দেশের উত্তরাঞ্চলের আলু চাষিদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং তীব্র সংরক্ষণ সংকট দূর করতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আলু উৎপাদনকারী প্রধান অঞ্চলগুলোতে হিমাগার সংকট কাটাতে সরকারি উদ্যোগে আধুনিক ও স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে আলু উৎপাদনসমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে ৭০৩টি মডেল সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এই বিশেষায়িত ঘরগুলোর প্রতিটি ৩০ মেট্রিক টন আলু মজুত করার সক্ষমতা রাখে। এছাড়া আধুনিক এই মডেল ঘরগুলোতে কোনো কৃত্রিম হিমাগার ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় টানা চার মাস পর্যন্ত আলুর গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে সংরক্ষণ করা সম্ভব। মন্ত্রী বলেন, এই সুবিধার ফলে উৎপাদন মৌসুমের শুরুতে বাজারে আলুর অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি না করে, পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে ভালো মূল্যে তা বাজারে ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
উত্তরাঞ্চলসহ দেশজুড়ে আলু চাষিদের লোকসান কমাতে এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়াকে আরও টেকসই করতে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ইতিমধ্যে ‘আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন (দ্বিতীয় ফেজ)’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এই দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পটি অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশের আলু সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের সামগ্রিক অবকাঠামো আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সংসদকে আরও অবহিত করেন যে, মডেল সংরক্ষণ ঘরের পাশাপাশি আলু উৎপাদনকারী প্রধান অঞ্চলগুলোতে সরকারি উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরের আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপনের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং আলু চাষিদের আর্থিক ক্ষতি বা লোকসান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রধান আলু উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধা ও উন্নত বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণরূপে গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
দেশের উত্তরাঞ্চলের আলু চাষিদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং তীব্র সংরক্ষণ সংকট দূর করতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আলু উৎপাদনকারী প্রধান অঞ্চলগুলোতে হিমাগার সংকট কাটাতে সরকারি উদ্যোগে আধুনিক ও স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে আলু উৎপাদনসমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে ৭০৩টি মডেল সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এই বিশেষায়িত ঘরগুলোর প্রতিটি ৩০ মেট্রিক টন আলু মজুত করার সক্ষমতা রাখে। এছাড়া আধুনিক এই মডেল ঘরগুলোতে কোনো কৃত্রিম হিমাগার ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় টানা চার মাস পর্যন্ত আলুর গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে সংরক্ষণ করা সম্ভব। মন্ত্রী বলেন, এই সুবিধার ফলে উৎপাদন মৌসুমের শুরুতে বাজারে আলুর অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি না করে, পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে ভালো মূল্যে তা বাজারে ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
উত্তরাঞ্চলসহ দেশজুড়ে আলু চাষিদের লোকসান কমাতে এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়াকে আরও টেকসই করতে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ইতিমধ্যে ‘আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন (দ্বিতীয় ফেজ)’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এই দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পটি অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে দেশের আলু সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের সামগ্রিক অবকাঠামো আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সংসদকে আরও অবহিত করেন যে, মডেল সংরক্ষণ ঘরের পাশাপাশি আলু উৎপাদনকারী প্রধান অঞ্চলগুলোতে সরকারি উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরের আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপনের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং আলু চাষিদের আর্থিক ক্ষতি বা লোকসান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রধান আলু উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধা ও উন্নত বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণরূপে গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন