দিকপাল

জ্বালানি সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপে স্থবির বেসরকারি খাতের ব্যাংক ঋণ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৫৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপে স্থবির বেসরকারি খাতের ব্যাংক ঋণ

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরার প্রত্যাশা থাকলেও জ্বালানি সংকট এবং বিশ্ব ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের বেসরকারি খাতের ব্যাংক ঋণপ্রবাহ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৪.৬২ শতাংশ। জুনে এ হার ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন ৪.৪৭ শতাংশে নেমেছিল। জুলাইয়ে সামান্য বাড়লেও টানা পাঁচ মাস ধরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত বেসরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬.৮০ শতাংশের তুলনায় এটি অনেকটাই কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চে ৪.৭২%, এপ্রিলে ৪.৭৫% এবং মে মাসে ৪.৯৮% ঋণ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ঋণপ্রবাহ কমতির দিকে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক বড় শিল্পগোষ্ঠী নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ স্থগিত রেখেছে, এমনকি চলমান উৎপাদনও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, সরকার গঠনের পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হওয়ার আশা থাকলেও আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং দেশে তেল-গ্যাসের তীব্র সংকট ব্যবসায়ীদের নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে বাধ্য করেছে। একই সাথে ব্যাংক খাত ৩২ শতাংশেরও বেশি উচ্চ খেলাপি ঋণের ঝুঁকিতে থাকায় ব্যাংকগুলো বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। ফলে ঝুঁকি এড়াতে তারা বেসরকারি খাতে ঋণ না দিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থ বিনিয়োগে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুতের যোগান না থাকলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সার্বিকভাবে ঋণের চাহিদার অভাব এবং ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে কঠোর অবস্থানের সমন্বিত প্রভাবে বেসরকারি খাতে এই দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।


Source: The Business Standard

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জ্বালানি সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপে স্থবির বেসরকারি খাতের ব্যাংক ঋণ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরার প্রত্যাশা থাকলেও জ্বালানি সংকট এবং বিশ্ব ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের বেসরকারি খাতের ব্যাংক ঋণপ্রবাহ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৪.৬২ শতাংশ। জুনে এ হার ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন ৪.৪৭ শতাংশে নেমেছিল। জুলাইয়ে সামান্য বাড়লেও টানা পাঁচ মাস ধরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত বেসরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬.৮০ শতাংশের তুলনায় এটি অনেকটাই কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চে ৪.৭২%, এপ্রিলে ৪.৭৫% এবং মে মাসে ৪.৯৮% ঋণ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ঋণপ্রবাহ কমতির দিকে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক বড় শিল্পগোষ্ঠী নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ স্থগিত রেখেছে, এমনকি চলমান উৎপাদনও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, সরকার গঠনের পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হওয়ার আশা থাকলেও আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং দেশে তেল-গ্যাসের তীব্র সংকট ব্যবসায়ীদের নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে বাধ্য করেছে। একই সাথে ব্যাংক খাত ৩২ শতাংশেরও বেশি উচ্চ খেলাপি ঋণের ঝুঁকিতে থাকায় ব্যাংকগুলো বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। ফলে ঝুঁকি এড়াতে তারা বেসরকারি খাতে ঋণ না দিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থ বিনিয়োগে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুতের যোগান না থাকলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সার্বিকভাবে ঋণের চাহিদার অভাব এবং ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে কঠোর অবস্থানের সমন্বিত প্রভাবে বেসরকারি খাতে এই দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
Source: The Business Standard


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল