ইসরায়েলের সাথে লেবানন সরকারের প্রস্তাবিত বহুল আলোচিত নিরাপত্তা চুক্তিটি সাফ প্রত্যাখ্যান করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৈরুতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই চুক্তি নিয়ে যখন চূড়ান্ত দরকষাকষি চলছিল, ঠিক তখনই হিজবুল্লাহর এই কঠোর অবস্থান পুরো প্রক্রিয়াটিকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিল। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে এবং ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষা করে এমন কোনো শর্ত তারা মেনে নেবে না।
শনিবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দলটির নীতিনির্ধারকদের দাবি, এই চুক্তি লেবাননের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি। বিশেষ করে চুক্তিতে সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রমের ওপর যে ধরনের বিধিনিষেধের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান আসবে। তবে হিজবুল্লাহর এই অনমনীয় অবস্থানের পর লেবানন সরকারের পক্ষে চুক্তিটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামরিক ভারসাম্যে হিজবুল্লাহর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা এই অচলাবস্থা নিরসনে পর্দার আড়ালে নতুন করে তৎপরতা শুরু করলেও, দুই পক্ষের চরম বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে আপাতত কোনো সমঝোতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্ত সংঘাতের অবসান ঘটাতে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যস্থতায় একটি নিরাপত্তা চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ব্লু লাইন বা জাতিসংঘ নির্ধারিত সীমান্ত রেখা বরাবর স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং বাফার জোন থেকে সশস্ত্র উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়া। তবে হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই একে ইসরায়েলের একতরফা সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখে আসছে এবং এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
ইসরায়েলের সাথে লেবানন সরকারের প্রস্তাবিত বহুল আলোচিত নিরাপত্তা চুক্তিটি সাফ প্রত্যাখ্যান করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৈরুতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই চুক্তি নিয়ে যখন চূড়ান্ত দরকষাকষি চলছিল, ঠিক তখনই হিজবুল্লাহর এই কঠোর অবস্থান পুরো প্রক্রিয়াটিকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিল। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে এবং ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষা করে এমন কোনো শর্ত তারা মেনে নেবে না।
শনিবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দলটির নীতিনির্ধারকদের দাবি, এই চুক্তি লেবাননের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি। বিশেষ করে চুক্তিতে সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রমের ওপর যে ধরনের বিধিনিষেধের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান আসবে। তবে হিজবুল্লাহর এই অনমনীয় অবস্থানের পর লেবানন সরকারের পক্ষে চুক্তিটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামরিক ভারসাম্যে হিজবুল্লাহর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা এই অচলাবস্থা নিরসনে পর্দার আড়ালে নতুন করে তৎপরতা শুরু করলেও, দুই পক্ষের চরম বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে আপাতত কোনো সমঝোতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্ত সংঘাতের অবসান ঘটাতে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যস্থতায় একটি নিরাপত্তা চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ব্লু লাইন বা জাতিসংঘ নির্ধারিত সীমান্ত রেখা বরাবর স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং বাফার জোন থেকে সশস্ত্র উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়া। তবে হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই একে ইসরায়েলের একতরফা সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখে আসছে এবং এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন