উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে বিপৎসীমার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৬ মিটার—যা ওই পয়েন্টের নির্ধারিত বিপৎসীমা (২২ দশমিক ০৫ মিটার) থেকে মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। পানি বৃদ্ধির ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গিয়ে অন্তত ২ হাজার ১০০ পরিবার পুরোপুরি পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
পদ্মার পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, স্থানীয় কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট, স্কুল, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। বিশাল এলাকার আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বেশ কিছু জায়গায় ঘরের ভেতর পানি উঠে পড়ায় গৃহহীন পরিবারগুলো গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আকস্মিক এই নদী প্লাবনের ফলে দুর্গত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট এবং ভেঙে পড়েছে সার্বিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা। পাউবোর হিসাব মতে, গত ৫ দিনে পাঙ্খা পয়েন্টে পদ্মার পানি ৪৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। পদ্মার পাশাপাশি সীমান্ত নদী মহানন্দা ও পুনর্ভবার পানিও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ উঁচুতে প্রবাহিত হচ্ছে।
দুর্গত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত জরুরি ত্রাণসামগ্রী, শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জোর দাবি জানিয়েছেন। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ জানিয়েছে, পানিবন্দী মানুষের তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং দ্রুত ত্রাণ সহায়তার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত পদ্মার পানি কিছুটা বাড়লেও এরপর থেকে পানি নামতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের স্থায়ী বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে বিপৎসীমার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৬ মিটার—যা ওই পয়েন্টের নির্ধারিত বিপৎসীমা (২২ দশমিক ০৫ মিটার) থেকে মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। পানি বৃদ্ধির ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গিয়ে অন্তত ২ হাজার ১০০ পরিবার পুরোপুরি পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
পদ্মার পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, স্থানীয় কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট, স্কুল, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। বিশাল এলাকার আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বেশ কিছু জায়গায় ঘরের ভেতর পানি উঠে পড়ায় গৃহহীন পরিবারগুলো গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আকস্মিক এই নদী প্লাবনের ফলে দুর্গত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট এবং ভেঙে পড়েছে সার্বিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা। পাউবোর হিসাব মতে, গত ৫ দিনে পাঙ্খা পয়েন্টে পদ্মার পানি ৪৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। পদ্মার পাশাপাশি সীমান্ত নদী মহানন্দা ও পুনর্ভবার পানিও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ উঁচুতে প্রবাহিত হচ্ছে।
দুর্গত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত জরুরি ত্রাণসামগ্রী, শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জোর দাবি জানিয়েছেন। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ জানিয়েছে, পানিবন্দী মানুষের তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং দ্রুত ত্রাণ সহায়তার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত পদ্মার পানি কিছুটা বাড়লেও এরপর থেকে পানি নামতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের স্থায়ী বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন