সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হওয়া অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের আর্থিক সংকট দূর করতে একটি বড় ধরণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিশেষ নির্দেশনায় দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ সুবিধা প্রদান করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা ওই নির্দেশনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে– সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাওর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ের অতিবৃষ্টিজনিত কারণে যে ভয়াবহ ফসলহানি ঘটেছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রান্তিক এবং ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কৃষক স্মার্ট কার্ড ধারণকারী কৃষক এবং মাত্র দশ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক হিসাব খোলা প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকেরা অত্যন্ত সহজ শর্তে এই বিশেষ ঋণের আওতাভুক্ত হবেন।
তবে নির্দেশনায় আরও একটি মানবিক ও জনবান্ধব দিক তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে এই মুহূর্তে স্মার্ট কার্ড থাকুক বা না থাকুক, হাওরাঞ্চলসহ দেশের অন্য যেকোনো প্রান্তের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যাতে কোনোভাবেই এই ঋণ সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে অত্যন্ত সচেষ্ট এবং সংবেদনশীল থাকতে হবে। নথিপত্রের জটিলতার অজুহাতে কোনো কৃষকের আবেদন যেন বাতিল করা না হয়, সে ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে।
এবারের এই আকস্মিক ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাওরাঞ্চলের সাতটি জেলায় বোরো ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তা এককথায় অপূরণীয়। বিভিন্ন বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, হাওর এলাকার প্রায় এক লাখ ১২ হাজারের চেয়েও বেশি কৃষক সরাসরি এই দুর্যোগের কারণে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র নেত্রকোনা জেলাতেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮ হাজারে, কিশোরগঞ্জে এই সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার ৫০০ এবং সুনামগঞ্জে ৬০ হাজারেরও বেশি কৃষি পরিবার এখন তীব্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে দিন কাটাচ্ছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাতটি হাওর অধ্যুষিত জেলায় প্রায় ৪৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর চাষাবাদকৃত জমি সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা ওই অঞ্চলের মোট আবাদি জমির ১০ শতাংশেরও বেশি। তবে সরকারি এই হিসাবের চেয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র আরও অনেক বেশি ভয়াবহ বলে দাবি করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের মতে, সরকারি হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির যে পরিমাণ দেখানো হয়েছে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি। মাঠপর্যায়ের কৃষকদের দাবি, আকস্মিক ঢল এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে তাদের উৎপাদিত ধানের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যা তাদের সারা বছরের আহার এবং বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন ছিল। এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঋণ সহায়তা প্রান্তিক চাষিদের আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হওয়া অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের আর্থিক সংকট দূর করতে একটি বড় ধরণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিশেষ নির্দেশনায় দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ সুবিধা প্রদান করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা ওই নির্দেশনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে– সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাওর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ের অতিবৃষ্টিজনিত কারণে যে ভয়াবহ ফসলহানি ঘটেছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রান্তিক এবং ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কৃষক স্মার্ট কার্ড ধারণকারী কৃষক এবং মাত্র দশ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক হিসাব খোলা প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকেরা অত্যন্ত সহজ শর্তে এই বিশেষ ঋণের আওতাভুক্ত হবেন।
তবে নির্দেশনায় আরও একটি মানবিক ও জনবান্ধব দিক তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে এই মুহূর্তে স্মার্ট কার্ড থাকুক বা না থাকুক, হাওরাঞ্চলসহ দেশের অন্য যেকোনো প্রান্তের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যাতে কোনোভাবেই এই ঋণ সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে অত্যন্ত সচেষ্ট এবং সংবেদনশীল থাকতে হবে। নথিপত্রের জটিলতার অজুহাতে কোনো কৃষকের আবেদন যেন বাতিল করা না হয়, সে ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে।
এবারের এই আকস্মিক ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাওরাঞ্চলের সাতটি জেলায় বোরো ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তা এককথায় অপূরণীয়। বিভিন্ন বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, হাওর এলাকার প্রায় এক লাখ ১২ হাজারের চেয়েও বেশি কৃষক সরাসরি এই দুর্যোগের কারণে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র নেত্রকোনা জেলাতেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮ হাজারে, কিশোরগঞ্জে এই সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার ৫০০ এবং সুনামগঞ্জে ৬০ হাজারেরও বেশি কৃষি পরিবার এখন তীব্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে দিন কাটাচ্ছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাতটি হাওর অধ্যুষিত জেলায় প্রায় ৪৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর চাষাবাদকৃত জমি সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা ওই অঞ্চলের মোট আবাদি জমির ১০ শতাংশেরও বেশি। তবে সরকারি এই হিসাবের চেয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র আরও অনেক বেশি ভয়াবহ বলে দাবি করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের মতে, সরকারি হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির যে পরিমাণ দেখানো হয়েছে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি। মাঠপর্যায়ের কৃষকদের দাবি, আকস্মিক ঢল এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে তাদের উৎপাদিত ধানের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যা তাদের সারা বছরের আহার এবং বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন ছিল। এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঋণ সহায়তা প্রান্তিক চাষিদের আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন