দিকপাল

ওবামা চুক্তিকে ছাড়িয়ে যাবে ইরান সমঝোতা, দাবি ট্রাম্পের


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ | ০৯:৩৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ওবামা চুক্তিকে ছাড়িয়ে যাবে ইরান সমঝোতা, দাবি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে যদি তিনি কোনো চুক্তিতে উপনীত হন, তবে তা হবে অত্যন্ত চমৎকার, নিখুঁত এবং কার্যকর। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে করা পরমাণু চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তার চুক্তিটি হবে ওবামার নেওয়া পদক্ষেপের চেয়ে বহুলাংশে উন্নত ও শক্তিশালী, যা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থকে পুরোপুরি সুরক্ষিত করবে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি দীর্ঘ ও আক্রমণাত্মক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এই অনড় অবস্থানের কথা দেশবাসীকে জানান। সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি সেখানে লেখেন, অতীতে বারাক ওবামার সরকার ইরানের সঙ্গে যে ধরনের চুক্তি করেছিল, তা ছিল চরম ভুল ও দুর্বল। ওবামার সেই ত্রুটিপূর্ণ চুক্তি তেহরানকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি স্পষ্ট, সহজ ও উন্মুক্ত পথ তৈরি করে দিয়েছিল। তবে তার বর্তমান প্রশাসন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে আরও দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে চুক্তির রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে, তা ওবামার চুক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং অনেক বেশি কঠোর। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পর্দার আড়ালে চলা এই চুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে এখনো কেউ বিস্তারিত খতিয়ে দেখেনি এবং সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যম এখনো জানে না যে এর ভেতরে ঠিক কী ধরনের শক্তিশালী ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রক্রিয়াটি এখনো পুরোপুরি শেষও হয়নি। তাই চূড়ান্ত ফলাফলের আগেই যারা এই উদ্যোগের সমালোচনা করছেন, ট্রাম্প তাদের তীব্র কটাক্ষ করে ‘পরাজিত’ বলে আখ্যা দেন। একই সাথে তিনি দেশবাসীকে সেইসব সমালোচকদের কথায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানান, যারা আলোচনার গভীরতা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান না রেখেই মন্তব্য করে চলেছেন।

নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বড়াই করে ট্রাম্প দাবি করেন, তার পূর্বসূরি রাষ্ট্রপ্রধানদের মতো তিনি কখনোই দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো ‘খারাপ বা দুর্বল চুক্তি’ সই করেন না। তার মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে দীর্ঘমেয়াদি সংকট চলছে, তা বহু বছর আগেই সমাধান হয়ে যাওয়া উচিত ছিল, যা অতীতের মার্কিন শাসকরা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

মূলত, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত এই নতুন চুক্তিতে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সুনির্দিষ্ট বা কঠোর কোনো আলোচনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই। এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ডেমোক্র্যাট শিবিরের নেতারা তার প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। বিরোধীদের পক্ষ থেকে এমন একতরফা ও তীক্ষ্ণ আক্রমণের মুখেই নিজের অবস্থান ও চুক্তির গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পাল্টা ও আক্রমণাত্মক জবাব দিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


ওবামা চুক্তিকে ছাড়িয়ে যাবে ইরান সমঝোতা, দাবি ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে যদি তিনি কোনো চুক্তিতে উপনীত হন, তবে তা হবে অত্যন্ত চমৎকার, নিখুঁত এবং কার্যকর। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে করা পরমাণু চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তার চুক্তিটি হবে ওবামার নেওয়া পদক্ষেপের চেয়ে বহুলাংশে উন্নত ও শক্তিশালী, যা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থকে পুরোপুরি সুরক্ষিত করবে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি দীর্ঘ ও আক্রমণাত্মক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এই অনড় অবস্থানের কথা দেশবাসীকে জানান। সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি সেখানে লেখেন, অতীতে বারাক ওবামার সরকার ইরানের সঙ্গে যে ধরনের চুক্তি করেছিল, তা ছিল চরম ভুল ও দুর্বল। ওবামার সেই ত্রুটিপূর্ণ চুক্তি তেহরানকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি স্পষ্ট, সহজ ও উন্মুক্ত পথ তৈরি করে দিয়েছিল। তবে তার বর্তমান প্রশাসন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে আরও দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে চুক্তির রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে, তা ওবামার চুক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং অনেক বেশি কঠোর। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পর্দার আড়ালে চলা এই চুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে এখনো কেউ বিস্তারিত খতিয়ে দেখেনি এবং সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যম এখনো জানে না যে এর ভেতরে ঠিক কী ধরনের শক্তিশালী ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রক্রিয়াটি এখনো পুরোপুরি শেষও হয়নি। তাই চূড়ান্ত ফলাফলের আগেই যারা এই উদ্যোগের সমালোচনা করছেন, ট্রাম্প তাদের তীব্র কটাক্ষ করে ‘পরাজিত’ বলে আখ্যা দেন। একই সাথে তিনি দেশবাসীকে সেইসব সমালোচকদের কথায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানান, যারা আলোচনার গভীরতা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান না রেখেই মন্তব্য করে চলেছেন।

নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বড়াই করে ট্রাম্প দাবি করেন, তার পূর্বসূরি রাষ্ট্রপ্রধানদের মতো তিনি কখনোই দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো ‘খারাপ বা দুর্বল চুক্তি’ সই করেন না। তার মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে দীর্ঘমেয়াদি সংকট চলছে, তা বহু বছর আগেই সমাধান হয়ে যাওয়া উচিত ছিল, যা অতীতের মার্কিন শাসকরা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

মূলত, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত এই নতুন চুক্তিতে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সুনির্দিষ্ট বা কঠোর কোনো আলোচনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই। এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ডেমোক্র্যাট শিবিরের নেতারা তার প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। বিরোধীদের পক্ষ থেকে এমন একতরফা ও তীক্ষ্ণ আক্রমণের মুখেই নিজের অবস্থান ও চুক্তির গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পাল্টা ও আক্রমণাত্মক জবাব দিলেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল