দিকপাল

বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণে চীন, পাল্টা কৌশল সাজাচ্ছে ভারত


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ | ০২:০২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণে চীন, পাল্টা কৌশল সাজাচ্ছে ভারত

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় নির্মিত এই বিশাল অবকাঠামোটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করবে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সক্ষমতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। চীনের এমন উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতও নিজেদের কৌশলগত অবস্থানে অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং জেলায় ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত, যা দেশটির ইতিহাসে বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে পরিচিতি পাবে।

ভারতের এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াট। বার্ষিক প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি রুপি। তবে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের কারণ হলো, চীনের প্রকল্পটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চললেও ভারতের প্রকল্প এখনো প্রাথমিক সমীক্ষা ও পরিকল্পনার গণ্ডি পেরোতে পারেনি। ভৌগোলিক বাস্তবতায় ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে সিয়াং নদী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং পরবর্তীতে ব্রহ্মপুত্র নদের মাধ্যমে আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। উজানে এই ধরনের প্রকাণ্ড বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীপ্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বাস্তুসংস্থানের বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।

উজানের এই বাঁধে পানির নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে চলে যাওয়ায় নদীর নিচের দিকের অববাহিকাগুলোতে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া আকস্মিক বন্যা বা খরা পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার প্রতিটি পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বেইজিংয়ের সাথে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বারবার তাগিদ দিলেও এখন পর্যন্ত চীন তেমন কোনো কার্যকর সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি। দীর্ঘমেয়াদী এই পানিসম্পদ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে চীন ও ভারতের মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণে চীন, পাল্টা কৌশল সাজাচ্ছে ভারত

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় নির্মিত এই বিশাল অবকাঠামোটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করবে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সক্ষমতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। চীনের এমন উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতও নিজেদের কৌশলগত অবস্থানে অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং জেলায় ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত, যা দেশটির ইতিহাসে বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে পরিচিতি পাবে।

ভারতের এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াট। বার্ষিক প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি রুপি। তবে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের কারণ হলো, চীনের প্রকল্পটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চললেও ভারতের প্রকল্প এখনো প্রাথমিক সমীক্ষা ও পরিকল্পনার গণ্ডি পেরোতে পারেনি। ভৌগোলিক বাস্তবতায় ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে সিয়াং নদী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং পরবর্তীতে ব্রহ্মপুত্র নদের মাধ্যমে আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। উজানে এই ধরনের প্রকাণ্ড বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীপ্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বাস্তুসংস্থানের বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।

উজানের এই বাঁধে পানির নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে চলে যাওয়ায় নদীর নিচের দিকের অববাহিকাগুলোতে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া আকস্মিক বন্যা বা খরা পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার প্রতিটি পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বেইজিংয়ের সাথে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বারবার তাগিদ দিলেও এখন পর্যন্ত চীন তেমন কোনো কার্যকর সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি। দীর্ঘমেয়াদী এই পানিসম্পদ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে চীন ও ভারতের মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল