দিকপাল

হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে সরাতে শুরু করেছে জাতিসংঘ


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৩ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে সরাতে শুরু করেছে জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের যে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে, তা ইরান, ওমান, এই অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র এবং সামুদ্রিক শিল্প সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিচালনা করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অভিযানের প্রতিটি ধাপ সফল করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নৌপথটি বর্তমানে জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাত শুরু হলে তেহরান কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নাবিকরা জলপথে আটকা পড়ে ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি করেছিল। তবে গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করেছে। কেপলার শিপিং ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার এই পথ দিয়ে অন্তত ছত্রিশটি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে যাতায়াত করেছে, যা সংঘাত শুরুর পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ চলাচলের রেকর্ড।

ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার পরিকল্পনায় জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার এই জটিল প্রক্রিয়াটি হঠাৎ করে নয়, বরং কয়েক মাসব্যাপী আলোচনার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাতের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান থাকায় অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত এবং সতর্কতামূলক উপায়েই এই জাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এই সংকটময় মুহূর্তে আন্তর্জাতিক এই জলপথটিকে পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টাকে বেগবান করতে ডেনমার্ক ঘোষণা দিয়েছে যে, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের গঠিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মিশনে তারাও সক্রিয়ভাবে যোগ দেবে।

অন্যদিকে, আল জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, শান্তি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনাগুলো ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইরান ও ওমানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে দুই দেশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই বাণিজ্য পথটি পুনরায় সচল রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজার নাবিককে সরাতে শুরু করেছে জাতিসংঘ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের যে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে, তা ইরান, ওমান, এই অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র এবং সামুদ্রিক শিল্প সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিচালনা করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অভিযানের প্রতিটি ধাপ সফল করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নৌপথটি বর্তমানে জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাত শুরু হলে তেহরান কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নাবিকরা জলপথে আটকা পড়ে ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি করেছিল। তবে গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করেছে। কেপলার শিপিং ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার এই পথ দিয়ে অন্তত ছত্রিশটি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে যাতায়াত করেছে, যা সংঘাত শুরুর পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ চলাচলের রেকর্ড।

ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার পরিকল্পনায় জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার এই জটিল প্রক্রিয়াটি হঠাৎ করে নয়, বরং কয়েক মাসব্যাপী আলোচনার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাতের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান থাকায় অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত এবং সতর্কতামূলক উপায়েই এই জাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এই সংকটময় মুহূর্তে আন্তর্জাতিক এই জলপথটিকে পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টাকে বেগবান করতে ডেনমার্ক ঘোষণা দিয়েছে যে, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের গঠিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মিশনে তারাও সক্রিয়ভাবে যোগ দেবে।

অন্যদিকে, আল জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, শান্তি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনাগুলো ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইরান ও ওমানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে দুই দেশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই বাণিজ্য পথটি পুনরায় সচল রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল