বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাপক নীতিগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান তিনটি প্রধান দুর্বলতা—আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, জ্বালানি অপ্রতুলতা এবং নীতির ধারাবাহিকতার অভাবকে চিহ্নিত করেন। তিনি জানান, প্রক্রিয়াগত ধীরগতি কাটাতে সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতিপূর্বে নতুন বিনিয়োগকারীদের এলসি (ঋণপত্র) খোলার পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগত, যা কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় পর্যবেক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে সরকার বর্তমানে ৮ থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা চালাচ্ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানান, বর্তমানে দেশীয় কূপ ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২,৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন শিল্পকারখানায় জ্বালানি সংযোগ দিতে আরও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সৌর ও পারমাণবিক উৎস থেকে অতিরিক্ত ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত লোকসানি কারখানাগুলো প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বন্ধ ও লোকসানি পাট ও বস্ত্রকলগুলোকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, চিনিকলগুলোতে আখের পরিবর্তে কম সময়ে ফলনশীল 'বিট' থেকে চিনি উৎপাদনের পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
পাট খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাঁচা পাট ও স্লাইভার রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মূল্যসংযোজিত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে পাট খাতের আয় ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাজার নজরদারি ব্যবস্থাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির আওতায় আনা এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বে টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাপক নীতিগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান তিনটি প্রধান দুর্বলতা—আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, জ্বালানি অপ্রতুলতা এবং নীতির ধারাবাহিকতার অভাবকে চিহ্নিত করেন। তিনি জানান, প্রক্রিয়াগত ধীরগতি কাটাতে সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতিপূর্বে নতুন বিনিয়োগকারীদের এলসি (ঋণপত্র) খোলার পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগত, যা কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় পর্যবেক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে সরকার বর্তমানে ৮ থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা চালাচ্ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানান, বর্তমানে দেশীয় কূপ ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২,৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন শিল্পকারখানায় জ্বালানি সংযোগ দিতে আরও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সৌর ও পারমাণবিক উৎস থেকে অতিরিক্ত ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত লোকসানি কারখানাগুলো প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বন্ধ ও লোকসানি পাট ও বস্ত্রকলগুলোকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, চিনিকলগুলোতে আখের পরিবর্তে কম সময়ে ফলনশীল 'বিট' থেকে চিনি উৎপাদনের পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
পাট খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাঁচা পাট ও স্লাইভার রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মূল্যসংযোজিত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে পাট খাতের আয় ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাজার নজরদারি ব্যবস্থাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির আওতায় আনা এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বে টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন