দিকপাল

জ্বালানিসংকটেও কৃষি খাতে নতুন বিপ্লব!


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ | ১১:৪১ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানিসংকটেও কৃষি খাতে নতুন বিপ্লব!

জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি আর তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়েছে দেশের কৃষি খাতে। বিশেষ করে সেচ নির্ভর বোরো মৌসুমে তেলের চড়া দাম আর সংকটের মুখে পড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা যখন দিশাহারা, ঠিক তখনই বিকল্প শক্তির উৎস হিসেবে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌরচালিত সেচ পাম্প। জেলার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ জুড়ে এখন রূপালী সোলার প্যানেলের নিচে পানি সেচের এক নতুন দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে, যা একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনছে, তেমনি সুরক্ষিত রাখছে প্রাকৃতিক পরিবেশকেও। চলতি মৌসুমে কেবল এই সোলার প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় মোট ৬২ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে ২৯১টি সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যার সুবিধা নিচ্ছেন প্রায় ৩৫ হাজার কৃষক। এই উদ্যোগের ফলে এক মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ লিটার ডিজেল ও সমপরিমাণ বিদ্যুতের ব্যবহার সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে, যা কেবল অর্থনৈতিকভাবেই লাভজনক নয়, বরং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষির পথ প্রশস্ত করছে।

এই কৃষি বিপ্লবের পেছনে নেপথ্যের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী গ্রামের উদ্ভাবক মো. সলেমান আলী। ১৯৯৬ সাল থেকে সৌরশক্তি নিয়ে গবেষণার পর দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ২০১৪ সালে তিনি ব্যাটারিবিহীন সোলার সেচ পাম্প তৈরি করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দেন। বর্তমানে তাঁর তৈরি করা ২৬টি পাম্প দিয়ে ৫০০ জন কৃষক প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে অর্ধেক খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, যেখানে ডিজেলচালিত পাম্পে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে সৌর পাম্পে তা মাত্র আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের এই সফল মডেল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন মুন্সিগঞ্জসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই প্রযুক্তি নিতে ছুটে আসছেন। কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সারা দেশে সরকারি উদ্যোগে সহজ শর্তে ও স্বল্পমূল্যে এই সোলার প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের বিশাল অংকের ব্যয় ও নির্ভরশীলতা দুই-ই কমবে। ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে এই সৌর পাম্প কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে এবং এর সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


জ্বালানিসংকটেও কৃষি খাতে নতুন বিপ্লব!

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি আর তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়েছে দেশের কৃষি খাতে। বিশেষ করে সেচ নির্ভর বোরো মৌসুমে তেলের চড়া দাম আর সংকটের মুখে পড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা যখন দিশাহারা, ঠিক তখনই বিকল্প শক্তির উৎস হিসেবে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌরচালিত সেচ পাম্প। জেলার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ জুড়ে এখন রূপালী সোলার প্যানেলের নিচে পানি সেচের এক নতুন দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে, যা একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনছে, তেমনি সুরক্ষিত রাখছে প্রাকৃতিক পরিবেশকেও। চলতি মৌসুমে কেবল এই সোলার প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় মোট ৬২ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে ২৯১টি সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যার সুবিধা নিচ্ছেন প্রায় ৩৫ হাজার কৃষক। এই উদ্যোগের ফলে এক মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ লিটার ডিজেল ও সমপরিমাণ বিদ্যুতের ব্যবহার সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে, যা কেবল অর্থনৈতিকভাবেই লাভজনক নয়, বরং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষির পথ প্রশস্ত করছে।

এই কৃষি বিপ্লবের পেছনে নেপথ্যের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী গ্রামের উদ্ভাবক মো. সলেমান আলী। ১৯৯৬ সাল থেকে সৌরশক্তি নিয়ে গবেষণার পর দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ২০১৪ সালে তিনি ব্যাটারিবিহীন সোলার সেচ পাম্প তৈরি করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দেন। বর্তমানে তাঁর তৈরি করা ২৬টি পাম্প দিয়ে ৫০০ জন কৃষক প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে অর্ধেক খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, যেখানে ডিজেলচালিত পাম্পে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে সৌর পাম্পে তা মাত্র আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের এই সফল মডেল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন মুন্সিগঞ্জসহ দেশের দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই প্রযুক্তি নিতে ছুটে আসছেন। কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সারা দেশে সরকারি উদ্যোগে সহজ শর্তে ও স্বল্পমূল্যে এই সোলার প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের বিশাল অংকের ব্যয় ও নির্ভরশীলতা দুই-ই কমবে। ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে এই সৌর পাম্প কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে এবং এর সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল