দিকপাল

কুড়িগ্রামে বন্যার আশঙ্কা, ঊর্ধ্বমুখী নদ-নদীর পানি


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ | ০৮:০৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামে বন্যার আশঙ্কা, ঊর্ধ্বমুখী নদ-নদীর পানি

কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। উজানের পাহাড়ি ঢল আর ভারী বর্ষণের ফলে গত কয়েক দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বাড়ছে। যদিও এখন পর্যন্ত নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে, কিন্তু বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে খুব দ্রুতই পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠতে পারে। নদ-নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার প্রবল শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


গত তিন দিন ধরে উজান থেকে আসা ঢলে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বুধবার সকালের হিসাব অনুযায়ী, দুধকুমার নদের পানি সামান্য কমলেও ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানির এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোর হাজারো মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটছে নদীপারের মানুষের।


পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নদ-নদীগুলোর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার অন্তত ৩৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি আর চাষাবাদের জমি হারানোর ভয়ে নদীপাড়ের মানুষের নির্ঘুম রাত কাটছে। অনেক পরিবার ইতিমধ্যে তাদের ভিটেমাটি সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নদ-নদীর অববাহিকার অনেক পাটক্ষেত এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে। পানি যদি দীর্ঘ সময় জমে থাকে, তবে পাটচাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা মাওলানা মাহাবুবার রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদের পানি বাড়ছে। পানির তীব্র স্রোতে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। হুমকিতে থাকা পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, এই এলাকাটি কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভাঙছে, কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। একই ধরনের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমিনা বেগম। তার ভাষ্যমতে, নদী একেবারে বাড়ির কাছে চলে আসায় নিরুপায় হয়ে ভিটেমাটি সরাতে হচ্ছে। সহায়-সম্বলহীন এই মানুষগুলোর সামনে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।


কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে আগামী তিন দিন নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে ভাঙন রোধে প্রায় ২৫টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। তবে সরকারি নিয়ম বা অনুমতির সীমাবদ্ধতার কারণে সব ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


কুড়িগ্রামে বন্যার আশঙ্কা, ঊর্ধ্বমুখী নদ-নদীর পানি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। উজানের পাহাড়ি ঢল আর ভারী বর্ষণের ফলে গত কয়েক দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বাড়ছে। যদিও এখন পর্যন্ত নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে, কিন্তু বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে খুব দ্রুতই পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠতে পারে। নদ-নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার প্রবল শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


গত তিন দিন ধরে উজান থেকে আসা ঢলে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বুধবার সকালের হিসাব অনুযায়ী, দুধকুমার নদের পানি সামান্য কমলেও ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানির এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোর হাজারো মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটছে নদীপারের মানুষের।


পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নদ-নদীগুলোর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার অন্তত ৩৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি আর চাষাবাদের জমি হারানোর ভয়ে নদীপাড়ের মানুষের নির্ঘুম রাত কাটছে। অনেক পরিবার ইতিমধ্যে তাদের ভিটেমাটি সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নদ-নদীর অববাহিকার অনেক পাটক্ষেত এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে। পানি যদি দীর্ঘ সময় জমে থাকে, তবে পাটচাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা মাওলানা মাহাবুবার রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদের পানি বাড়ছে। পানির তীব্র স্রোতে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। হুমকিতে থাকা পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, এই এলাকাটি কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভাঙছে, কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। একই ধরনের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমিনা বেগম। তার ভাষ্যমতে, নদী একেবারে বাড়ির কাছে চলে আসায় নিরুপায় হয়ে ভিটেমাটি সরাতে হচ্ছে। সহায়-সম্বলহীন এই মানুষগুলোর সামনে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।


কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে আগামী তিন দিন নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে ভাঙন রোধে প্রায় ২৫টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। তবে সরকারি নিয়ম বা অনুমতির সীমাবদ্ধতার কারণে সব ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল