দিকপাল

ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ | ১০:৪৮ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অতীতের ইস্তাম্বুল ও অ্যাঙ্কোরেজ সমঝোতার বিষয়গুলো এবং বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে যে নতুন বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে মস্কো কিয়েভের সাথে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন এই আলোচনার টেবিলে নিজেদের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে এবং কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে ইউক্রেন নিয়মিতভাবে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পুতিন এই মন্তব্য করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকেই একসময় আলোচনার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তার ভাষ্যমতে, রাশিয়া শান্তি আলোচনার জন্য সবসময়ই আগ্রহী ছিল এবং এখনো আছে। ইস্তাম্বুলে অর্জিত সমঝোতা এবং পরবর্তী সময়ে অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত বিষয়গুলো আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে, তবে আলোচনার প্রতিটি ধাপে বর্তমান সময়ের কঠোর বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। তার মতে, আলোচনার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইউক্রেন সামরিক চাপ বাড়ানোর কৌশল বেছে নিয়েছে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে।

উল্লেখ্য যে, গত বছর ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কয়েক দফা গুরুত্বপূর্ণ শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মে, জুন ও জুলাই মাসে হওয়া ওই বৈঠকগুলোর পর দুই পক্ষের মধ্যে সফলভাবে বন্দি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে এবং একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খসড়া স্মারকও তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে আয়োজিত এক বৈঠকে একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়, যা ক্রমাগত সংশোধনের মাধ্যমে বিশ দফায় রূপান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘদিনের অচলবস্থার মূল কারণ হলো, ইউক্রেন তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের কোনো অংশ ছাড় দিতে বা রাশিয়ার শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আবুধাবি ও জেনেভায় আরও কয়েক দফা আলোচনা হয়েছিল। তবে সেই প্রক্রিয়ার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় ইউক্রেন ইস্যুটি গুরুত্বের দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে যায় এবং আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর আগে ২০২২ সালের শুরুর দিকে ইস্তাম্বুলে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একটি খসড়া শান্তিচুক্তির বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেছিলেন, যা যুদ্ধ অবসানের জন্য সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। বর্তমানে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার এই ইঙ্গিত বিশ্ব রাজনীতিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ দুটির সম্পর্ক এবং ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অতীতের ইস্তাম্বুল ও অ্যাঙ্কোরেজ সমঝোতার বিষয়গুলো এবং বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে যে নতুন বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে মস্কো কিয়েভের সাথে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন এই আলোচনার টেবিলে নিজেদের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে এবং কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে ইউক্রেন নিয়মিতভাবে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পুতিন এই মন্তব্য করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকেই একসময় আলোচনার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তার ভাষ্যমতে, রাশিয়া শান্তি আলোচনার জন্য সবসময়ই আগ্রহী ছিল এবং এখনো আছে। ইস্তাম্বুলে অর্জিত সমঝোতা এবং পরবর্তী সময়ে অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত বিষয়গুলো আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে, তবে আলোচনার প্রতিটি ধাপে বর্তমান সময়ের কঠোর বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। তার মতে, আলোচনার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইউক্রেন সামরিক চাপ বাড়ানোর কৌশল বেছে নিয়েছে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে।

উল্লেখ্য যে, গত বছর ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কয়েক দফা গুরুত্বপূর্ণ শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মে, জুন ও জুলাই মাসে হওয়া ওই বৈঠকগুলোর পর দুই পক্ষের মধ্যে সফলভাবে বন্দি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে এবং একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খসড়া স্মারকও তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে আয়োজিত এক বৈঠকে একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়, যা ক্রমাগত সংশোধনের মাধ্যমে বিশ দফায় রূপান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘদিনের অচলবস্থার মূল কারণ হলো, ইউক্রেন তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের কোনো অংশ ছাড় দিতে বা রাশিয়ার শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আবুধাবি ও জেনেভায় আরও কয়েক দফা আলোচনা হয়েছিল। তবে সেই প্রক্রিয়ার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় ইউক্রেন ইস্যুটি গুরুত্বের দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে যায় এবং আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর আগে ২০২২ সালের শুরুর দিকে ইস্তাম্বুলে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একটি খসড়া শান্তিচুক্তির বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেছিলেন, যা যুদ্ধ অবসানের জন্য সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। বর্তমানে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার এই ইঙ্গিত বিশ্ব রাজনীতিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ দুটির সম্পর্ক এবং ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল