হয়েছে মাত্র ৮০০ মেট্রিক টন। নরসিংদী জেলায় আগস্টে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৫৫৩ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে ৯১৯ মেট্রিক টন। আগস্টে ঢাকা বিভাগের ৮ জেলায় ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ১৯ হাজার ৯১৮ হাজার মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে ৮ হাজার ৯৬৫ হাজার মেট্রিক টন। ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জেলায় ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ৩১ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে ৯ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন। সিলেট বিভাগের চার জেলার জন্য আগস্টে বরাদ্দ ৯ হাজার ৫৪১ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৬৭৯ মেট্রিক টন সার উত্তোলন করেছেন ডিলাররা।

টিএসপি সারের উত্তোলনও একইভাবে বরাদ্দের তুলনায় কম দেখা গেছে। কুমিল্লা জেলায় আগস্টে টিএসপি সারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে ৪৯৮ মেট্রিক টন। কুমিল্লা বিভাগের তিন জেলার জন্য টিএসপির মোট বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৭৭২ মেট্রিক টন। কৃষক পর্যায়ে ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৭১ মেট্রিক টন। খুলনার চার জেলায় টিএসপির বরাদ্দ ছিল আগস্টে ৪ হাজার ৩৩৭ মেট্রিক টন। বিতরণ করা হয়েছে ২০ আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৬৩৭ মেট্রিক টন। সারা দেশে আগস্টের জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ আছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬১২ টন।

সরকারের দুটি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও সার আমদানি করা হয়। বিসিআইসি ইউরিয়া সার ও বিএডিসি নন-ইউরিয়া (ডিএপি, এমওপি, টিএসপি) আমদানি করে থাকে। বিএডিসির আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে সারা দেশে টিএসপির চাহিদা ৬৯ হাজার মেট্রিক টন, আর মজুত আছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। ডিএপির চাহিদা ৮৯ হাজার মেট্রিক টন, মজুত ৩ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। এমওপির চাহিদা ৭৮ হাজার মেট্রিক টন, মজুত ১ লাখ ৪৮ হাজার টন। ইউরিয়া সারের বার্ষিক চাহিদা ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মজুত আছে ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন।


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ছাদেকা হক প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে সারের সংকট প্রকৃত ঘাটতির কারণে নয়, বরং সরবরাহ-চেইনের ত্রুটির কারণে সৃষ্ট। ডিলাররা নির্ধারিত সময়ে বরাদ্দ করা সার উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন, এক পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে একাধিক ডিলারশিপ নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন কেউ কেউ। তিনি সার উত্তোলনের কঠোর সময়সীমা, ডিজিটাল রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং, শাস্তির প্রকৃত প্রয়োগ এবং কৃষকদের জন্য সহজ অভিযোগ চ্যানেল তৈরির পরামর্শ দেন।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


সারের মজুত যথেষ্ট, বিতরণ ব্যবস্থায় জটিলতা: কৃষি মন্ত্রণালয়

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আগস্ট মাস দেশের প্রধান ধানের মৌসুম আমনের জমি প্রস্তুত করা ও চারা রোপণের সময়। চারা রোপণের পর কয়েক ধাপে কৃষককে জমিতে সার দিতে হয়। স্বাভাবিকভাবে এ সময় সারের চাহিদা বেশি থাকলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন। কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। তবে সরকারের নথিপত্র অনুযায়ী, চাহিদার বিপরীতে সারের মজুত ও বরাদ্দে কোনো ঘাটতি নেই।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাঁরা সার উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। ডিলাররা ঠিকমতো সার উত্তোলন ও বিতরণ করছেন কি না, তা তদারক করার দায়িত্ব উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার। কৃষকদের অভিযোগ, সরকার-নির্ধারিত পরিবেশকেরা ভর্তুকির সার বাইরে কালোবাজারে বিক্রির কারণে সংকট দেখা দিচ্ছে। পরে খোলাবাজারে সেই সার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক এলাকার সার অন্য এলাকায় পাচার করার অভিযোগে গত তিন দিনে রাজশাহীর ৪ উপজেলায় ৪ পরিবেশককে মোট ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে যশোরে ২ আগস্ট ২ পরিবেশককে মোট সাড়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) আহমেদ ফয়সল ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, 'মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের হাত-পা। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আমরা আমদানি, বরাদ্দ সঠিক পরিমাণে ও সঠিক সময়ে করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও ডিলারদের সঙ্গে যোগসাজশ সংকট তৈরি করছে।' এসব বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তে যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ফয়সল ইমাম বলেন, গত শনিবার জেলা পর্যায়ের তিন উপপরিচালককে বদলি করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে এক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আগস্ট মাসের জেলাভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, জেলাভিত্তিক সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও উত্তোলন হয়েছে কোথাও বরাদ্দের অর্ধেক, কোথাও তার চেয়ে কম। ঢাকা বিভাগের কয়েকটি জেলার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আগস্টে গাজীপুরের জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে সার বিতরণ হয়েছে মাত্র ৮০০ মেট্রিক টন। নরসিংদী জেলায় আগস্টে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৫৫৩ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে ৯১৯ মেট্রিক টন। আগস্টে ঢাকা বিভাগের ৮ জেলায় ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ১৯ হাজার ৯১৮ হাজার মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে ৮ হাজার ৯৬৫ হাজার মেট্রিক টন। ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জেলায় ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ৩১ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে ৯ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন। সিলেট বিভাগের চার জেলার জন্য আগস্টে বরাদ্দ ৯ হাজার ৫৪১ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৬৭৯ মেট্রিক টন সার উত্তোলন করেছেন ডিলাররা।

টিএসপি সারের উত্তোলনও একইভাবে বরাদ্দের তুলনায় কম দেখা গেছে। কুমিল্লা জেলায় আগস্টে টিএসপি সারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে ৪৯৮ মেট্রিক টন। কুমিল্লা বিভাগের তিন জেলার জন্য টিএসপির মোট বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৭৭২ মেট্রিক টন। কৃষক পর্যায়ে ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৭১ মেট্রিক টন। খুলনার চার জেলায় টিএসপির বরাদ্দ ছিল আগস্টে ৪ হাজার ৩৩৭ মেট্রিক টন। বিতরণ করা হয়েছে ২০ আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৬৩৭ মেট্রিক টন। সারা দেশে আগস্টের জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ আছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬১২ টন।

সরকারের দুটি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও সার আমদানি করা হয়। বিসিআইসি ইউরিয়া সার ও বিএডিসি নন-ইউরিয়া (ডিএপি, এমওপি, টিএসপি) আমদানি করে থাকে। বিএডিসির আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে সারা দেশে টিএসপির চাহিদা ৬৯ হাজার মেট্রিক টন, আর মজুত আছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। ডিএপির চাহিদা ৮৯ হাজার মেট্রিক টন, মজুত ৩ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। এমওপির চাহিদা ৭৮ হাজার মেট্রিক টন, মজুত ১ লাখ ৪৮ হাজার টন। ইউরিয়া সারের বার্ষিক চাহিদা ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মজুত আছে ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ছাদেকা হক প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে সারের সংকট প্রকৃত ঘাটতির কারণে নয়, বরং সরবরাহ-চেইনের ত্রুটির কারণে সৃষ্ট। ডিলাররা নির্ধারিত সময়ে বরাদ্দ করা সার উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন, এক পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে একাধিক ডিলারশিপ নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন কেউ কেউ। তিনি সার উত্তোলনের কঠোর সময়সীমা, ডিজিটাল রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং, শাস্তির প্রকৃত প্রয়োগ এবং কৃষকদের জন্য সহজ অভিযোগ চ্যানেল তৈরির পরামর্শ দেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল