দিকপাল

আইনি নোটিশে নিষিদ্ধ জামায়াত-শিবির!


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৩৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

আইনি নোটিশে নিষিদ্ধ জামায়াত-শিবির!

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজত থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় ছয় ছাত্রনেতা মুক্তি পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে কালো রঙের দুটি গাড়িতে করে তাদের নিজ নিজ বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কেউ ছয় দিন, কেউ পাঁচ দিন আবার কেউ চার দিন ডিবি হেফাজতে ছিলেন। ৩২ ঘণ্টা টানা অনশনে থাকার পর মুক্তি পেয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

একই দিন সরকার নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, জামায়াত-শিবির ও তাদের অঙ্গসংগঠন আর কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না। তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপরাধের প্রমাণসহ সাম্প্রতিক সহিংসতায় তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সরকার হাতে পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

ছাত্রনেতাদের মুক্তির বিষয়ে নাহিদ ইসলামের বাবা বদরুল ইসলাম জানান, ১ আগস্ট ভোর ৬টায় সবার বাসায় ফোন দিয়ে ডিবি অফিসে যেতে বলা হয়। নাহিদরা দুদিন ডিবি অফিসে অনশন করে। তারা এখন শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত। নুসরাত তাবাসসুমকে আলাদাভাবে রাখা হয়েছিল। তিনিও ৩২ ঘণ্টা অনশনে ছিলেন।

মুক্তির পর সারজিস আলম ছয় সমন্বয়কের পক্ষে ফেসবুকে লেখেন, ‘ছয়দিন ডিবি হেফাজতে আটকে রাখা যায়, কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে আটকানো সম্ভব নয়। যতদিন জুলুম চলবে, ততদিন আন্দোলন চলবে।’ এই স্ট্যাটাস দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অকার্যকর হয়ে যায়।

এর আগে, ১৯ জুলাই মধ্যরাতে খিলগাঁও থেকে নাহিদকে তুলে নেওয়া হয়। একদিন পর গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে পূর্বাচলে ফেলে দেওয়া হয়। আসিফ ও বাকেরকেও একইভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পাঁচদিন পর চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। পরে তারা গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তাদের আবার তুলে নিয়ে যায় ডিবি।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণে ১ আগস্ট সারা দেশে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে প্রতিবাদী স্লোগান, গণসংগীত, পথনাটক, দেয়াল লিখন ও চিত্রাঙ্কন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী-শিক্ষক, আইনজীবী ও অভিভাবকরা অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ অন্তত ১৬ জেলা ও মহানগরীতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। অনেক জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দেয় এবং কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েকটি স্থান থেকে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা মিছিল করেন। ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে’ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা ৯ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের করেন। অন্যদিকে, আওয়ামীপন্থি নীল দল ঢাবিসহ সারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের দাবির কাঙ্ক্ষিত সমাধান হওয়ায় আন্দোলনের পথ পরিহারের আহ্বান জানায়।

জাহাঙ্গীরনগর ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি পালিত হয়। ময়মনসিংহ, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশের বাধা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অনেক জায়গায় শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির মধ্যেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের দাবি জানান।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা কোটা আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি, হামলা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। তারা শিক্ষার্থী হত্যার বিচার এবং প্রবাসীদের রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান জানান।

কোটা আন্দোলনে হতাহতদের স্মরণে ২ আগস্ট দেশব্যাপী ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুমার নামাজ শেষে দোয়া, শহীদদের কবর জিয়ারত, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ে প্রার্থনা এবং ছাত্র-জনতার গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। শ্রমিক, পেশাজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী, আলেম-ওলামাসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

পতিত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ আগস্ট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের কথা বলেন। তিনি জামায়াত-শিবির ও বিএনপিকে সহিংসতার পেছনে দায়ী করে বলেন, তারা কোটা আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস চালিয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে, কোটা আন্দোলনের সহিংসতায় তৎকালীন সরকারের হিসেবে ১ আগস্ট পর্যন্ত ২১২ জন শহীদ হন, যাদের মধ্যে ১৩৭ জনের শরীরে প্রাণঘাতী গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। আহত প্রায় ৬ হাজার ৭০০ জনের মধ্যে ২৩১ জন গুলিবিদ্ধ হন, অনেকের চোখে ছররা গুলি লাগে এবং কয়েকজনের পা কেটে ফেলতে হয়। তবে হতাহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি ছিল বলে মনে করা হয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনে। সহিংসতা ও গুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বাংলাদেশে গুলির দৃশ্যকে নিন্দনীয় বলেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের আর কোনো অধিকার নেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


আইনি নোটিশে নিষিদ্ধ জামায়াত-শিবির!

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজত থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় ছয় ছাত্রনেতা মুক্তি পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে কালো রঙের দুটি গাড়িতে করে তাদের নিজ নিজ বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কেউ ছয় দিন, কেউ পাঁচ দিন আবার কেউ চার দিন ডিবি হেফাজতে ছিলেন। ৩২ ঘণ্টা টানা অনশনে থাকার পর মুক্তি পেয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

একই দিন সরকার নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, জামায়াত-শিবির ও তাদের অঙ্গসংগঠন আর কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না। তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপরাধের প্রমাণসহ সাম্প্রতিক সহিংসতায় তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সরকার হাতে পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

ছাত্রনেতাদের মুক্তির বিষয়ে নাহিদ ইসলামের বাবা বদরুল ইসলাম জানান, ১ আগস্ট ভোর ৬টায় সবার বাসায় ফোন দিয়ে ডিবি অফিসে যেতে বলা হয়। নাহিদরা দুদিন ডিবি অফিসে অনশন করে। তারা এখন শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত। নুসরাত তাবাসসুমকে আলাদাভাবে রাখা হয়েছিল। তিনিও ৩২ ঘণ্টা অনশনে ছিলেন।

মুক্তির পর সারজিস আলম ছয় সমন্বয়কের পক্ষে ফেসবুকে লেখেন, ‘ছয়দিন ডিবি হেফাজতে আটকে রাখা যায়, কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে আটকানো সম্ভব নয়। যতদিন জুলুম চলবে, ততদিন আন্দোলন চলবে।’ এই স্ট্যাটাস দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অকার্যকর হয়ে যায়।

এর আগে, ১৯ জুলাই মধ্যরাতে খিলগাঁও থেকে নাহিদকে তুলে নেওয়া হয়। একদিন পর গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে পূর্বাচলে ফেলে দেওয়া হয়। আসিফ ও বাকেরকেও একইভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পাঁচদিন পর চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। পরে তারা গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তাদের আবার তুলে নিয়ে যায় ডিবি।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণে ১ আগস্ট সারা দেশে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে প্রতিবাদী স্লোগান, গণসংগীত, পথনাটক, দেয়াল লিখন ও চিত্রাঙ্কন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী-শিক্ষক, আইনজীবী ও অভিভাবকরা অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ অন্তত ১৬ জেলা ও মহানগরীতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। অনেক জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দেয় এবং কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েকটি স্থান থেকে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা মিছিল করেন। ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে’ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা ৯ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের করেন। অন্যদিকে, আওয়ামীপন্থি নীল দল ঢাবিসহ সারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের দাবির কাঙ্ক্ষিত সমাধান হওয়ায় আন্দোলনের পথ পরিহারের আহ্বান জানায়।

জাহাঙ্গীরনগর ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি পালিত হয়। ময়মনসিংহ, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশের বাধা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অনেক জায়গায় শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির মধ্যেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের দাবি জানান।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা কোটা আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি, হামলা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। তারা শিক্ষার্থী হত্যার বিচার এবং প্রবাসীদের রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান জানান।

কোটা আন্দোলনে হতাহতদের স্মরণে ২ আগস্ট দেশব্যাপী ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুমার নামাজ শেষে দোয়া, শহীদদের কবর জিয়ারত, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ে প্রার্থনা এবং ছাত্র-জনতার গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। শ্রমিক, পেশাজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী, আলেম-ওলামাসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

পতিত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ আগস্ট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের কথা বলেন। তিনি জামায়াত-শিবির ও বিএনপিকে সহিংসতার পেছনে দায়ী করে বলেন, তারা কোটা আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস চালিয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে, কোটা আন্দোলনের সহিংসতায় তৎকালীন সরকারের হিসেবে ১ আগস্ট পর্যন্ত ২১২ জন শহীদ হন, যাদের মধ্যে ১৩৭ জনের শরীরে প্রাণঘাতী গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। আহত প্রায় ৬ হাজার ৭০০ জনের মধ্যে ২৩১ জন গুলিবিদ্ধ হন, অনেকের চোখে ছররা গুলি লাগে এবং কয়েকজনের পা কেটে ফেলতে হয়। তবে হতাহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি ছিল বলে মনে করা হয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনে। সহিংসতা ও গুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বাংলাদেশে গুলির দৃশ্যকে নিন্দনীয় বলেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের আর কোনো অধিকার নেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল