দিকপাল

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ | ১০:৩৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধাবস্থার তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২৬ জুন) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে তুমুল সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পাল্টা জবাব হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও চলমান শান্তি আলোচনা এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন বরাবরই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে আসছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় তেহরানের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তা সত্ত্বেও মার্কিন বাহিনী একপাক্ষিক অভিযোগ এনে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। এই সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিপ্লবী বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় এ ধরনের কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে এর পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ এবং ইরানের পরবর্তী জবাব হবে আরও ব্যাপক।

এর আগে, শুক্রবার দিনের শুরুতে ইরানভিত্তিক ড্রোন ও মিসাইল উৎপাদন ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের উপর্যুপরি ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

গত কয়েক মাস ধরে উপসাগরীয় অঞ্চল, বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও মাইন হামলার ঘটনা ঘটে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সরাসরি ইরানকে দায়ী করে আসছিল। যদিও ইরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অঞ্চলে এক ধরনের যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু শুক্রবারের এই পাল্টাপাল্টি সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে সেই বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬


মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধাবস্থার তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২৬ জুন) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে তুমুল সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পাল্টা জবাব হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও চলমান শান্তি আলোচনা এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন বরাবরই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে আসছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় তেহরানের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তা সত্ত্বেও মার্কিন বাহিনী একপাক্ষিক অভিযোগ এনে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। এই সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিপ্লবী বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় এ ধরনের কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে এর পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ এবং ইরানের পরবর্তী জবাব হবে আরও ব্যাপক।

এর আগে, শুক্রবার দিনের শুরুতে ইরানভিত্তিক ড্রোন ও মিসাইল উৎপাদন ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের উপর্যুপরি ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

গত কয়েক মাস ধরে উপসাগরীয় অঞ্চল, বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও মাইন হামলার ঘটনা ঘটে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সরাসরি ইরানকে দায়ী করে আসছিল। যদিও ইরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অঞ্চলে এক ধরনের যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু শুক্রবারের এই পাল্টাপাল্টি সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে সেই বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল