বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতের পথচলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং সামাজিক বাধা। মুসলিমরা একটি সার্বজনীন গোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকেই আশ্চর্যজনকভাবে 'সাম্প্রদায়িক' হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও বর্তমান সংসদীয় অবস্থান তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, "সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে আমরা ৯০টি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি। দেশের মানুষ একটি দুর্নীতিমুক্ত দলের হাতে দায়িত্ব দিতে চেয়েছিল এবং জামায়াতই এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত দল। আল্লাহ আমাদের যতটুকু যোগ্য মনে করেছেন, ততটুকু দায়িত্ব সংসদীয় রাজনীতিতে দিয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, উপমহাদেশের চারটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওপর দিয়েই সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলো গেছে। দলের ৮৬ বছরের দীর্ঘ অভিযাত্রায় অসংখ্য নেতাকর্মী ত্যাগ ও শাহাদাত বরণ করেছেন।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে জামায়াতের অন্যতম নেয়ামত উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই শৃঙ্খলা ও নীতি-নৈতিকতা অন্য কোথাও নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমীরদের হালাল উপার্জনকারী, মানবিক ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতা সম্পন্ন ভালো মানুষদের বেছে নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
এর আগে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা মহানগরী উত্তরের কাফরুল জোন আয়োজিত এক কর্মী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করে বলেন, "বিগত নির্বাচনে জাতি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্বাতস্ফূর্তভাবে গণরায় দিয়েছিল। দেশে ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হলেও দুষ্ট লোকেরা আঁতাত করে জনগণের সেই রায় ছিনতাই করে নিয়েছে।"
বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন: "জুলাই সনদ আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। কিন্তু বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়ন না করে গণরায়ের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা দেখাচ্ছে। জুলাই সনদ নিয়ে আমরা কোনো আপস করব না, কাউকে ছেড়ে কথা বলব না। এই সনদ বাস্তবায়নে পিছপা হওয়া মানে জাতি ও শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানী করা।"
সংসদে জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে মহল বিশেষের নানা হুমকি-ধমকির জবাবে তিনি বলেন, "আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। সব ধরনের প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই জামায়াত আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, জামায়াতে ইসলামী সব কটি স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি বলেন, "এটি সরকার গঠনের নির্বাচন নয়, এলাকার উন্নয়নের নির্বাচন। আর যেখানে উন্নয়ন বা ‘মধু’ থাকে, সেখানে কিছু চাটুকার ‘মাছি’র আনাগোনা দেখা যায়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমরা কাউকে জনগণের হকের মধু খেতে দেবো না। জনগণের অধিকার জনগণের কাছেই পৌঁছে দেওয়া হবে।"
কাফরুল জোনের শিক্ষাশিবিরে ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রব প্রমুখ। সেলিম উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতের পথচলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং সামাজিক বাধা। মুসলিমরা একটি সার্বজনীন গোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকেই আশ্চর্যজনকভাবে 'সাম্প্রদায়িক' হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও বর্তমান সংসদীয় অবস্থান তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, "সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে আমরা ৯০টি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি। দেশের মানুষ একটি দুর্নীতিমুক্ত দলের হাতে দায়িত্ব দিতে চেয়েছিল এবং জামায়াতই এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত দল। আল্লাহ আমাদের যতটুকু যোগ্য মনে করেছেন, ততটুকু দায়িত্ব সংসদীয় রাজনীতিতে দিয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, উপমহাদেশের চারটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওপর দিয়েই সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলো গেছে। দলের ৮৬ বছরের দীর্ঘ অভিযাত্রায় অসংখ্য নেতাকর্মী ত্যাগ ও শাহাদাত বরণ করেছেন।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে জামায়াতের অন্যতম নেয়ামত উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই শৃঙ্খলা ও নীতি-নৈতিকতা অন্য কোথাও নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমীরদের হালাল উপার্জনকারী, মানবিক ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতা সম্পন্ন ভালো মানুষদের বেছে নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
এর আগে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা মহানগরী উত্তরের কাফরুল জোন আয়োজিত এক কর্মী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করে বলেন, "বিগত নির্বাচনে জাতি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্বাতস্ফূর্তভাবে গণরায় দিয়েছিল। দেশে ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হলেও দুষ্ট লোকেরা আঁতাত করে জনগণের সেই রায় ছিনতাই করে নিয়েছে।"
বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন: "জুলাই সনদ আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। কিন্তু বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়ন না করে গণরায়ের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা দেখাচ্ছে। জুলাই সনদ নিয়ে আমরা কোনো আপস করব না, কাউকে ছেড়ে কথা বলব না। এই সনদ বাস্তবায়নে পিছপা হওয়া মানে জাতি ও শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানী করা।"
সংসদে জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে মহল বিশেষের নানা হুমকি-ধমকির জবাবে তিনি বলেন, "আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। সব ধরনের প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই জামায়াত আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, জামায়াতে ইসলামী সব কটি স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি বলেন, "এটি সরকার গঠনের নির্বাচন নয়, এলাকার উন্নয়নের নির্বাচন। আর যেখানে উন্নয়ন বা ‘মধু’ থাকে, সেখানে কিছু চাটুকার ‘মাছি’র আনাগোনা দেখা যায়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমরা কাউকে জনগণের হকের মধু খেতে দেবো না। জনগণের অধিকার জনগণের কাছেই পৌঁছে দেওয়া হবে।"
কাফরুল জোনের শিক্ষাশিবিরে ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রব প্রমুখ। সেলিম উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন