গাজীপুরের শ্রীপুর শহরকে ময়লা-আবর্জনার হাত থেকে রক্ষা করতে পরিবেশ আইন ও সংরক্ষিত বনভূমির সীমানা চরমভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পৌরসভার বিরুদ্ধে। সরকারি গেজেটভুক্ত বনাঞ্চল ও সংরক্ষিত ভাওয়াল শালবনের বুক চিরে তৈরি করা হয়েছে সংযোগ সড়ক, আর বনের সীমানা ঘেঁষেই স্থাপন করা হয়েছে ৬.৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের ‘পাচুলটিয়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কোনো অনুমোদন বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই নির্মিত এই প্রকল্পটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল নিশ্চিত করেছেন, প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য শ্রীপুর পৌরসভা কখনো কোনো আবেদনই করেনি। অন্যদিকে, বন বিভাগের অভিযোগ—বনের ভেতর দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ ও গাছ সাফ করার প্রক্রিয়া ১৯২৭ সালের বন আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগ রয়েছে, দিনে বন কর্মকর্তার বাধার মুখে কাজ বন্ধ হলেও রাতের আঁধারে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও পাচুলটিয়া মৌজায় এস্কেভেটর দিয়ে বনের মাটি খুঁড়ে সীমানা প্রাচীর ভেঙে রাস্তা ও প্ল্যান্টের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়ার দাবি, প্ল্যান্টটি পৌরসভার নিজস্ব জমিতে অবস্থিত এবং এটি কঠিন বর্জ্য পুড়িয়ে নাইট্রোজেন গ্যাস ও তরল বর্জ্য থেকে সার তৈরির মাধ্যমে শহরের বর্জ্য সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দেবে। তবে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিশিষ্ট পরিবেশবিদরা এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের মতে, বনাঞ্চল সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনের সীমানার ভেতরে বা কাছে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি শোধনাগারের বিষাক্ত অ্যাসিডিক তরল (লিচেট) ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করবে এবং যন্ত্রপাতি ও জেনারেটরের একটানা বিকট শব্দ বনের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র, বিশেষ করে পরাগায়নকারী কীটপতঙ্গ ও বন্যপ্রাণীর টিকে থাকাকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাজীপুরের শ্রীপুর শহরকে ময়লা-আবর্জনার হাত থেকে রক্ষা করতে পরিবেশ আইন ও সংরক্ষিত বনভূমির সীমানা চরমভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পৌরসভার বিরুদ্ধে। সরকারি গেজেটভুক্ত বনাঞ্চল ও সংরক্ষিত ভাওয়াল শালবনের বুক চিরে তৈরি করা হয়েছে সংযোগ সড়ক, আর বনের সীমানা ঘেঁষেই স্থাপন করা হয়েছে ৬.৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের ‘পাচুলটিয়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কোনো অনুমোদন বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই নির্মিত এই প্রকল্পটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল নিশ্চিত করেছেন, প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য শ্রীপুর পৌরসভা কখনো কোনো আবেদনই করেনি। অন্যদিকে, বন বিভাগের অভিযোগ—বনের ভেতর দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ ও গাছ সাফ করার প্রক্রিয়া ১৯২৭ সালের বন আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগ রয়েছে, দিনে বন কর্মকর্তার বাধার মুখে কাজ বন্ধ হলেও রাতের আঁধারে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও পাচুলটিয়া মৌজায় এস্কেভেটর দিয়ে বনের মাটি খুঁড়ে সীমানা প্রাচীর ভেঙে রাস্তা ও প্ল্যান্টের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়ার দাবি, প্ল্যান্টটি পৌরসভার নিজস্ব জমিতে অবস্থিত এবং এটি কঠিন বর্জ্য পুড়িয়ে নাইট্রোজেন গ্যাস ও তরল বর্জ্য থেকে সার তৈরির মাধ্যমে শহরের বর্জ্য সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দেবে। তবে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিশিষ্ট পরিবেশবিদরা এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের মতে, বনাঞ্চল সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনের সীমানার ভেতরে বা কাছে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি শোধনাগারের বিষাক্ত অ্যাসিডিক তরল (লিচেট) ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করবে এবং যন্ত্রপাতি ও জেনারেটরের একটানা বিকট শব্দ বনের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র, বিশেষ করে পরাগায়নকারী কীটপতঙ্গ ও বন্যপ্রাণীর টিকে থাকাকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।

আপনার মতামত লিখুন