দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে চরম গ্যাস সংকটের কারণে তীব্র বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিকাশমান সিরামিক খাত। প্রয়োজনীয় চাপের অভাব ও সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতার কারণে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলের ৩০টিরও বেশি কারখানা উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেকেরও কমে চালাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ফায়ারিং চুল্লি (কিল্ন) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনছেন উদ্যোক্তারা, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাণিজ্যে।
বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) তথ্যমতে, সিরামিক, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার খাতের সার্বিক উৎপাদন গড়ে ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। কারখানায় টানা ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ১৫ পিএসআই (PSI) গ্যাস চাপের প্রয়োজন হলেও তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৩-৪ পিএসআইতে নেমে আসছে, যা কখনো কখনো শূন্যে পৌঁছায়। গ্যাসের অতিরিক্ত ঘাটতিতে আরএকে সিরামিকস, মীর সিরামিকস ও গ্রেট ওয়ালের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একাধিক ইউনিট একটানা বহুদিন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে হাজার হাজার শ্রমিককে বাধ্য হয়ে সাময়িক ছুটিতে পাঠিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
উৎপাদন স্থবিরতার কারণে বিকল্প শক্তি হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে গিয়ে পরিচালন ব্যয় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপসহ বৈশ্বিক বাজারে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা হ্রাস করছেন। একই সাথে স্থানীয় টাইলস ও স্যানিটারি পণ্যের বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় আমদানি নির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত থাকা এই খাতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টা এবং তিতাস কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিসিএমইএ।

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে চরম গ্যাস সংকটের কারণে তীব্র বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিকাশমান সিরামিক খাত। প্রয়োজনীয় চাপের অভাব ও সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতার কারণে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলের ৩০টিরও বেশি কারখানা উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেকেরও কমে চালাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ফায়ারিং চুল্লি (কিল্ন) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনছেন উদ্যোক্তারা, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাণিজ্যে।
বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) তথ্যমতে, সিরামিক, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার খাতের সার্বিক উৎপাদন গড়ে ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। কারখানায় টানা ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ১৫ পিএসআই (PSI) গ্যাস চাপের প্রয়োজন হলেও তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৩-৪ পিএসআইতে নেমে আসছে, যা কখনো কখনো শূন্যে পৌঁছায়। গ্যাসের অতিরিক্ত ঘাটতিতে আরএকে সিরামিকস, মীর সিরামিকস ও গ্রেট ওয়ালের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একাধিক ইউনিট একটানা বহুদিন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে হাজার হাজার শ্রমিককে বাধ্য হয়ে সাময়িক ছুটিতে পাঠিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
উৎপাদন স্থবিরতার কারণে বিকল্প শক্তি হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে গিয়ে পরিচালন ব্যয় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপসহ বৈশ্বিক বাজারে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা হ্রাস করছেন। একই সাথে স্থানীয় টাইলস ও স্যানিটারি পণ্যের বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় আমদানি নির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত থাকা এই খাতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টা এবং তিতাস কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিসিএমইএ।

আপনার মতামত লিখুন