বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কার্যক্রম চলছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকেই ইসরায়েল এই দুই দেশের তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে উগ্রবাদী আদর্শ ও প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই দাবি করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে (NDTV) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
বুধবার এনডিটিভির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এডিটর আদিত্য রাজ কৌলকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রিউভেন আজার আঞ্চলিক কূটনীতি ও উগ্রবাদ দমনে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকারে হামাস প্রসঙ্গে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামলার পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে সংগঠনটির তৎপরতার দিকে নজর রাখছে তেল আবিব। তিনি বলেন: "আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম নিয়মিত অনুসরণ করে আসছি। এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এলেও আরও বেশ কিছু গোপন কার্যক্রম থাকতে পারে, যা এখনো জনসমক্ষে আসেনি।"
আজার সতর্ক করে বলেন, উগ্রবাদী সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরের হামলাকে বিশ্বের অন্যত্র একই ধরনের অভিযান পরিচালনার একটি 'সফল মডেল' হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এ ধরনের প্রবণতা দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত। পাশাপাশি এই নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সেতুবন্ধন বা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে আজার স্পষ্ট জানান, পাকিস্তানের ওপর ইসরায়েলের কোনো আস্থা নেই এবং দেশটির এই অবস্থানকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারের ভূমিকারও সমালোচনা করে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত বলেন, “কিছু দেশ মনে করে শান্তি মানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকবে না।” তাঁর মতে, শান্তি সম্পর্কে ইসরায়েলের যে নিজস্ব ধারণা, তা এই পক্ষগুলোর ধারণা থেকে মৌলিকভাবে আলাদা।
রাষ্ট্রদূত আজার অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কিছু অংশ এবং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্তব্য সরাসরি ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্যকে উৎসাহিত করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইসলামাবাদের প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করে।
ইরানকে ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমঝোতার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ ও হুমকির বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কি না—সেদিকে ইসরায়েল কড়া নজর রাখছে। চরমপন্থি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য বিস্তার রুখতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও ব্রিফিংয়ের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কার্যক্রম চলছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকেই ইসরায়েল এই দুই দেশের তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে উগ্রবাদী আদর্শ ও প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই দাবি করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে (NDTV) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
বুধবার এনডিটিভির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এডিটর আদিত্য রাজ কৌলকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রিউভেন আজার আঞ্চলিক কূটনীতি ও উগ্রবাদ দমনে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকারে হামাস প্রসঙ্গে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামলার পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে সংগঠনটির তৎপরতার দিকে নজর রাখছে তেল আবিব। তিনি বলেন: "আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম নিয়মিত অনুসরণ করে আসছি। এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এলেও আরও বেশ কিছু গোপন কার্যক্রম থাকতে পারে, যা এখনো জনসমক্ষে আসেনি।"
আজার সতর্ক করে বলেন, উগ্রবাদী সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরের হামলাকে বিশ্বের অন্যত্র একই ধরনের অভিযান পরিচালনার একটি 'সফল মডেল' হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এ ধরনের প্রবণতা দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত। পাশাপাশি এই নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সেতুবন্ধন বা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে আজার স্পষ্ট জানান, পাকিস্তানের ওপর ইসরায়েলের কোনো আস্থা নেই এবং দেশটির এই অবস্থানকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারের ভূমিকারও সমালোচনা করে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত বলেন, “কিছু দেশ মনে করে শান্তি মানে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকবে না।” তাঁর মতে, শান্তি সম্পর্কে ইসরায়েলের যে নিজস্ব ধারণা, তা এই পক্ষগুলোর ধারণা থেকে মৌলিকভাবে আলাদা।
রাষ্ট্রদূত আজার অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কিছু অংশ এবং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্তব্য সরাসরি ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্যকে উৎসাহিত করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইসলামাবাদের প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করে।
ইরানকে ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমঝোতার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ ও হুমকির বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কি না—সেদিকে ইসরায়েল কড়া নজর রাখছে। চরমপন্থি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য বিস্তার রুখতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও ব্রিফিংয়ের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন