দিকপাল

সন্তানের আকিকা না দিলে কি ক্ষতি হয়? যা বলে ইসলাম


ইয়াসরির মাহবুব
ইয়াসরির মাহবুব স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

সন্তানের আকিকা না দিলে কি ক্ষতি হয়? যা বলে ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত


সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মা-বাবার জন্য এক শ্রেষ্ঠ উপহার। সন্তান জন্মের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং নবজাতকের কল্যাণে পশু জবাই করে আকিকা করা ইসলামের একটি অন্যতম সুন্দর বিধান। তবে সমাজে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে—সন্তানের আকিকা না দিলে তার বড় কোনো ক্ষতি বা বিপদ-আপদ লেগেই থাকে। ইসলাম আসলে এ বিষয়ে কী বলে?

ইসলামিক স্কলারদের মতে, আকিকা না দিলে সন্তানের কোনো ক্ষতি বা গুনাহ হবে—এমন কোনো কথা কোরআন কিংবা হাদিসের কোথাও উল্লেখ নেই। অর্থাৎ, আকিকা না দেওয়ার কারণে সন্তান কোনো শারীরিক বা পার্থিব ক্ষতির সম্মুখীন হবে না।

তবে প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, সন্তানদের আকিকা করাটা এক অর্থে এক ধরণের ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ বা সুরক্ষার মতো। সন্তানের সার্বিক নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সামর্থ্য অনুযায়ী আকিকা করা উচিত। কিন্তু কেউ যদি অভাব বা অন্য কোনো কারণে আকিকা দিতে না পারেন, তবে সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন ভাবার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।

হাদিসে সন্তান জন্মের পর আকিকা করার ব্যাপারে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। সালমান ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সন্তানের সঙ্গে আকিকা সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো (পশু জবেহ করো) এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৭৬)

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সপ্তম দিনে আকিকা করা সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সপ্তম দিনে নবজাতকের সুন্দর নাম রাখতে, মাথার চুল মুণ্ডন করতে এবং তার পক্ষ থেকে আকিকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পশুর সংখ্যার ক্ষেত্রে নিয়ম হলো—ছেলে সন্তান হলে দুটি এবং মেয়ে সন্তান হলে একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দিয়ে আকিকা করতে হয়। এছাড়া সমাজে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে, আকিকার পশু কেবল ‘নর’ বা পুরুষ হতে হবে; অথচ হাদিস অনুযায়ী আকিকার পশু নর বা মাদী (পুরুষ বা স্ত্রী) যেকোনোটি হলেই আকিকা শুদ্ধ হয়ে যাবে, এতে কোনো ক্ষতি বা গুনাহ নেই।

আকিকা দেওয়া একটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ (কারো মতে নফল)। সামর্থ্য থাকলে নবজাতকের জন্মের সপ্তম দিনে তা সম্পন্ন করা উত্তম। তবে সামর্থ্য না থাকার কারণে আকিকা দিতে না পারলে সন্তানের কোনো অমঙ্গল বা ক্ষতি হবে—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


সন্তানের আকিকা না দিলে কি ক্ষতি হয়? যা বলে ইসলাম

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image


সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মা-বাবার জন্য এক শ্রেষ্ঠ উপহার। সন্তান জন্মের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং নবজাতকের কল্যাণে পশু জবাই করে আকিকা করা ইসলামের একটি অন্যতম সুন্দর বিধান। তবে সমাজে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে—সন্তানের আকিকা না দিলে তার বড় কোনো ক্ষতি বা বিপদ-আপদ লেগেই থাকে। ইসলাম আসলে এ বিষয়ে কী বলে?

ইসলামিক স্কলারদের মতে, আকিকা না দিলে সন্তানের কোনো ক্ষতি বা গুনাহ হবে—এমন কোনো কথা কোরআন কিংবা হাদিসের কোথাও উল্লেখ নেই। অর্থাৎ, আকিকা না দেওয়ার কারণে সন্তান কোনো শারীরিক বা পার্থিব ক্ষতির সম্মুখীন হবে না।

তবে প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, সন্তানদের আকিকা করাটা এক অর্থে এক ধরণের ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ বা সুরক্ষার মতো। সন্তানের সার্বিক নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সামর্থ্য অনুযায়ী আকিকা করা উচিত। কিন্তু কেউ যদি অভাব বা অন্য কোনো কারণে আকিকা দিতে না পারেন, তবে সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন ভাবার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।

হাদিসে সন্তান জন্মের পর আকিকা করার ব্যাপারে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। সালমান ইবনু আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সন্তানের সঙ্গে আকিকা সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো (পশু জবেহ করো) এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৭৬)

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সপ্তম দিনে আকিকা করা সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সপ্তম দিনে নবজাতকের সুন্দর নাম রাখতে, মাথার চুল মুণ্ডন করতে এবং তার পক্ষ থেকে আকিকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পশুর সংখ্যার ক্ষেত্রে নিয়ম হলো—ছেলে সন্তান হলে দুটি এবং মেয়ে সন্তান হলে একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দিয়ে আকিকা করতে হয়। এছাড়া সমাজে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে, আকিকার পশু কেবল ‘নর’ বা পুরুষ হতে হবে; অথচ হাদিস অনুযায়ী আকিকার পশু নর বা মাদী (পুরুষ বা স্ত্রী) যেকোনোটি হলেই আকিকা শুদ্ধ হয়ে যাবে, এতে কোনো ক্ষতি বা গুনাহ নেই।

আকিকা দেওয়া একটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ (কারো মতে নফল)। সামর্থ্য থাকলে নবজাতকের জন্মের সপ্তম দিনে তা সম্পন্ন করা উত্তম। তবে সামর্থ্য না থাকার কারণে আকিকা দিতে না পারলে সন্তানের কোনো অমঙ্গল বা ক্ষতি হবে—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল