দিকপাল

প্রাথমিক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার উদ্যোগ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ | ১১:৪০ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাথমিক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার উদ্যোগ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী বিষয়ের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য, কটূক্তি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। এই প্রবণতা সরকারি চাকরির প্রচলিত আচরণবিধির চরম পরিপন্থী হওয়ায় অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষককে সতর্ক করে জরুরি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে সম্প্রতি একটি বিশেষ নির্দেশনায় বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। ওই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি সকল পর্যায়ের কর্মচারীর জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। ২০১৯ সালে প্রণীত এই নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী এমন কোনো মন্তব্য, ছবি বা তথ্য শেয়ার করতে পারবেন না, যা রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি ঘটায় বা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থেই এই নিয়ম কঠোরভাবে মানার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালানো কিংবা কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেওয়া ‘সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮’-এর আওতায় সরাসরি অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সকল মনিটরিং কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠিত এই কমিটিগুলো প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করবে এবং শিক্ষকদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। যদি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে এর প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এই চিঠির অনুলিপি দেশের সকল বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। একজন শিক্ষক সমাজের আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিচিত, তাই তাদের কাছ থেকে সবসময় গঠনমূলক এবং মার্জিত আচরণের প্রত্যাশা করা হয়। অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দকে এখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো মন্তব্য বা পোস্ট করার আগে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা এবং চাকরির বিধিনিষেধ সম্পর্কে আরও সচেতন ও যত্নশীল হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


প্রাথমিক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী বিষয়ের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য, কটূক্তি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। এই প্রবণতা সরকারি চাকরির প্রচলিত আচরণবিধির চরম পরিপন্থী হওয়ায় অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষককে সতর্ক করে জরুরি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে সম্প্রতি একটি বিশেষ নির্দেশনায় বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। ওই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি সকল পর্যায়ের কর্মচারীর জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। ২০১৯ সালে প্রণীত এই নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী এমন কোনো মন্তব্য, ছবি বা তথ্য শেয়ার করতে পারবেন না, যা রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি ঘটায় বা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থেই এই নিয়ম কঠোরভাবে মানার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালানো কিংবা কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেওয়া ‘সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮’-এর আওতায় সরাসরি অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সকল মনিটরিং কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠিত এই কমিটিগুলো প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করবে এবং শিক্ষকদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। যদি কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে এর প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এই চিঠির অনুলিপি দেশের সকল বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। একজন শিক্ষক সমাজের আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিচিত, তাই তাদের কাছ থেকে সবসময় গঠনমূলক এবং মার্জিত আচরণের প্রত্যাশা করা হয়। অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দকে এখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো মন্তব্য বা পোস্ট করার আগে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা এবং চাকরির বিধিনিষেধ সম্পর্কে আরও সচেতন ও যত্নশীল হতে হবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল