দেশের ঐতিহ্যবাহী কৃষিখাতকে আরও বেশি যুগোপযোগী, আধুনিক ও লাভজনক একটি খাতে রূপান্তর করতে বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার, উচ্চতর গবেষণা কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন-উর-রশীদ। তিনি অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বে কৃষি এখন আর কেবল সনাতন পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়; বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি সচল রাখা, গ্রামীণ ও শহুরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
শনিবার বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগরে আয়োজিত একটি বিশেষ কৃষি বিষয়ক কর্মশালা ও সেমিনারে রাজধানী থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত বা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। কৃষিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কৃষিখাতের আমূল পরিবর্তন ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য যে নতুন ও যুগান্তকারী চিন্তাভাবনা এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও উদ্যোক্তাদেরও একযোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার, তথাকথিত স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা, উচ্চফলনশীল ও উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই চমৎকার ও সময়োপযোগী কর্মশালা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের ভূয়সী প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের জীবনমুখী কর্মশালা এবং সেমিনার প্রান্তিক ও নতুন কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে দেশের দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শিক্ষিত ও তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষিখাতে আরও বেশি হারে সম্পৃক্ত হওয়ার এবং নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
উক্ত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন ইফদা লিমিটেড কোম্পানি ও ইফাদা এগ্রোর সম্মানিত পরিচালক এইচ এম আমজাদ হোসেন, জাপান প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক সাজ্জাত হোসেন সজিব, দস্তগীরে রাসেল, রুহুল আমিন এবং শরিফ খান ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম। এছাড়া অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন রবিউল আউয়াল টিপু, মাহবুবুর রহমান ইমরান, সাইফুল ইসলাম, আলী জাফর, লেডিস কালেকশনের সফল মালিক সাইফুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, ওবায়দুল্লাহ এবং আমিনুলসহ স্থানীয় এলাকার আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী কর্মশালায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রায় একশত বিশ জন নবীন ও অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা অংশ নেন। তারা মূলত জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আধুনিক ও সাশ্রয়ী কৃষি প্রযুক্তির বাস্তবমুখী ব্যবহার এবং কৃষিভিত্তিক নতুন ব্যবসার অপার সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। সেমিনারের শেষভাগে অংশগ্রহণকারী সকল উদ্যোক্তা দেশের কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই করতে ভবিষ্যতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
দেশের ঐতিহ্যবাহী কৃষিখাতকে আরও বেশি যুগোপযোগী, আধুনিক ও লাভজনক একটি খাতে রূপান্তর করতে বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার, উচ্চতর গবেষণা কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন-উর-রশীদ। তিনি অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বে কৃষি এখন আর কেবল সনাতন পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়; বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি সচল রাখা, গ্রামীণ ও শহুরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
শনিবার বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগরে আয়োজিত একটি বিশেষ কৃষি বিষয়ক কর্মশালা ও সেমিনারে রাজধানী থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত বা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। কৃষিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কৃষিখাতের আমূল পরিবর্তন ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য যে নতুন ও যুগান্তকারী চিন্তাভাবনা এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও উদ্যোক্তাদেরও একযোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার, তথাকথিত স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা, উচ্চফলনশীল ও উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই চমৎকার ও সময়োপযোগী কর্মশালা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের ভূয়সী প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের জীবনমুখী কর্মশালা এবং সেমিনার প্রান্তিক ও নতুন কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে দেশের দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শিক্ষিত ও তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষিখাতে আরও বেশি হারে সম্পৃক্ত হওয়ার এবং নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
উক্ত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন ইফদা লিমিটেড কোম্পানি ও ইফাদা এগ্রোর সম্মানিত পরিচালক এইচ এম আমজাদ হোসেন, জাপান প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক সাজ্জাত হোসেন সজিব, দস্তগীরে রাসেল, রুহুল আমিন এবং শরিফ খান ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম। এছাড়া অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন রবিউল আউয়াল টিপু, মাহবুবুর রহমান ইমরান, সাইফুল ইসলাম, আলী জাফর, লেডিস কালেকশনের সফল মালিক সাইফুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, ওবায়দুল্লাহ এবং আমিনুলসহ স্থানীয় এলাকার আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী কর্মশালায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রায় একশত বিশ জন নবীন ও অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা অংশ নেন। তারা মূলত জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আধুনিক ও সাশ্রয়ী কৃষি প্রযুক্তির বাস্তবমুখী ব্যবহার এবং কৃষিভিত্তিক নতুন ব্যবসার অপার সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। সেমিনারের শেষভাগে অংশগ্রহণকারী সকল উদ্যোক্তা দেশের কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই করতে ভবিষ্যতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন