দিকপাল

খামেনির জানাজায় গেলে সহায়তা বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০২:১৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

খামেনির জানাজায় গেলে সহায়তা বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের অংশ না নিতে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি জানাজায় অংশ নিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা বন্ধের মতো কঠোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আজ শনিবার (৪ জুলাই) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত পাঁচ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা বিভিন্ন দেশের সরকারকে তেহরানের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার জন্য এক সমন্বিত ও তীব্র কূটনৈতিক চাপ দিয়ে আসছেন।

সূত্রমতে, গত ২৬ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে একটি অত্যন্ত গোপন নির্দেশনা পাঠান। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের নিজ নিজ দেশের সরকারকে স্পষ্ট বোঝাতে হবে যে—ইরানের নেতার শেষকৃত্যে অংশগ্রহণকে ওয়াশিংটন একটি ‘অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে এর একটি মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে পড়তে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন আরব কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে এই অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার জন্য সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শুধু আরব বিশ্বই নয়, আফ্রিকার বিভিন্ন অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরাও ওয়াশিংটনের হয়ে সমান্তরাল চাপ প্রয়োগ করেছেন। আফ্রিকান দেশগুলোকে স্পষ্ট সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যদি তেহরানে খামেনির শেষকৃত্যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেওয়া নিয়মিত বার্ষিক উন্নয়ন সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে বা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

মার্কিন এই নজিরবিহীন আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে উত্তর আফ্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ শেষ মুহূর্তে তেহরানে তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধির স্তর (রিপ্রেজেন্টেশন লেভেল) সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের এই বহুমুখী ও তীব্র প্রচ্ছন্ন হুমকির মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত অন্তত ১৩টি দেশ খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পূর্ব ইউরোপের ৩টি, আফ্রিকার ৫টি, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ২টি এবং পূর্ব এশিয়ার ২টি দেশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন চাপের কারণে সশরীরে অংশ নিতে না পারা কয়েকটি দেশ জেনেভা, নিউইয়র্ক কিংবা তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতায় ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং তাদের এই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, বেশ কিছু দেশ নিজেদের রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি না পাঠিয়ে তেহরানে নিযুক্ত বর্তমান কূটনীতিকদেরই জানাজায় পাঠাতে চেয়েছিল। তবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এই ধরনের 'নিম্ন স্তরের' প্রতীকী অংশগ্রহণকে সম্মানজনক মনে না করায় ইরান কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


খামেনির জানাজায় গেলে সহায়তা বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের অংশ না নিতে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি জানাজায় অংশ নিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা বন্ধের মতো কঠোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আজ শনিবার (৪ জুলাই) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত পাঁচ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা বিভিন্ন দেশের সরকারকে তেহরানের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার জন্য এক সমন্বিত ও তীব্র কূটনৈতিক চাপ দিয়ে আসছেন।

সূত্রমতে, গত ২৬ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে একটি অত্যন্ত গোপন নির্দেশনা পাঠান। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের নিজ নিজ দেশের সরকারকে স্পষ্ট বোঝাতে হবে যে—ইরানের নেতার শেষকৃত্যে অংশগ্রহণকে ওয়াশিংটন একটি ‘অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে এর একটি মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে পড়তে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন আরব কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে এই অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার জন্য সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শুধু আরব বিশ্বই নয়, আফ্রিকার বিভিন্ন অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরাও ওয়াশিংটনের হয়ে সমান্তরাল চাপ প্রয়োগ করেছেন। আফ্রিকান দেশগুলোকে স্পষ্ট সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যদি তেহরানে খামেনির শেষকৃত্যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেওয়া নিয়মিত বার্ষিক উন্নয়ন সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে বা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

মার্কিন এই নজিরবিহীন আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে উত্তর আফ্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ শেষ মুহূর্তে তেহরানে তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধির স্তর (রিপ্রেজেন্টেশন লেভেল) সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের এই বহুমুখী ও তীব্র প্রচ্ছন্ন হুমকির মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত অন্তত ১৩টি দেশ খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পূর্ব ইউরোপের ৩টি, আফ্রিকার ৫টি, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ২টি এবং পূর্ব এশিয়ার ২টি দেশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন চাপের কারণে সশরীরে অংশ নিতে না পারা কয়েকটি দেশ জেনেভা, নিউইয়র্ক কিংবা তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতায় ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং তাদের এই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, বেশ কিছু দেশ নিজেদের রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি না পাঠিয়ে তেহরানে নিযুক্ত বর্তমান কূটনীতিকদেরই জানাজায় পাঠাতে চেয়েছিল। তবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এই ধরনের 'নিম্ন স্তরের' প্রতীকী অংশগ্রহণকে সম্মানজনক মনে না করায় ইরান কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল