বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের শিকার তৃণমূলের ছিন্নমূল নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে আগামী বাজেটে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গ্রামের হাজার হাজার দরিদ্র ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যাদের অনেকেই এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। রাষ্ট্রের মানবিক দায়িত্ব হিসেবে এই তৃণমূলের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।
রোববার সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্পূর্ণ বাস্তবমুখী, জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বাজেট কোনো অবাস্তব ‘দিবাস্বপ্ন’ নয়, বরং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের একটি সাহসী রূপরেখা। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাসকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি পাড়ি দিয়ে এই প্রগতিশীল বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।
বাজেটের বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগের প্রশংসা করে শামা ওবায়েদ জানান, এটি কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং সরকারের একটি মানবিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এই বাজেটে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ২৫ লাখের বেশি প্রান্তিক চাষিকে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ চালু, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, এবং নারীদের জন্য বিশেষ ‘পিংক বাস’ চালুর মতো আধুনিক ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপগুলো দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চেহারাই বদলে দেবে।
বাজার থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার বিষয়ে বিরোধী শিবিরের সমালোচনার কড়া জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি যুক্তি দেখান, এই ঋণ কোনো বিলাসবহুল বা ভোগনির্ভর খাতে ব্যয় হচ্ছে না, বরং উৎপাদন ও বাজার স্থিতিশীল রাখার কৌশলগত বিনিয়োগে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি ঋণের পরিমাণ জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত টেকসই পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন। একই সাথে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ‘জুলাইযোদ্ধাদের’ কল্যাণে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখায় অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটকে রাষ্ট্র সংস্কার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে বর্তমান সরকার। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এই বাজেটে একদিকে যেমন আর্থিক খাতের বড় ধরনের সংস্কার ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নানা সুযোগ-সুবিধা বিস্তারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নির্যাতনের শিকার তৃণমূলের ছিন্নমূল নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে আগামী বাজেটে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গ্রামের হাজার হাজার দরিদ্র ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যাদের অনেকেই এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। রাষ্ট্রের মানবিক দায়িত্ব হিসেবে এই তৃণমূলের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।
রোববার সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্পূর্ণ বাস্তবমুখী, জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বাজেট কোনো অবাস্তব ‘দিবাস্বপ্ন’ নয়, বরং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের একটি সাহসী রূপরেখা। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাসকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি পাড়ি দিয়ে এই প্রগতিশীল বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।
বাজেটের বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগের প্রশংসা করে শামা ওবায়েদ জানান, এটি কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং সরকারের একটি মানবিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এই বাজেটে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ২৫ লাখের বেশি প্রান্তিক চাষিকে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ চালু, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, এবং নারীদের জন্য বিশেষ ‘পিংক বাস’ চালুর মতো আধুনিক ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপগুলো দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চেহারাই বদলে দেবে।
বাজার থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার বিষয়ে বিরোধী শিবিরের সমালোচনার কড়া জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি যুক্তি দেখান, এই ঋণ কোনো বিলাসবহুল বা ভোগনির্ভর খাতে ব্যয় হচ্ছে না, বরং উৎপাদন ও বাজার স্থিতিশীল রাখার কৌশলগত বিনিয়োগে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি ঋণের পরিমাণ জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত টেকসই পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন। একই সাথে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ‘জুলাইযোদ্ধাদের’ কল্যাণে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখায় অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটকে রাষ্ট্র সংস্কার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে বর্তমান সরকার। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এই বাজেটে একদিকে যেমন আর্থিক খাতের বড় ধরনের সংস্কার ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নানা সুযোগ-সুবিধা বিস্তারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন