রংপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রংপুর নগরী। মঙ্গলবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে নগরীর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ শুরু করলে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে। প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের কারণে রংপুরের সাথে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়ের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে রাত পৌনে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সন্ধ্যায়। নগরীর ডেন্টাল রোড এলাকায় অবস্থিত নর্থ ভিউ হোটেলের দশতলার ছাদ থেকে পড়ে নুসরাত জাহান নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ওই শিক্ষার্থী রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের পিতা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনসহ চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিন নিহত শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি পড়ানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে এবং পুরো ঘটনা নিয়ে কথা বলতে যখন তিনি ডিবি অফিসে গিয়েছিলেন, তখন তাকে আটক করা হয়। এরপর নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ডেকে এনে মামলার এজাহার অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা এই গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি প্রেমঘটিত বলে প্রচার করা হলেও এর পেছনে প্রকৃত কারণ বা প্রমাণের কোনো বালাই নেই। শিক্ষার্থী কবির বলেন, কেবল একটি এজহারের ভিত্তিতে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীকে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া অমানবিক। কোনো প্রমাণ ছাড়া এভাবে গ্রেপ্তার কেন করা হলো এবং কেনই বা তাদের বিষয়টি জানানো হলো না, তা নিয়ে তারা পুলিশের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছেন। শিক্ষার্থীরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় বসেছিলেন এবং ঘটনার স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ক্রাইম মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, নর্থ ভিউ হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার সাথে শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনের সম্পৃক্ততার তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
রংপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রংপুর নগরী। মঙ্গলবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে নগরীর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ শুরু করলে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে। প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের কারণে রংপুরের সাথে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়ের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে রাত পৌনে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সন্ধ্যায়। নগরীর ডেন্টাল রোড এলাকায় অবস্থিত নর্থ ভিউ হোটেলের দশতলার ছাদ থেকে পড়ে নুসরাত জাহান নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ওই শিক্ষার্থী রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের পিতা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনসহ চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিন নিহত শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি পড়ানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে এবং পুরো ঘটনা নিয়ে কথা বলতে যখন তিনি ডিবি অফিসে গিয়েছিলেন, তখন তাকে আটক করা হয়। এরপর নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ডেকে এনে মামলার এজাহার অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা এই গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি প্রেমঘটিত বলে প্রচার করা হলেও এর পেছনে প্রকৃত কারণ বা প্রমাণের কোনো বালাই নেই। শিক্ষার্থী কবির বলেন, কেবল একটি এজহারের ভিত্তিতে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীকে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া অমানবিক। কোনো প্রমাণ ছাড়া এভাবে গ্রেপ্তার কেন করা হলো এবং কেনই বা তাদের বিষয়টি জানানো হলো না, তা নিয়ে তারা পুলিশের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছেন। শিক্ষার্থীরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় বসেছিলেন এবং ঘটনার স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ক্রাইম মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, নর্থ ভিউ হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার সাথে শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনের সম্পৃক্ততার তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন