দিকপাল

মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে ‘কবুল’ লিখলে কি বিয়ে হবে!


ইয়াসরির মাহবুব
ইয়াসরির মাহবুব স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০৩:২০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে ‘কবুল’ লিখলে কি বিয়ে হবে!

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব লেনদেনই অনলাইননির্ভর। কিন্তু মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোতে বর-কনের বার্তা আদান-প্রদান এবং মেসেজে ‘কবুল’ লিখে কি বিয়ের মতো স্পর্শকাতর বিধান সম্পন্ন করা সম্ভব? ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকাহ শাস্ত্রের মতে, কেবল টেক্সট পাঠালে কিংবা চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করলে ধর্মীয়ভাবে সেই বিয়ে বৈধ হবে না।

ইসলামি আইন বিশারদদের মতে, একটি বিয়ে শরিয়াহ সম্মত ও পূর্ণাঙ্গ হতে হলে প্রধান দুটি শর্ত পূরণ করা অবশ্যকর্তব্য—

প্রথমত, পাত্র ও পাত্রী অথবা তাঁদের পক্ষে মনোনীত প্রতিনিধির (উকিল) একই বৈঠকে বা মজলিসে সরাসরি উপস্থিত থাকতে হবে। অনলাইনের ডিজিটাল মেসেজিং ব্যবস্থায় এই শারীরিক উপস্থিতির শর্ত পূরণ হয় না।

দ্বিতীয়ত, বিবাহের মূল রুকন বা বিধান শরিয়াহ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হতে অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারীর সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। শুধু উপস্থিত থাকলেই চলবে না, তাদের সামনেই মুখে স্পষ্ট আওয়াজে ইজাব ও কবুল উচ্চারণ করতে হবে, যেন সাক্ষীরা তা স্পষ্ট শুনতে পান। এ প্রসঙ্গে সহিহ ইবনে হিব্বানের হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না।”

সুতরাং, মেসেজে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো বা ‘কবুল’ টাইপ করাকে বড়জোর একটি পারস্পরিক সম্মতি বা প্রাথমিক আলোচনা হিসেবে গণ্য করা যায়। প্রয়োজনীয় শরিয়াহসম্মত সাক্ষী ও একই মজলিসে অবস্থান ছাড়া কেবল চ্যাটিংয়ের মেসেজ কোনোভাবেই বৈধ দাম্পত্যের মর্যাদা দেয় না।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে ‘কবুল’ লিখলে কি বিয়ে হবে!

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব লেনদেনই অনলাইননির্ভর। কিন্তু মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোতে বর-কনের বার্তা আদান-প্রদান এবং মেসেজে ‘কবুল’ লিখে কি বিয়ের মতো স্পর্শকাতর বিধান সম্পন্ন করা সম্ভব? ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকাহ শাস্ত্রের মতে, কেবল টেক্সট পাঠালে কিংবা চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করলে ধর্মীয়ভাবে সেই বিয়ে বৈধ হবে না।

ইসলামি আইন বিশারদদের মতে, একটি বিয়ে শরিয়াহ সম্মত ও পূর্ণাঙ্গ হতে হলে প্রধান দুটি শর্ত পূরণ করা অবশ্যকর্তব্য—

প্রথমত, পাত্র ও পাত্রী অথবা তাঁদের পক্ষে মনোনীত প্রতিনিধির (উকিল) একই বৈঠকে বা মজলিসে সরাসরি উপস্থিত থাকতে হবে। অনলাইনের ডিজিটাল মেসেজিং ব্যবস্থায় এই শারীরিক উপস্থিতির শর্ত পূরণ হয় না।

দ্বিতীয়ত, বিবাহের মূল রুকন বা বিধান শরিয়াহ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হতে অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারীর সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। শুধু উপস্থিত থাকলেই চলবে না, তাদের সামনেই মুখে স্পষ্ট আওয়াজে ইজাব ও কবুল উচ্চারণ করতে হবে, যেন সাক্ষীরা তা স্পষ্ট শুনতে পান। এ প্রসঙ্গে সহিহ ইবনে হিব্বানের হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না।”

সুতরাং, মেসেজে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো বা ‘কবুল’ টাইপ করাকে বড়জোর একটি পারস্পরিক সম্মতি বা প্রাথমিক আলোচনা হিসেবে গণ্য করা যায়। প্রয়োজনীয় শরিয়াহসম্মত সাক্ষী ও একই মজলিসে অবস্থান ছাড়া কেবল চ্যাটিংয়ের মেসেজ কোনোভাবেই বৈধ দাম্পত্যের মর্যাদা দেয় না।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল