দিকপাল

পাস হওয়া বাজেট জামায়াতের ছায়া বাজেটের কাছাকাছি: শফিকুর রহমান


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৪:২৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

পাস হওয়া বাজেট জামায়াতের ছায়া বাজেটের কাছাকাছি: শফিকুর রহমান

২০২৬-২৭ অর্থবছরের সদ্য পাস হওয়া জাতীয় বাজেটটি অনেকাংশেই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ‘ছায়াবাজেট’-এর কাছাকাছি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের এলডি (LD) হলে আয়োজিত এক বাজেট-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় তিনি এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান সদ্য পাস হওয়া বাজেটের বেশ কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে সরকারকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে প্রান্তিক ও সাধারণ মুদি দোকানিদের ওপর থেকে অগ্রিম কর প্রত্যাহার এবং সাইকেলের যন্ত্রাংশে করছাড় দেওয়ার মতো জনবান্ধব সেক্টরগুলোতে বিরোধী দলের দেওয়া সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাগুলো বিবেচনা করায় তিনি সরকারের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান।

বাজেটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের স্বস্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, বাজেটে দেশের প্রায় ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জরুরি পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। তবে এই কর কমানোর সুফল যদি সরাসরি দেশের খুচরা বাজারে না পৌঁছায় এবং সাধারণ মানুষ এর সুবিধা না পায়; তবে ধরে নিতে হবে এই সুবিধার পুরোটা লুটে নেবে বাজার সিন্ডিকেট। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

সংসদের পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশের অতীতের বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন বিরোধীদলীয় এই নেতা। তিনি সংসদের ভেতরে সকল পক্ষকে যেকোনো ধরনের দায়িত্বহীন আচরণ ও কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সাথে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর চেতনাকে ধারণ করে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী দেশের জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। এই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের রাজপথের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। সাধারণত বিরোধী দলগুলো ঢালাওভাবে সরকারি বাজেটের সমালোচনা করলেও, এখানে জামায়াত আমিরের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া প্রস্তাবনা (যেমন মুদি দোকানের অগ্রিম কর প্রত্যাহার) পাস হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানো ইতিবাচক সংসদীয় সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়। তবে ৬১টি পণ্যে কর কমানোর পর ভোক্তারা তার সুবিধা পাবে নাকি সিন্ডিকেট দাম ধরে রাখবে—ডা. শফিকুর রহমানের এই আশঙ্কা অত্যন্ত যৌক্তিক। মাঠপর্যায়ে কঠোর বাজার মনিটরিং এবং ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডাগুলো এগিয়ে নেওয়াই এখন বর্তমান সংসদ ও সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


পাস হওয়া বাজেট জামায়াতের ছায়া বাজেটের কাছাকাছি: শফিকুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

২০২৬-২৭ অর্থবছরের সদ্য পাস হওয়া জাতীয় বাজেটটি অনেকাংশেই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ‘ছায়াবাজেট’-এর কাছাকাছি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের এলডি (LD) হলে আয়োজিত এক বাজেট-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় তিনি এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান সদ্য পাস হওয়া বাজেটের বেশ কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে সরকারকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে প্রান্তিক ও সাধারণ মুদি দোকানিদের ওপর থেকে অগ্রিম কর প্রত্যাহার এবং সাইকেলের যন্ত্রাংশে করছাড় দেওয়ার মতো জনবান্ধব সেক্টরগুলোতে বিরোধী দলের দেওয়া সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাগুলো বিবেচনা করায় তিনি সরকারের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান।

বাজেটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের স্বস্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, বাজেটে দেশের প্রায় ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জরুরি পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। তবে এই কর কমানোর সুফল যদি সরাসরি দেশের খুচরা বাজারে না পৌঁছায় এবং সাধারণ মানুষ এর সুবিধা না পায়; তবে ধরে নিতে হবে এই সুবিধার পুরোটা লুটে নেবে বাজার সিন্ডিকেট। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

সংসদের পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশের অতীতের বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন বিরোধীদলীয় এই নেতা। তিনি সংসদের ভেতরে সকল পক্ষকে যেকোনো ধরনের দায়িত্বহীন আচরণ ও কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সাথে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর চেতনাকে ধারণ করে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী দেশের জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। এই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের রাজপথের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। সাধারণত বিরোধী দলগুলো ঢালাওভাবে সরকারি বাজেটের সমালোচনা করলেও, এখানে জামায়াত আমিরের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া প্রস্তাবনা (যেমন মুদি দোকানের অগ্রিম কর প্রত্যাহার) পাস হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানো ইতিবাচক সংসদীয় সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়। তবে ৬১টি পণ্যে কর কমানোর পর ভোক্তারা তার সুবিধা পাবে নাকি সিন্ডিকেট দাম ধরে রাখবে—ডা. শফিকুর রহমানের এই আশঙ্কা অত্যন্ত যৌক্তিক। মাঠপর্যায়ে কঠোর বাজার মনিটরিং এবং ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডাগুলো এগিয়ে নেওয়াই এখন বর্তমান সংসদ ও সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল