দিকপাল

জুমাবারে ইন্তেকাল করলে পরকালীন মর্যাদা ও ফজিলত: হাদিসের আলোকেও স্কলারদের অভিমত


ইসলামিক ডেক্স
ইসলামিক ডেক্স
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:১৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

জুমাবারে ইন্তেকাল করলে পরকালীন মর্যাদা ও ফজিলত: হাদিসের আলোকেও স্কলারদের অভিমত

ইসলাম ধর্মে জুমাবারকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এবং ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সৃষ্টিজগতের সূচনা, মানবজাতির পিতা হজরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, জান্নাতে প্রবেশ ও পৃথিবীতে আগমনসহ কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার মতো মহাজাগতিক ঘটনাগুলো এই জুমাবারের সাথেই সম্পর্কিত। একইসাথে জুমার দিনে আমল, সালাত ও বিশেষ সময়ে দোয়া কবুলের ফজিলতের কথা পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বিস্তৃতভাবে এসেছে। 

তবে জুমাবারে বা জুমার রাতে কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তাঁর কবরের আযাব মাফ কিংবা জান্নাত লাভ সহজ হওয়ার প্রচলিত ধারণাগুলোর ধর্মীয় ভিত্তি নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ইসলামি স্কলারগণ।

কবরের ফিতনা থেকে মুক্তির সনদ:

হাদিস শরিফে এসেছে, জুমাবারে কোনো মুসলিমের মৃত্যু হলে আল্লাহ তাআলা তাঁকে কবরের ফিতনা (পরীক্ষা ও আযাব) থেকে রক্ষা করেন। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন— "যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি জুমাবারে বা জুমার রাতে ইন্তেকাল করবে, তাকে আল্লাহ তাআলা কবরের ফিতনা (কবরের আযাব ও সওয়াল-জবাবের কঠিন পরীক্ষা) থেকে হেফাজত করবেন।" (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৪; মিশকাত, হাদিস: ১৩৬৭)।

জান্নাত লাভ প্রসঙ্গে ধর্মীয় ব্যাখ্যা:

বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, জুমাবারে মারা গেলেই সরাসরি জান্নাত অর্জিত হয়। তবে এ বিষয়ে শীর্ষস্থানীয় ইসলামি স্কলাররা স্পষ্ট করেছেন যে, জুমাবারে মারা গেলেই জান্নাত মিলবে—সরাসরি এমন কোনো নিশ্চয়তা কোরআন ও সুন্নাহর টেক্সটে নেই।

জনপ্রিয় ইসলামি স্কলারদের মতানুসারে, জুমাবার বা জুমার রাতে ইন্তেকাল করা একজন মুমিন বান্দার জন্য অত্যন্ত সুসংবাদ ও বরকতময় বিষয়, যার মাধ্যমে তিনি কবরের কঠিন ফিতনা ও সওয়াল-জবাবের ভয়াবহতা থেকে রেহাই পান। তবে শুধুমাত্র এই দিনে মৃত্যুর কারণেই জান্নাত সুনিশ্চিত হয়ে যায় না; বরং ঈমান ও নেক আমলই চূড়ান্ত মুক্তির ভিত্তি। অবশ্য হাদিস অনুযায়ী পরকালের প্রথম ধাপ বা কবরের পরীক্ষা যার জন্য সহজ হয়ে যায়, আল্লাহর রহমতে তাঁর পরবর্তী ধাপগুলোও সহজ হওয়ার আশা করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


জুমাবারে ইন্তেকাল করলে পরকালীন মর্যাদা ও ফজিলত: হাদিসের আলোকেও স্কলারদের অভিমত

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসলাম ধর্মে জুমাবারকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এবং ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সৃষ্টিজগতের সূচনা, মানবজাতির পিতা হজরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, জান্নাতে প্রবেশ ও পৃথিবীতে আগমনসহ কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার মতো মহাজাগতিক ঘটনাগুলো এই জুমাবারের সাথেই সম্পর্কিত। একইসাথে জুমার দিনে আমল, সালাত ও বিশেষ সময়ে দোয়া কবুলের ফজিলতের কথা পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বিস্তৃতভাবে এসেছে। 

তবে জুমাবারে বা জুমার রাতে কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তাঁর কবরের আযাব মাফ কিংবা জান্নাত লাভ সহজ হওয়ার প্রচলিত ধারণাগুলোর ধর্মীয় ভিত্তি নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ইসলামি স্কলারগণ।

কবরের ফিতনা থেকে মুক্তির সনদ:

হাদিস শরিফে এসেছে, জুমাবারে কোনো মুসলিমের মৃত্যু হলে আল্লাহ তাআলা তাঁকে কবরের ফিতনা (পরীক্ষা ও আযাব) থেকে রক্ষা করেন। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন— "যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি জুমাবারে বা জুমার রাতে ইন্তেকাল করবে, তাকে আল্লাহ তাআলা কবরের ফিতনা (কবরের আযাব ও সওয়াল-জবাবের কঠিন পরীক্ষা) থেকে হেফাজত করবেন।" (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৪; মিশকাত, হাদিস: ১৩৬৭)।

জান্নাত লাভ প্রসঙ্গে ধর্মীয় ব্যাখ্যা:

বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, জুমাবারে মারা গেলেই সরাসরি জান্নাত অর্জিত হয়। তবে এ বিষয়ে শীর্ষস্থানীয় ইসলামি স্কলাররা স্পষ্ট করেছেন যে, জুমাবারে মারা গেলেই জান্নাত মিলবে—সরাসরি এমন কোনো নিশ্চয়তা কোরআন ও সুন্নাহর টেক্সটে নেই।

জনপ্রিয় ইসলামি স্কলারদের মতানুসারে, জুমাবার বা জুমার রাতে ইন্তেকাল করা একজন মুমিন বান্দার জন্য অত্যন্ত সুসংবাদ ও বরকতময় বিষয়, যার মাধ্যমে তিনি কবরের কঠিন ফিতনা ও সওয়াল-জবাবের ভয়াবহতা থেকে রেহাই পান। তবে শুধুমাত্র এই দিনে মৃত্যুর কারণেই জান্নাত সুনিশ্চিত হয়ে যায় না; বরং ঈমান ও নেক আমলই চূড়ান্ত মুক্তির ভিত্তি। অবশ্য হাদিস অনুযায়ী পরকালের প্রথম ধাপ বা কবরের পরীক্ষা যার জন্য সহজ হয়ে যায়, আল্লাহর রহমতে তাঁর পরবর্তী ধাপগুলোও সহজ হওয়ার আশা করা যায়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল