ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন খাতে সংস্কারের যে রূপরেখা ঘোষণা করেছিল, তার বড় একটি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়। গত একশো দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এসব উদ্যোগ নেওয়া হলেও, এর অনেকগুলোই শিক্ষাঙ্গনে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে একে সংস্কারের অংশ বলা হলেও, শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়েও তার সঠিক বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখাটাই হবে প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা। বিগত কয়েক বছর ধরে চলে আসা লটারি পদ্ধতি বাতিল করে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে আবারও সনাতন ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেধার সঠিক মূল্যায়নের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা প্রশাসন দাবি করলেও, অভিভাবকদের একটি বড় অংশ একে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ এবং নতুন করে কোচিং ব্যবসার প্রসারের কারণ হিসেবে দেখছেন। এর পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে দীর্ঘ ১৬ বছর পর পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক তথা এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিও আগের চেয়ে এগিয়ে আনা হয়েছে এবং ফল প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে তিনটি নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের পাশাপাশি পরীক্ষার হলগুলোতে ডিজিটাল জালিয়াতি ও নকল প্রতিরোধে কঠোর আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অন্যদিকে, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে উচ্চশিক্ষা খাতের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোর চেষ্টা করা হলেও, এই নিয়োগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগ ওঠায় তা নিয়ে সমালোচনা চলছে। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া এবং শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য স্কুলের মাঠ স্থানীয় শিশুদের খেলার জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তগুলো সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার সাথে সংগতি রেখে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের ঘোষণাও দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তবে এসব ইতিবাচক পদক্ষেপের পাশাপাশি কিছু অব্যবস্থাপনা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সরকারের ১০০ দিনের অর্জনকে কিছুটা ম্লান করেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হওয়া সামাজিক পুষ্টি কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের পাউরুটি ও নষ্ট ডিম সরবরাহের ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিলেও শিক্ষাবিদরা একে মাঠ পর্যায়ের চরম ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। এছাড়া শিক্ষা ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিবকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে বসানো এবং গ্রেড জটিলতা থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত আরেক কর্মকর্তাকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার পর তা বাতিলের ঘটনাটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ তৈরি হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পুনর্মূল্যায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে। আগের সরকারের আমলে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের পাশাপাশি নতুন করে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে নিয়োগপ্রত্যাশীরা চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। একইভাবে আগের প্রস্তুত করা ১ হাজার ১৯৭১টি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির তালিকা স্থগিত করে নতুন আবেদনের সাথে তা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ একটি সাক্ষাৎকারে দেশের ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের কোচিং সেন্টারের সাথে তুলনা করে এবং গবেষণা খাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে পিছিয়ে থাকার মন্তব্য করায় দেশজুড়ে তীব্র শিক্ষক ও ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেও উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণা নিয়ে দেশের বুদ্ধিজীবী মহলে বিতর্কটি এখনও চলছে।
সার্বিকভাবে, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের সদিচ্ছা লক্ষ্য করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ও মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে এখনও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেখা যায়নি। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের মতে, এলাকাভিত্তিক শিক্ষাসেবা বিকেন্দ্রীকরণ, সব শিশুর জন্য প্রাথমিক স্তরে মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যে ধরনের সুদূরপ্রসারী ও আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন, বর্তমানের প্রথাগত প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে তা অর্জন করা কঠিন। নতুন নতুন নীতি ঘোষণার চেয়েও মাঠ পর্যায়ে সেগুলোর সফল ও স্বচ্ছ বাস্তবায়নই আগামী দিনগুলোতে এই খাতের প্রকৃত অগ্রগতি নির্ধারণ করবে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন খাতে সংস্কারের যে রূপরেখা ঘোষণা করেছিল, তার বড় একটি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়। গত একশো দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এসব উদ্যোগ নেওয়া হলেও, এর অনেকগুলোই শিক্ষাঙ্গনে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে একে সংস্কারের অংশ বলা হলেও, শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়েও তার সঠিক বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখাটাই হবে প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা। বিগত কয়েক বছর ধরে চলে আসা লটারি পদ্ধতি বাতিল করে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে আবারও সনাতন ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেধার সঠিক মূল্যায়নের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা প্রশাসন দাবি করলেও, অভিভাবকদের একটি বড় অংশ একে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ এবং নতুন করে কোচিং ব্যবসার প্রসারের কারণ হিসেবে দেখছেন। এর পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে দীর্ঘ ১৬ বছর পর পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক তথা এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিও আগের চেয়ে এগিয়ে আনা হয়েছে এবং ফল প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে তিনটি নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের পাশাপাশি পরীক্ষার হলগুলোতে ডিজিটাল জালিয়াতি ও নকল প্রতিরোধে কঠোর আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অন্যদিকে, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে উচ্চশিক্ষা খাতের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোর চেষ্টা করা হলেও, এই নিয়োগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগ ওঠায় তা নিয়ে সমালোচনা চলছে। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া এবং শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য স্কুলের মাঠ স্থানীয় শিশুদের খেলার জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তগুলো সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার সাথে সংগতি রেখে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের ঘোষণাও দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তবে এসব ইতিবাচক পদক্ষেপের পাশাপাশি কিছু অব্যবস্থাপনা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সরকারের ১০০ দিনের অর্জনকে কিছুটা ম্লান করেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হওয়া সামাজিক পুষ্টি কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের পাউরুটি ও নষ্ট ডিম সরবরাহের ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিলেও শিক্ষাবিদরা একে মাঠ পর্যায়ের চরম ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। এছাড়া শিক্ষা ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিবকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে বসানো এবং গ্রেড জটিলতা থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত আরেক কর্মকর্তাকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার পর তা বাতিলের ঘটনাটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ তৈরি হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পুনর্মূল্যায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে। আগের সরকারের আমলে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের পাশাপাশি নতুন করে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে নিয়োগপ্রত্যাশীরা চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। একইভাবে আগের প্রস্তুত করা ১ হাজার ১৯৭১টি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির তালিকা স্থগিত করে নতুন আবেদনের সাথে তা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ একটি সাক্ষাৎকারে দেশের ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের কোচিং সেন্টারের সাথে তুলনা করে এবং গবেষণা খাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে পিছিয়ে থাকার মন্তব্য করায় দেশজুড়ে তীব্র শিক্ষক ও ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেও উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণা নিয়ে দেশের বুদ্ধিজীবী মহলে বিতর্কটি এখনও চলছে।
সার্বিকভাবে, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের সদিচ্ছা লক্ষ্য করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ও মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে এখনও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেখা যায়নি। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের মতে, এলাকাভিত্তিক শিক্ষাসেবা বিকেন্দ্রীকরণ, সব শিশুর জন্য প্রাথমিক স্তরে মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যে ধরনের সুদূরপ্রসারী ও আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন, বর্তমানের প্রথাগত প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে তা অর্জন করা কঠিন। নতুন নতুন নীতি ঘোষণার চেয়েও মাঠ পর্যায়ে সেগুলোর সফল ও স্বচ্ছ বাস্তবায়নই আগামী দিনগুলোতে এই খাতের প্রকৃত অগ্রগতি নির্ধারণ করবে।

আপনার মতামত লিখুন