দিকপাল

বাংলাদেশে চীনের উপস্থিতি নিয়ে ভারতের সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০২:৪৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে চীনের উপস্থিতি নিয়ে ভারতের সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ

বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটি। ভারতের কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির নবম প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) দেশটির সংসদে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে ভারত সরকারকে বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বিদেশি শক্তিগুলোর তৎপরতা ভারতের জন্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ভারতের জন্য ‘বন্ধু নয়’ এমন কোনো দেশ যদি বাংলাদেশে সামরিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে তা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে ভারত সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে পেকুয়ার সাবমেরিন ঘাঁটি, চীনের সহায়তায় মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির উন্নয়নের বিষয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বর্তমানে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিকে সামরিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আধুনিকায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক চীন সফরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনভাবে অংশীদারত্ব নির্বাচনের অধিকার স্বীকার করে কমিটি সুপারিশ করেছে যে, ভারতকে বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হবে। এজন্য খুলনা-মোংলা রেলপথ, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ট্রানজিট চুক্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোন, থার্মাল ক্যামেরা, মোশন সেন্সর ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জোর তাগিদ দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


বাংলাদেশে চীনের উপস্থিতি নিয়ে ভারতের সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটি। ভারতের কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির নবম প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) দেশটির সংসদে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে ভারত সরকারকে বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বিদেশি শক্তিগুলোর তৎপরতা ভারতের জন্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ভারতের জন্য ‘বন্ধু নয়’ এমন কোনো দেশ যদি বাংলাদেশে সামরিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে তা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে ভারত সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে পেকুয়ার সাবমেরিন ঘাঁটি, চীনের সহায়তায় মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির উন্নয়নের বিষয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বর্তমানে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিকে সামরিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আধুনিকায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক চীন সফরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনভাবে অংশীদারত্ব নির্বাচনের অধিকার স্বীকার করে কমিটি সুপারিশ করেছে যে, ভারতকে বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হবে। এজন্য খুলনা-মোংলা রেলপথ, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ট্রানজিট চুক্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোন, থার্মাল ক্যামেরা, মোশন সেন্সর ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জোর তাগিদ দেওয়া হয়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল