দিকপাল

আক্কেল দাঁত কেন ওঠে ও যন্ত্রণার কারণ ও প্রতিকার!


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০২:৫৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

আক্কেল দাঁত কেন ওঠে ও যন্ত্রণার কারণ ও প্রতিকার!

মানুষের মুখগহ্বরের পেছনের সারিতে সবার শেষে গজানো 'থার্ড মোলার' বা তৃতীয় পেষণ দাঁতটিই সাধারণ ভাষায় 'আক্কেল দাঁত' (উইজডম টুথ) নামে পরিচিত। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন ও যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, মূলত ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে এই দাঁত মাড়ি ভেদ করে বের হতে শুরু করে। মানবদেহের একটি অবশিষ্টাঙ্গ হিসেবে বিবেচিত এই দাঁতটি আদিম যুগে কাঁচা মাংস ও শক্ত ফলমূল চিবিয়ে খাওয়ার কাজে লাগত। তবে বিবর্তনের ধারায় নরম খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে আধুনিক মানুষের চোয়ালের আকার অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে, যার ফলে প্রতি দশজনের মধ্যে আটজনের ক্ষেত্রেই এক বা একাধিক আক্কেল দাঁত আর গজায় না।

ছোট চোয়ালে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় আক্কেল দাঁত মাড়ি বা হাড়ের ভেতরে বাঁকা হয়ে আটকে পড়ে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'ইমপ্যাক্টেড টুথ' বলা হয়। আংশিক বের হওয়া দাঁতের ফাঁকে খাবার ও জীবাণু জমে 'পেরিকোরোনাইটিস' নামক তীব্র মাড়ির প্রদাহ ও ইনফেকশন তৈরি করে। এর ফলে মুখ পুরোপুরি খুলতে না পারা, খাবার গিলে খেতে কষ্ট হওয়া, তীব্র যন্ত্রণা, ক্যাভিটি তৈরি এবং পাশের সুস্থ দাঁতের ক্ষতি হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়। এই সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিরল ক্ষেত্রে তা 'লুডউইগস অ্যাঞ্জাইনা'-র মতো প্রাণঘাতী গলার সংক্রমণে রূপ নিতে পারে।

দাঁতটি যদি স্বাভাবিকভাবে গজায় তবে তা তোলার প্রয়োজন নেই, তবে বারবার ইনফেকশন বা তীব্র যন্ত্রণা হলে চিকিৎসকেরা সার্জারির মাধ্যমে এটি অপসারণের পরামর্শ দেন। অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন, কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখা এবং নরম খাবার গ্রহণ করা উচিত। একই সাথে ক্ষতস্থানের স্বাভাবিক নিরাময় বজায় রাখতে এবং 'ড্রাই সকেট'-এর মতো মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি এড়াতে ধূমপান ও শক্ত খাবার পুরোপুরি পরিহার করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আক্কেল দাঁত কেন ওঠে ও যন্ত্রণার কারণ ও প্রতিকার!

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মানুষের মুখগহ্বরের পেছনের সারিতে সবার শেষে গজানো 'থার্ড মোলার' বা তৃতীয় পেষণ দাঁতটিই সাধারণ ভাষায় 'আক্কেল দাঁত' (উইজডম টুথ) নামে পরিচিত। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন ও যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, মূলত ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে এই দাঁত মাড়ি ভেদ করে বের হতে শুরু করে। মানবদেহের একটি অবশিষ্টাঙ্গ হিসেবে বিবেচিত এই দাঁতটি আদিম যুগে কাঁচা মাংস ও শক্ত ফলমূল চিবিয়ে খাওয়ার কাজে লাগত। তবে বিবর্তনের ধারায় নরম খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে আধুনিক মানুষের চোয়ালের আকার অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে, যার ফলে প্রতি দশজনের মধ্যে আটজনের ক্ষেত্রেই এক বা একাধিক আক্কেল দাঁত আর গজায় না।

ছোট চোয়ালে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় আক্কেল দাঁত মাড়ি বা হাড়ের ভেতরে বাঁকা হয়ে আটকে পড়ে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'ইমপ্যাক্টেড টুথ' বলা হয়। আংশিক বের হওয়া দাঁতের ফাঁকে খাবার ও জীবাণু জমে 'পেরিকোরোনাইটিস' নামক তীব্র মাড়ির প্রদাহ ও ইনফেকশন তৈরি করে। এর ফলে মুখ পুরোপুরি খুলতে না পারা, খাবার গিলে খেতে কষ্ট হওয়া, তীব্র যন্ত্রণা, ক্যাভিটি তৈরি এবং পাশের সুস্থ দাঁতের ক্ষতি হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়। এই সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিরল ক্ষেত্রে তা 'লুডউইগস অ্যাঞ্জাইনা'-র মতো প্রাণঘাতী গলার সংক্রমণে রূপ নিতে পারে।

দাঁতটি যদি স্বাভাবিকভাবে গজায় তবে তা তোলার প্রয়োজন নেই, তবে বারবার ইনফেকশন বা তীব্র যন্ত্রণা হলে চিকিৎসকেরা সার্জারির মাধ্যমে এটি অপসারণের পরামর্শ দেন। অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন, কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখা এবং নরম খাবার গ্রহণ করা উচিত। একই সাথে ক্ষতস্থানের স্বাভাবিক নিরাময় বজায় রাখতে এবং 'ড্রাই সকেট'-এর মতো মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি এড়াতে ধূমপান ও শক্ত খাবার পুরোপুরি পরিহার করা জরুরি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল