দিকপাল

নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ | ১০:২২ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত

নিউইয়র্ক টাইমসের দুই অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ানের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ’ বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, যা মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের অভ্যন্তরীণ নানা সংবেদনশীল ঘটনা এবং গোপন আলোচনার খুঁটিনাটি উঠে এসেছে এই বইটিতে। বিশেষ করে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং গাজা যুদ্ধকালীন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে তাদের উত্তপ্ত কথোপকথন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।


বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গাজা সংঘাত নিরসনে ট্রাম্প একটি শান্তি পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে বেশ কঠোর বাদানুবাদ হয়। সেই ফোনালাপে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং শান্তি দূত স্টিভ উইটকফ উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, বিশ্বের সব ইহুদিই তার ওপর বিরক্ত। মূলত ওই ফোনালাপে উপস্থিত কুশনার এবং উইটকফ, যারা দুজনই ইহুদি ধর্মাবলম্বী, তাদের দিকে ইঙ্গিত করেই ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প ওই কথোপকথনে নেতানিয়াহুকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন যে, সবাই তাকে ঘৃণা করলেও ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাই এখন পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।


এই শান্তি পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটও বেশ নাটকীয়। কাতারে হামাসের একটি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের বিমান হামলার সময় কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় জ্যারেড কুশনার ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং তিনি তার সহযোগীদের কাছে মন্তব্য করেছিলেন যে, ইসরায়েলিরা তাদের ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছে। তবে পরবর্তীতে এই সংকটময় পরিস্থিতিকেই গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন কুশনার। তিনি শান্তি পরিকল্পনার একটি খসড়া তৈরি করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন। অবশেষে দীর্ঘ আলোচনার পর ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সেই শান্তি পরিকল্পনার ঘোষণা দেন, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থনও পায়।


বইটিতে কেবল গাজা যুদ্ধ নয়, বরং ইরান ইস্যুসহ আরও অনেক সংবেদনশীল আলোচনার বর্ণনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলার আগে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যকার গোপন আলোচনার কথাও এতে স্থান পেয়েছে। সেখানে নেতানিয়াহু ইরানে সরকার পরিবর্তনের জোর দাবি জানালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার এই ধারণাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে এমন সব গোপন আলোচনার তথ্য জনসমক্ষে আসায় হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প নিজে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। পুরো বইটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার জটিল সম্পর্কের এক স্বচ্ছ প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

নিউইয়র্ক টাইমসের দুই অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ানের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ’ বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, যা মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের অভ্যন্তরীণ নানা সংবেদনশীল ঘটনা এবং গোপন আলোচনার খুঁটিনাটি উঠে এসেছে এই বইটিতে। বিশেষ করে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং গাজা যুদ্ধকালীন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে তাদের উত্তপ্ত কথোপকথন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।


বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গাজা সংঘাত নিরসনে ট্রাম্প একটি শান্তি পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে বেশ কঠোর বাদানুবাদ হয়। সেই ফোনালাপে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং শান্তি দূত স্টিভ উইটকফ উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, বিশ্বের সব ইহুদিই তার ওপর বিরক্ত। মূলত ওই ফোনালাপে উপস্থিত কুশনার এবং উইটকফ, যারা দুজনই ইহুদি ধর্মাবলম্বী, তাদের দিকে ইঙ্গিত করেই ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প ওই কথোপকথনে নেতানিয়াহুকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন যে, সবাই তাকে ঘৃণা করলেও ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাই এখন পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।


এই শান্তি পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটও বেশ নাটকীয়। কাতারে হামাসের একটি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের বিমান হামলার সময় কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় জ্যারেড কুশনার ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং তিনি তার সহযোগীদের কাছে মন্তব্য করেছিলেন যে, ইসরায়েলিরা তাদের ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছে। তবে পরবর্তীতে এই সংকটময় পরিস্থিতিকেই গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন কুশনার। তিনি শান্তি পরিকল্পনার একটি খসড়া তৈরি করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন। অবশেষে দীর্ঘ আলোচনার পর ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সেই শান্তি পরিকল্পনার ঘোষণা দেন, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থনও পায়।


বইটিতে কেবল গাজা যুদ্ধ নয়, বরং ইরান ইস্যুসহ আরও অনেক সংবেদনশীল আলোচনার বর্ণনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলার আগে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যকার গোপন আলোচনার কথাও এতে স্থান পেয়েছে। সেখানে নেতানিয়াহু ইরানে সরকার পরিবর্তনের জোর দাবি জানালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার এই ধারণাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে এমন সব গোপন আলোচনার তথ্য জনসমক্ষে আসায় হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প নিজে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। পুরো বইটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার জটিল সম্পর্কের এক স্বচ্ছ প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল