দিকপাল

হাদিসের আলোকে জুমার দিনের ১৫ গুরুত্বপূর্ণ আমল


ইয়াসরির মাহবুব
ইয়াসরির মাহবুব স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হাদিসের আলোকে জুমার দিনের ১৫ গুরুত্বপূর্ণ আমল

সপ্তাহের সেরা ও মহিমান্বিত দিন জুমাবার। আল্লাহ তাআলা এই দিনটিকে অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। সৃষ্টিজগতের সূচনা থেকে শুরু করে মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদতের ক্ষেত্রে দিনটি অতি তাৎপর্যপূর্ণ। জুমার দিনের ফজিলত ও বরকত পূর্ণাঙ্গরূপে অর্জনের জন্য হাদিস শরীফে বর্ণিত ১৫টি বিশেষ আমলের কথা তুলে ধরা হলো:

  • ফজরের নামাজে বিশেষ সুরা তেলাওয়াত: জুমার দিন ফজরের ফরজ নামাজে সুরা আস-সিজদা ও সুরা আল-ইনসান তেলাওয়াত করা সুন্নাত।

  • বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠ: এই দিনে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা উত্তম, কারণ তা তাঁর দরবারে পেশ করা হয়।

  • ফরজ জুমার নামাজ আদায়: অন্যান্য ফরজের মতো জুমার নামাজ সুনির্দিষ্ট সময়ে গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করা অত্যাবশ্যকীয় বিধান।

  • উত্তমরূপে গোসল করা: জুমার সালাতে আদায়ের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে ভালো করে গোসল করা বিশেষ তাগিদপ্রাপ্ত সুন্নাত।

  • সুগন্ধি ব্যবহার: অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় এই দিনে শরীরে সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা বেশি সওয়াবের কাজ।

  • মেসওয়াক করা: ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে মেসওয়াক করা কর্তব্য ও সুন্নাত।

  • জিকির ও ইবাদতে মশগুল থাকা: খুতবা শুরুর পূর্ব পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরে সময় অতিবাহিত করা।

  • খুতবার সময় সম্পূর্ণ নীরবতা: ইমামের খুতবা চলাকালে কোনো প্রকার কথা না বলে বা অন্যকে অনর্থক কথা বলতে বারণ না করে সম্পূর্ণ চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা।

  • সুরা কাহাফ তেলাওয়াত: জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠকারীর জন্য পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বিশেষ নূর বা জ্যোতি দান করা হয়।

  • নির্দিষ্ট সুরা দ্বারা জুমার নামাজ পড়া: জুমার প্রধান জামাতে সুরা জুমা, সুরা আলা কিংবা সুরা গাশিয়াহ তেলাওয়াত করা সুন্নতসিদ্ধ।

  • সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান: জুমার নামাজে অংশ নেওয়ার সময় নিজের সবচেয়ে উত্তম ও মার্জিত পোশাক পরিধান করা।

  • মসজিদ সুবাসিত রাখা: জুমার দিনে জামাত শুরুর পূর্বে মসজিদে সুগন্ধি ছড়ানো বা ধূপ/আতর ব্যবহার করা পছন্দনীয় কাজ।

  • অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার: নিজের যাবতীয় ভুলত্রুটি ও গুনাহ মাফের উদ্দেশ্যে জুমার দিন জুড়ে তাওবা ও ইস্তেগফারে নিয়োজিত থাকা।

  • আসরের পর দোয়ায় আত্মনিয়োগ: জুমার দিনের বিশেষ যে সময়ে দোয়া কবুল হয়, তা আসরের পর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে অনুসন্ধান করে বেশি বেশি দোয়া করা।

  • মৃত্যুপরবর্তী সুরক্ষার দোয়া ও আমল: জুমার দিন ও রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে ঈমানের ওপর মৃত্যু এবং কবরের আজাব থেকে পানাহ চেয়ে প্রার্থনা করা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হাদিসের আলোকে জুমার দিনের ১৫ গুরুত্বপূর্ণ আমল

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সপ্তাহের সেরা ও মহিমান্বিত দিন জুমাবার। আল্লাহ তাআলা এই দিনটিকে অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। সৃষ্টিজগতের সূচনা থেকে শুরু করে মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদতের ক্ষেত্রে দিনটি অতি তাৎপর্যপূর্ণ। জুমার দিনের ফজিলত ও বরকত পূর্ণাঙ্গরূপে অর্জনের জন্য হাদিস শরীফে বর্ণিত ১৫টি বিশেষ আমলের কথা তুলে ধরা হলো:

  • ফজরের নামাজে বিশেষ সুরা তেলাওয়াত: জুমার দিন ফজরের ফরজ নামাজে সুরা আস-সিজদা ও সুরা আল-ইনসান তেলাওয়াত করা সুন্নাত।

  • বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠ: এই দিনে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা উত্তম, কারণ তা তাঁর দরবারে পেশ করা হয়।

  • ফরজ জুমার নামাজ আদায়: অন্যান্য ফরজের মতো জুমার নামাজ সুনির্দিষ্ট সময়ে গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করা অত্যাবশ্যকীয় বিধান।

  • উত্তমরূপে গোসল করা: জুমার সালাতে আদায়ের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে ভালো করে গোসল করা বিশেষ তাগিদপ্রাপ্ত সুন্নাত।

  • সুগন্ধি ব্যবহার: অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় এই দিনে শরীরে সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা বেশি সওয়াবের কাজ।

  • মেসওয়াক করা: ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে মেসওয়াক করা কর্তব্য ও সুন্নাত।

  • জিকির ও ইবাদতে মশগুল থাকা: খুতবা শুরুর পূর্ব পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরে সময় অতিবাহিত করা।

  • খুতবার সময় সম্পূর্ণ নীরবতা: ইমামের খুতবা চলাকালে কোনো প্রকার কথা না বলে বা অন্যকে অনর্থক কথা বলতে বারণ না করে সম্পূর্ণ চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা।

  • সুরা কাহাফ তেলাওয়াত: জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠকারীর জন্য পরবর্তী জুমা পর্যন্ত বিশেষ নূর বা জ্যোতি দান করা হয়।

  • নির্দিষ্ট সুরা দ্বারা জুমার নামাজ পড়া: জুমার প্রধান জামাতে সুরা জুমা, সুরা আলা কিংবা সুরা গাশিয়াহ তেলাওয়াত করা সুন্নতসিদ্ধ।

  • সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান: জুমার নামাজে অংশ নেওয়ার সময় নিজের সবচেয়ে উত্তম ও মার্জিত পোশাক পরিধান করা।

  • মসজিদ সুবাসিত রাখা: জুমার দিনে জামাত শুরুর পূর্বে মসজিদে সুগন্ধি ছড়ানো বা ধূপ/আতর ব্যবহার করা পছন্দনীয় কাজ।

  • অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার: নিজের যাবতীয় ভুলত্রুটি ও গুনাহ মাফের উদ্দেশ্যে জুমার দিন জুড়ে তাওবা ও ইস্তেগফারে নিয়োজিত থাকা।

  • আসরের পর দোয়ায় আত্মনিয়োগ: জুমার দিনের বিশেষ যে সময়ে দোয়া কবুল হয়, তা আসরের পর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে অনুসন্ধান করে বেশি বেশি দোয়া করা।

  • মৃত্যুপরবর্তী সুরক্ষার দোয়া ও আমল: জুমার দিন ও রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে ঈমানের ওপর মৃত্যু এবং কবরের আজাব থেকে পানাহ চেয়ে প্রার্থনা করা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল