দিকপাল

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয় মৃতের সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ | ০১:১৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয় মৃতের সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো চাপা পড়ে আছেন হাজার হাজার মানুষ, ফলে সময়ের সাথে সাথে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। দেশটির জাতীয় সংসদের সভাপতির দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ২৩৮ জন। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে। ফলে নিখোঁজদের জীবিত পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। এদিকে উদ্ধারকাজে গতি আনতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে যাতায়াতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন। তবে সরকারি উদ্ধার তৎপরতায় ধীরগতির কারণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনদের খোঁজার চেষ্টা করছেন।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে আকাশচুম্বী। প্রাথমিকভাবে সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই চরম সংকটের মধ্যেই শনিবার আরাগুয়া রাজ্যে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, যা স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে নতুন এই কম্পনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির প্রায় সাড়ে ৬৭ লাখ মানুষ এই দুর্যোগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শিকার হতে পারেন। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রাণভয়ে মানুষ যেভাবে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন, তাতে দেশটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভয়াবহ এই কম্পনে দেশটির উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইতোমধ্যেই ওই এলাকাকে উপদ্রুত বা দুর্যোগকবলিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় এবং বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থান শনাক্ত করতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয় মৃতের সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো চাপা পড়ে আছেন হাজার হাজার মানুষ, ফলে সময়ের সাথে সাথে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। দেশটির জাতীয় সংসদের সভাপতির দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ২৩৮ জন। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে। ফলে নিখোঁজদের জীবিত পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। এদিকে উদ্ধারকাজে গতি আনতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে যাতায়াতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন। তবে সরকারি উদ্ধার তৎপরতায় ধীরগতির কারণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনদের খোঁজার চেষ্টা করছেন।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে আকাশচুম্বী। প্রাথমিকভাবে সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই চরম সংকটের মধ্যেই শনিবার আরাগুয়া রাজ্যে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, যা স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে নতুন এই কম্পনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির প্রায় সাড়ে ৬৭ লাখ মানুষ এই দুর্যোগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শিকার হতে পারেন। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রাণভয়ে মানুষ যেভাবে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন, তাতে দেশটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভয়াবহ এই কম্পনে দেশটির উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইতোমধ্যেই ওই এলাকাকে উপদ্রুত বা দুর্যোগকবলিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় এবং বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থান শনাক্ত করতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল