দেশজুড়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবগঠিত এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সটি মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন সেবামূলক ও প্রশাসনিক সংস্থার কার্যক্রমের সরাসরি তদারকি করবে, পারস্পরিক কাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুদায়িত্ব পালন করবে।
সচিবালয়ে অবস্থিত স্থানীয় সরকার বিভাগের মূল সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী সভায় এই সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। জাতীয় কমিটির এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। সভায় উপস্থিত থেকে তিনি দেশের সামগ্রিক মশা পরিস্থিতি এবং তা প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্থার প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
উদ্বোধনী ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে সমবায়মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া অসম্ভব, তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে একটি সুনির্দিষ্ট চেইনের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে মাঠে নামতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডেঙ্গু মোকাবিলা করা কেবল এককভাবে সরকারি কোনো দপ্তরের দায়িত্ব বা উদ্যোগের বিষয় নয়, বরং এর জন্য সাধারণ জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা এবং সরাসরি সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি জরুরি। মন্ত্রী তার বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আরও বেশি তৎপর ও জনমুখী হয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা দেন।
জাতীয় কমিটির এই প্রথম সভা থেকে ডেঙ্গু এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগ চিরতরে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হলো, সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক হারে লিফলেট ও তথ্যবহুল প্রচারপত্র বিলি করা হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এই লড়াইয়ে শামিল করতে দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এক ছাতার নিচে এনে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নিবিড় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার বিষয়েও সভায় একমত প্রকাশ করা হয়।
একই সাথে মশক নিধন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ফগার মেশিন এবং লার্ভা মারার ওষুধের কার্যকারিতা ও গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা ও কঠোরভাবে তদারকি করার জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে তা ধ্বংস করতে নিয়মিত চিরুনি অভিযান চালানো হবে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের নির্মাণাধীন ভবন, বহুতল ভবনের ছাদবাগান, টায়ারের দোকান, গাড়ির গ্যারেজ এবং যেসব নিচু এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে, সেসব স্থানে নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি বাড়ানো হবে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে আরও আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল প্রচারণার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রযুক্তিগত ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, যে সমস্ত এলাকায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেগুলো মানচিত্রে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনিটরিং বা তদারকি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ডেটা বা তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পটগুলো আলাদা করা হবে, যাতে সেখানে আগেভাগেই চিকিৎসার পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করা যায়।
সভায় অংশ নেওয়া জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন যে, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির চমত্কার পরিবেশ তৈরি হয়, যার ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ মহামারি রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এই কারণেই এখন থেকেই সব ধরনের জোরালো ও সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। জাতীয় কমিটির গৃহীত এই সমস্ত সিদ্ধান্ত যেন শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মাঠ পর্যায়ে যেন এর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কাজের গতি বাড়ে, তার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়। এই উচ্চপর্যায়ের সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশনের শীর্ষ প্রতিনিধি ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসা, এলজিইডি, ডিপিএইচই, রাজউক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন আমলা ও গবেষকেরা উপস্থিত থেকে তাদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
দেশজুড়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবগঠিত এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সটি মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন সেবামূলক ও প্রশাসনিক সংস্থার কার্যক্রমের সরাসরি তদারকি করবে, পারস্পরিক কাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুদায়িত্ব পালন করবে।
সচিবালয়ে অবস্থিত স্থানীয় সরকার বিভাগের মূল সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী সভায় এই সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। জাতীয় কমিটির এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। সভায় উপস্থিত থেকে তিনি দেশের সামগ্রিক মশা পরিস্থিতি এবং তা প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্থার প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
উদ্বোধনী ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে সমবায়মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া অসম্ভব, তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে একটি সুনির্দিষ্ট চেইনের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে মাঠে নামতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডেঙ্গু মোকাবিলা করা কেবল এককভাবে সরকারি কোনো দপ্তরের দায়িত্ব বা উদ্যোগের বিষয় নয়, বরং এর জন্য সাধারণ জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা এবং সরাসরি সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি জরুরি। মন্ত্রী তার বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আরও বেশি তৎপর ও জনমুখী হয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা দেন।
জাতীয় কমিটির এই প্রথম সভা থেকে ডেঙ্গু এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগ চিরতরে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হলো, সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক হারে লিফলেট ও তথ্যবহুল প্রচারপত্র বিলি করা হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এই লড়াইয়ে শামিল করতে দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এক ছাতার নিচে এনে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নিবিড় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার বিষয়েও সভায় একমত প্রকাশ করা হয়।
একই সাথে মশক নিধন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ফগার মেশিন এবং লার্ভা মারার ওষুধের কার্যকারিতা ও গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা ও কঠোরভাবে তদারকি করার জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে তা ধ্বংস করতে নিয়মিত চিরুনি অভিযান চালানো হবে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের নির্মাণাধীন ভবন, বহুতল ভবনের ছাদবাগান, টায়ারের দোকান, গাড়ির গ্যারেজ এবং যেসব নিচু এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে, সেসব স্থানে নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি বাড়ানো হবে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে আরও আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল প্রচারণার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রযুক্তিগত ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, যে সমস্ত এলাকায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেগুলো মানচিত্রে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনিটরিং বা তদারকি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ডেটা বা তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পটগুলো আলাদা করা হবে, যাতে সেখানে আগেভাগেই চিকিৎসার পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও জনবল নিশ্চিত করা যায়।
সভায় অংশ নেওয়া জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন যে, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির চমত্কার পরিবেশ তৈরি হয়, যার ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ মহামারি রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এই কারণেই এখন থেকেই সব ধরনের জোরালো ও সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। জাতীয় কমিটির গৃহীত এই সমস্ত সিদ্ধান্ত যেন শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মাঠ পর্যায়ে যেন এর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কাজের গতি বাড়ে, তার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়। এই উচ্চপর্যায়ের সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশনের শীর্ষ প্রতিনিধি ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসা, এলজিইডি, ডিপিএইচই, রাজউক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন আমলা ও গবেষকেরা উপস্থিত থেকে তাদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন।

আপনার মতামত লিখুন