দিকপাল

গুচ্ছকবিতা


দীপান্বিতা পালিত
দীপান্বিতা পালিত কবি, শিক্ষক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ০৯:০১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গুচ্ছকবিতা

১)
সূর্যস্নান

'বিপুল বিরহের পরে
আমাদের আবার যখন দেখা হবে,  

কাছে গিয়ে বসতেই একটা শীতল বাতাস
সরিয়ে দেবে সকল বিষাদ। 

আঙ্গুলগুলো আঙ্গুল ছুঁতেই
ঝুরঝুরিয়ে ঝরে যাবে জমে থাকা অবসাদ।

তোমার চুল উড়ে এসে জুড়ে বসবে আমার মুখ
চুলের সুগন্ধে মুছে যাবে অভিযোগ। 

তারপর ওষ্ঠ যদি ওষ্ঠের অলিন্দে গিয়ে বসে, 
আদরে আদরে  অভিমান উড়ে যাবে আকাশে।

যেন দীর্ঘ মরণঘুম শেষে জেগে উঠে
সূর্যস্নান সেরে, নতুন জীবন পাবে দুজন মানুষ। 

‘তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার
নামাতে পারি যদি মনোভার…’ '

২) 

বিচ্ছেদের ধ্রুবসত্য 

শুনুন দেবদারু, আমাদের কোনো পুনর্জন্ম নেই—যা কিছু ঝরে যায়, তা চিরতরের জন্যই হারায়।
যেমন এক ফোঁটা শিশির সকালে উঠে রোদকে জড়িয়ে ধরেই নিঃশেষ হয়ে যায়,
তেমনি বিচ্ছেদের এই ধ্রুব সত্য জেনেও আমি আপনার ছায়াতেই শেষবার মুখ লুকাই।
​মহাকাশে নিভে যাওয়া কোনো তারার আলো যেমন আলোহীনতার মধ্যেও কোটি আলোকবর্ষ ভেসে বেড়ায়,
আমার এই হারিয়ে যাওয়া সুরও তেমনি কোনো এক নির্জন সন্ধ্যায় বাতাস হয়ে আপনাকে ছুঁয়ে যাবে।

৩)
অদৃশ্যের ছায়া

কারা যেন ডেকে গেলো অদৃশ্যের হয়ে—
চোখের ভেতর ছায়া বীথী দের মতো দীর্ঘ রাত ;

ভেবেছিলাম তাকে সাজিয়ে দেবো ঠিক মায়ের মতো—
অথচ কী আনমনে হেঁটে চলে গেলো;

আমি নিথর নিস্তব্ধ হয়ে দেখলাম—
আমার তাকে কখনোই কিছু বলার ছিলোনা

কারা যেন ডেকে গেলো অদৃশ্যের হয়ে—
চোখের ভেতর ছায়া বীথী দের মতো দীর্ঘ রাত ;
ভেবেছিলাম তাকে সাজিয়ে দেবো ঠিক মায়ের মতো—
অথচ কী আনমনে হেঁটে চলে গেলো;
আমি নিথর নিস্তব্ধ হয়ে দেখলাম—
শুধু এক মুঠো কুয়াশা রেখে গেল সে আমার করতলে,
যেন এক না বলা গল্পের শেষ পাতাটি উল্টে দিয়ে,
সে মিশে গেল স্মৃতির সেই ধূসর দিগন্তে।

৪)

প্রার্থনার প্রেম

কি অদ্ভুত না!
এখন মনে কোন উন্মাদনা নেই।
কাছে আসার আশা- চাঞ্চল্য কোনটাই নেই আর।
অথচ,আমরা মানুষ দুজন একই।
সময় ও চলছে এক নিয়মেই।
মাঝখানে বদলে গেছি আমি, হয়তো তুমিও!
জানো,, মনের অন্দরমহলের আসন টা বড্ড অভিমানি।
সে শুধুই আদর কেই গ্রহন করে সহাস্যে।
অবহেলাকে নয়।
এক সমুদ্র ভালোবাসা দেবে বলে সে অপেক্ষা করে!
কিন্তুু তৃতীয় জনের উপস্থিতি তার আদরের ঢেউগুলো কে কোটি যোজন দূরে নিয়ে যায়।
শুধু আদর কেন!
একটা ভালোবাসায় আবেগ থেকে বাস্তব সবকিছুতেই অংশ নিতে হয়।
আমি ও তো নিতাম,
হয়তো তুমিও!
তা না করে, তোমার অবহেলায় কবিতার শব্দগুলোই ছিঁড়ে গেল,
আমিও গঙ্গায় বির্সজন দিলাম,
আমার প্রেম,ইচ্ছে সবটুকুই।
এক জন্মে সব কিছু পেতেই হবে
তা তো নয়!
এই জন্মে না হয় তোমার সুখটাই প্রার্থনার প্রেম হোক।
এও কম কি! 

৫)
মেঘ হয়ে কাঁদ বলে

আমায় দুঃখ দেবে বলে
চোখে নিলে হাজার মেঘের কালো!
বৃষ্টি এল — কান্না থামার আগে
এমনভাবে বাসলে কেন ভালো?

তুমি আমার বেহাগ প্রজাপতি
শর্ত মেনেই আঘাত দিয়ে যাও
এখন আমার কান্না কমই আসে!
পদ্ম-পাতায় ভাসাই চোখের নাও।

তোমার থেকে সরিয়ে নিয়ে চোখ
ভিজতে গেলে হারায় আলপনা
মেঘের মুখ কালো? না হয় হোক।
আমার হৃদয় তোমার দু:খে বোনা!

৬)

বুক-পাঁজরে

তুই সামনে এলে বইয়ে দেব নদী
প্লাবন এসে আছড়ে পড়বে বুকে
আসিস নাহয়!
এসেই দেখিস, আছি কেমন সুখে...
ব্যস্ত থেকেই কাটিয়ে দিলি আয়ু
ভালবাসার প্রলেপ কি আর বুঝিস?
ভাঙিস পাঁজর!
ভেঙেই দেখিস! আজও তোকেই খুঁজি

৭)

এবার ফিরে যাওয়ার পালা

এইতো আর কিছুক্ষণ!
তারপর এ-ই রাতটুকু —
আমরা অপেক্ষা করছি দীর্ঘতম রাতের;
কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ ফিরে যাওয়ার পরই আমরা ফিরে যাবো নিজস্ব আশ্রয়ে—
আমাদের কথাবার্তারা নৈশভোজ সেরে উঠে গেছে দীর্ঘক্ষণ;
পড়ে আছে দু'চারটা দীর্ঘশ্বাস-
বাকিরা হয়তো বিভোর ঘুমে মগ্ন!
গতকাল ঠিক সন্ধ্যে নামার আগে

আমি তাদের ছেড়ে যেতে দেখেছি:
যারা শতবর্ষী মহিরুহকে সাক্ষী করে একসাথে থেকে যাবে বলেছিলো!
ওরা মিশে গেলো ভীড়ে,
অদূরেই কোথাও— তুমি রবে নিরবে!

যারা যায় তারা থেকে যায় শুধু নিরবে,  কথাদের ফাঁকে, সুকৌশলে
অথচ
আমাদের এখনই উঠতে হবে।
আধাআধি বিমর্ষ রাত—
আমরা দাড়িয়ে আছি প্রেম আর মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে —
যদিও আমরা কখনোই কথাদের মৌসুম দীর্ঘ করিনি.....

৮)

প্রস্থান

হৃদয় হরণ বাবু,
তুমি প্রস্থান দেখেছো?
কী নিদারুণ নিষ্ঠুর এই ছেড়ে যাওয়া...!
যেন চাইলেই সে থেকে যাবে,
যেন চাইলেই ফিরে পাওয়া যাবে,
যেন চাইলেই না পাওয়ার দুঃখ গুলোকে লক্ষীন্দরের ভেলায় ভাসিয়ে শুরু করা যাবে অনন্ত সুখের যাত্রা।
ভোরের নির্মল আলো কে গায়ে মাখিয়ে আনন্দ কুড়ানো,
যেন শরীরের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকা প্রিয় অসুখ,
যেন ঘুম জাগরণে ভেসে ওঠা চির চেনা মুখ।
কিন্তু
বাস্তবিকতায় তার কিছুই হয় না।
একই পৃথিবীর নীল সামিয়ানার নিচে থেকেও সে হয় চির অচেনা।
সবই ঠিক আগের মতই থাকে
শুধু সময়টা বদলে যায়।
রোজ ভালোবাসি বলা মানুষটাও তখন নির্বাক হয়।
এটাকেই বুঝি প্রস্থান বলে.....

৯)

রচি মম ফাল্গুনী

বৃষ্টি আসেনি ! এসেছে প্রবল ধুলো
আবছা, তুমি  তোলপাড় কর মনে,
অফিসফেরত আমার সন্ধিগুলো
ফুটে আছ তুমি মৌন কথার বনে ।

যতটা দুঃখ তুমি দিয়েছিলে ছুঁয়ে
ছুঁতেই পারেনি আর কোনো সুখ, হাওয়া…
কথা নেই, তবু হৃদয়ে আঁকিবুঁকি
চলে যেতে হবে- এ বুঝেও থেকে যাওয়া। 

১০)

আকাশ দুপুরে খুব কেঁদেছে ! 

আকাশ দুপুরে খুব কেঁদেছে
ঝরা ফুল শুধু তোমার জন্য
ভিজে সন্ধেয় ---
কথা কবিতায় আজ এই আয়োজন।

ঝরা ফুল তোমার পাপড়িগুলো খসে পড়ে আছে
আমার ভীষন কষ্ট হচ্ছে
তোমার ব্যথায় প্রজাপতিও
শোকে দুঃখে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে
ঝরা পাপড়িগুলোর উপর।

ঝরা ফুল তুমি কি শুনতে পাচ্ছ
সারাটা দুপুর আজ আকাশ খুব কেঁদেছে
ঝরাফুল তোমাকে রেখেছি হৃদয়ে

বড়ো যত্নে আদরে ভালোবাসায়
ঝরাফুল তুমি কি শুনতে পাচ্ছ

আকাশ দুপুরে খুব কেঁদেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


গুচ্ছকবিতা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

১)
সূর্যস্নান

'বিপুল বিরহের পরে
আমাদের আবার যখন দেখা হবে,  

কাছে গিয়ে বসতেই একটা শীতল বাতাস
সরিয়ে দেবে সকল বিষাদ। 

আঙ্গুলগুলো আঙ্গুল ছুঁতেই
ঝুরঝুরিয়ে ঝরে যাবে জমে থাকা অবসাদ।

তোমার চুল উড়ে এসে জুড়ে বসবে আমার মুখ
চুলের সুগন্ধে মুছে যাবে অভিযোগ। 

তারপর ওষ্ঠ যদি ওষ্ঠের অলিন্দে গিয়ে বসে, 
আদরে আদরে  অভিমান উড়ে যাবে আকাশে।

যেন দীর্ঘ মরণঘুম শেষে জেগে উঠে
সূর্যস্নান সেরে, নতুন জীবন পাবে দুজন মানুষ। 

‘তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার
নামাতে পারি যদি মনোভার…’ '

২) 

বিচ্ছেদের ধ্রুবসত্য 

শুনুন দেবদারু, আমাদের কোনো পুনর্জন্ম নেই—যা কিছু ঝরে যায়, তা চিরতরের জন্যই হারায়।
যেমন এক ফোঁটা শিশির সকালে উঠে রোদকে জড়িয়ে ধরেই নিঃশেষ হয়ে যায়,
তেমনি বিচ্ছেদের এই ধ্রুব সত্য জেনেও আমি আপনার ছায়াতেই শেষবার মুখ লুকাই।
​মহাকাশে নিভে যাওয়া কোনো তারার আলো যেমন আলোহীনতার মধ্যেও কোটি আলোকবর্ষ ভেসে বেড়ায়,
আমার এই হারিয়ে যাওয়া সুরও তেমনি কোনো এক নির্জন সন্ধ্যায় বাতাস হয়ে আপনাকে ছুঁয়ে যাবে।

৩)
অদৃশ্যের ছায়া

কারা যেন ডেকে গেলো অদৃশ্যের হয়ে—
চোখের ভেতর ছায়া বীথী দের মতো দীর্ঘ রাত ;

ভেবেছিলাম তাকে সাজিয়ে দেবো ঠিক মায়ের মতো—
অথচ কী আনমনে হেঁটে চলে গেলো;

আমি নিথর নিস্তব্ধ হয়ে দেখলাম—
আমার তাকে কখনোই কিছু বলার ছিলোনা

কারা যেন ডেকে গেলো অদৃশ্যের হয়ে—
চোখের ভেতর ছায়া বীথী দের মতো দীর্ঘ রাত ;
ভেবেছিলাম তাকে সাজিয়ে দেবো ঠিক মায়ের মতো—
অথচ কী আনমনে হেঁটে চলে গেলো;
আমি নিথর নিস্তব্ধ হয়ে দেখলাম—
শুধু এক মুঠো কুয়াশা রেখে গেল সে আমার করতলে,
যেন এক না বলা গল্পের শেষ পাতাটি উল্টে দিয়ে,
সে মিশে গেল স্মৃতির সেই ধূসর দিগন্তে।

৪)

প্রার্থনার প্রেম

কি অদ্ভুত না!
এখন মনে কোন উন্মাদনা নেই।
কাছে আসার আশা- চাঞ্চল্য কোনটাই নেই আর।
অথচ,আমরা মানুষ দুজন একই।
সময় ও চলছে এক নিয়মেই।
মাঝখানে বদলে গেছি আমি, হয়তো তুমিও!
জানো,, মনের অন্দরমহলের আসন টা বড্ড অভিমানি।
সে শুধুই আদর কেই গ্রহন করে সহাস্যে।
অবহেলাকে নয়।
এক সমুদ্র ভালোবাসা দেবে বলে সে অপেক্ষা করে!
কিন্তুু তৃতীয় জনের উপস্থিতি তার আদরের ঢেউগুলো কে কোটি যোজন দূরে নিয়ে যায়।
শুধু আদর কেন!
একটা ভালোবাসায় আবেগ থেকে বাস্তব সবকিছুতেই অংশ নিতে হয়।
আমি ও তো নিতাম,
হয়তো তুমিও!
তা না করে, তোমার অবহেলায় কবিতার শব্দগুলোই ছিঁড়ে গেল,
আমিও গঙ্গায় বির্সজন দিলাম,
আমার প্রেম,ইচ্ছে সবটুকুই।
এক জন্মে সব কিছু পেতেই হবে
তা তো নয়!
এই জন্মে না হয় তোমার সুখটাই প্রার্থনার প্রেম হোক।
এও কম কি! 

৫)
মেঘ হয়ে কাঁদ বলে

আমায় দুঃখ দেবে বলে
চোখে নিলে হাজার মেঘের কালো!
বৃষ্টি এল — কান্না থামার আগে
এমনভাবে বাসলে কেন ভালো?

তুমি আমার বেহাগ প্রজাপতি
শর্ত মেনেই আঘাত দিয়ে যাও
এখন আমার কান্না কমই আসে!
পদ্ম-পাতায় ভাসাই চোখের নাও।

তোমার থেকে সরিয়ে নিয়ে চোখ
ভিজতে গেলে হারায় আলপনা
মেঘের মুখ কালো? না হয় হোক।
আমার হৃদয় তোমার দু:খে বোনা!


৬)

বুক-পাঁজরে

তুই সামনে এলে বইয়ে দেব নদী
প্লাবন এসে আছড়ে পড়বে বুকে
আসিস নাহয়!
এসেই দেখিস, আছি কেমন সুখে...
ব্যস্ত থেকেই কাটিয়ে দিলি আয়ু
ভালবাসার প্রলেপ কি আর বুঝিস?
ভাঙিস পাঁজর!
ভেঙেই দেখিস! আজও তোকেই খুঁজি

৭)

এবার ফিরে যাওয়ার পালা

এইতো আর কিছুক্ষণ!
তারপর এ-ই রাতটুকু —
আমরা অপেক্ষা করছি দীর্ঘতম রাতের;
কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ ফিরে যাওয়ার পরই আমরা ফিরে যাবো নিজস্ব আশ্রয়ে—
আমাদের কথাবার্তারা নৈশভোজ সেরে উঠে গেছে দীর্ঘক্ষণ;
পড়ে আছে দু'চারটা দীর্ঘশ্বাস-
বাকিরা হয়তো বিভোর ঘুমে মগ্ন!
গতকাল ঠিক সন্ধ্যে নামার আগে

আমি তাদের ছেড়ে যেতে দেখেছি:
যারা শতবর্ষী মহিরুহকে সাক্ষী করে একসাথে থেকে যাবে বলেছিলো!
ওরা মিশে গেলো ভীড়ে,
অদূরেই কোথাও— তুমি রবে নিরবে!

যারা যায় তারা থেকে যায় শুধু নিরবে,  কথাদের ফাঁকে, সুকৌশলে
অথচ
আমাদের এখনই উঠতে হবে।
আধাআধি বিমর্ষ রাত—
আমরা দাড়িয়ে আছি প্রেম আর মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে —
যদিও আমরা কখনোই কথাদের মৌসুম দীর্ঘ করিনি.....

৮)

প্রস্থান

হৃদয় হরণ বাবু,
তুমি প্রস্থান দেখেছো?
কী নিদারুণ নিষ্ঠুর এই ছেড়ে যাওয়া...!
যেন চাইলেই সে থেকে যাবে,
যেন চাইলেই ফিরে পাওয়া যাবে,
যেন চাইলেই না পাওয়ার দুঃখ গুলোকে লক্ষীন্দরের ভেলায় ভাসিয়ে শুরু করা যাবে অনন্ত সুখের যাত্রা।
ভোরের নির্মল আলো কে গায়ে মাখিয়ে আনন্দ কুড়ানো,
যেন শরীরের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকা প্রিয় অসুখ,
যেন ঘুম জাগরণে ভেসে ওঠা চির চেনা মুখ।
কিন্তু
বাস্তবিকতায় তার কিছুই হয় না।
একই পৃথিবীর নীল সামিয়ানার নিচে থেকেও সে হয় চির অচেনা।
সবই ঠিক আগের মতই থাকে
শুধু সময়টা বদলে যায়।
রোজ ভালোবাসি বলা মানুষটাও তখন নির্বাক হয়।
এটাকেই বুঝি প্রস্থান বলে.....

৯)

রচি মম ফাল্গুনী

বৃষ্টি আসেনি ! এসেছে প্রবল ধুলো
আবছা, তুমি  তোলপাড় কর মনে,
অফিসফেরত আমার সন্ধিগুলো
ফুটে আছ তুমি মৌন কথার বনে ।

যতটা দুঃখ তুমি দিয়েছিলে ছুঁয়ে
ছুঁতেই পারেনি আর কোনো সুখ, হাওয়া…
কথা নেই, তবু হৃদয়ে আঁকিবুঁকি
চলে যেতে হবে- এ বুঝেও থেকে যাওয়া। 

১০)

আকাশ দুপুরে খুব কেঁদেছে ! 

আকাশ দুপুরে খুব কেঁদেছে
ঝরা ফুল শুধু তোমার জন্য
ভিজে সন্ধেয় ---
কথা কবিতায় আজ এই আয়োজন।

ঝরা ফুল তোমার পাপড়িগুলো খসে পড়ে আছে
আমার ভীষন কষ্ট হচ্ছে
তোমার ব্যথায় প্রজাপতিও
শোকে দুঃখে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে
ঝরা পাপড়িগুলোর উপর।

ঝরা ফুল তুমি কি শুনতে পাচ্ছ
সারাটা দুপুর আজ আকাশ খুব কেঁদেছে
ঝরাফুল তোমাকে রেখেছি হৃদয়ে

বড়ো যত্নে আদরে ভালোবাসায়
ঝরাফুল তুমি কি শুনতে পাচ্ছ

আকাশ দুপুরে খুব কেঁদেছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল