রাজধানীর যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা তিন মেট্রোরেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের নতুন সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব, এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হওয়া এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প।
এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর ও পূর্বাচল) ৩১.২৪ কিলোমিটার (১৯.৮৭ কিলোমিটার পাতাল ও ১১.৩৬ কিলোমিটার উড়াল পথ) দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পের নতুন সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১,১৪,৩৯৪.৮৯ কোটি টাকা (ব্যয় বেড়েছে ১১৭.৬৪%)। এতে সরকারি তহবিল থেকে ৩০,৫৫২.২৬ কোটি টাকা ও জাইকার ঋণ হিসেবে ৮৩,৮৪২.৬৩ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২৩ সালে শুরু হলেও নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ২০৩৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১২টি পাতাল স্টেশন এবং নদ্দা-পিতলগঞ্জ রুটে ৭টি উড়াল ও ২টি পাতাল স্টেশনের জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রুটের পুনর্গঠিত সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯,৮৪৮.৩৬ কোটি টাকা (ব্যয় বেড়েছে ১১৭.৮৭%)। প্রকল্পের ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল ২২,৩৩০ কোটি টাকা ও জাইকার ঋণ অংশ ৬৭,৫১৮ কোটি টাকা। দরপত্র ও ঠিকাদারি জটিলতার কারণে প্রকল্পটির কাজ পিছিয়ে পড়ায় বাস্তবায়নের নতুন সময়সীমা ২০৩২ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) ১৭.২০ কিলোমিটার (১৩.১০ কিলোমিটার পাতালসহ) দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পে অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫,৫০৩ কোটি টাকা, যা পূর্বের প্রস্তাবিত ৫৪,৬১৯ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এডিবি ২.৩৬ বিলিয়ন ডলার ও দক্ষিণ কোরিয়া ১.৩৫ বিলিয়ন ডলারসহ যৌথ ঋণ হিসেবে দেবে ৩০,৩০৬ কোটি টাকা এবং বাকি ১৫,১৯৭ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আগস্ট ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
কোভিড মহামারিকালীন বিলম্ব, নকশা পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের আর্থিক প্রস্তাব বৃদ্ধির কারণে আগের দুই প্রকল্পের মূল ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন এই তিন মেগা রুটের সমন্বয়ে ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিমে একটি নিরবচ্ছিন্ন আধুনিক পাতাল ও উড়াল রেল যোগাযোগ গড়ে উঠবে।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা তিন মেট্রোরেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের নতুন সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব, এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হওয়া এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প।
এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর ও পূর্বাচল) ৩১.২৪ কিলোমিটার (১৯.৮৭ কিলোমিটার পাতাল ও ১১.৩৬ কিলোমিটার উড়াল পথ) দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পের নতুন সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১,১৪,৩৯৪.৮৯ কোটি টাকা (ব্যয় বেড়েছে ১১৭.৬৪%)। এতে সরকারি তহবিল থেকে ৩০,৫৫২.২৬ কোটি টাকা ও জাইকার ঋণ হিসেবে ৮৩,৮৪২.৬৩ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২৩ সালে শুরু হলেও নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ২০৩৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১২টি পাতাল স্টেশন এবং নদ্দা-পিতলগঞ্জ রুটে ৭টি উড়াল ও ২টি পাতাল স্টেশনের জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
এমআরটি লাইন-৫: নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রুটের পুনর্গঠিত সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯,৮৪৮.৩৬ কোটি টাকা (ব্যয় বেড়েছে ১১৭.৮৭%)। প্রকল্পের ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল ২২,৩৩০ কোটি টাকা ও জাইকার ঋণ অংশ ৬৭,৫১৮ কোটি টাকা। দরপত্র ও ঠিকাদারি জটিলতার কারণে প্রকল্পটির কাজ পিছিয়ে পড়ায় বাস্তবায়নের নতুন সময়সীমা ২০৩২ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) ১৭.২০ কিলোমিটার (১৩.১০ কিলোমিটার পাতালসহ) দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পে অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫,৫০৩ কোটি টাকা, যা পূর্বের প্রস্তাবিত ৫৪,৬১৯ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এডিবি ২.৩৬ বিলিয়ন ডলার ও দক্ষিণ কোরিয়া ১.৩৫ বিলিয়ন ডলারসহ যৌথ ঋণ হিসেবে দেবে ৩০,৩০৬ কোটি টাকা এবং বাকি ১৫,১৯৭ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আগস্ট ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
কোভিড মহামারিকালীন বিলম্ব, নকশা পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের আর্থিক প্রস্তাব বৃদ্ধির কারণে আগের দুই প্রকল্পের মূল ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন এই তিন মেগা রুটের সমন্বয়ে ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিমে একটি নিরবচ্ছিন্ন আধুনিক পাতাল ও উড়াল রেল যোগাযোগ গড়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন