দিকপাল

সংবিধান সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে জনগণ, সংশোধনের নয়: শফিকুর রহমান


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | ০২:১২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

সংবিধান সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে জনগণ, সংশোধনের নয়: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ অতীতে গণভোটের রায় না মানা, এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মতবিনিময় সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনি সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশের সাধারণ জনগণ সংবিধান সংস্কারের ম্যান্ডেট বা রায় দিয়েছে, সংশোধনের না।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দলের রাজনৈতিক স্বার্থে কিংবা দলের দিকে তাকিয়ে দেশে কোনো আইন প্রণয়ন হোক, তেমনটা তারা চান না। সংবিধানে সঠিক ও কার্যকর সংস্কার আনা সম্ভব হলে দেশে পুনরায় একটি সুস্থ ও টেকসই গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় এই নেতা তাঁর মূল্যায়নে বলেন, বাজেট নিয়ে আগে যেমনটা ধারণা বা পূর্বাভাস করা হয়েছিল, এবারের বাজেট মূলত তার কাছাকাছিই হয়েছে। তিনি মনে করেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে বড় আকারের বাজেট দেওয়া কোনো অপরাধ বা ভুল সিদ্ধান্ত নয়; তবে আসল চ্যালেঞ্জ হলো এই বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধ করা। বাজেট বাস্তবায়নের এই মূল জায়গাগুলোতে যদি আমূল সংস্কার আনা না যায়, তবে সাধারণ জনগণ বাজেটের প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।

বাজেট ঘোষণার পর কাগুজে হিসাবের বাইরে সাধারণ মানুষের বাস্তব সুবিধার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাজেটে যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সাধারণ মানুষ সরাসরি বাজারে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়। বাজারে যদি সত্যি পণ্যের দাম কমে, তবেই প্রমাণিত হবে যে এবারের বাজেট প্রকৃত অর্থেই একটি জনবান্ধব বাজেট হয়েছে।

সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য একদিকে যেমন দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে স্পর্শ করেছে, অন্যদিকে দেশের সাংবিধানিক ভবিষ্যতের একটি বড় দিক উন্মোচন করেছে। 'সংবিধান সংস্কার এবং সংশোধন'-এর মধ্যকার পার্থক্যটি তুলে ধরে তিনি মূলত ইঙ্গিত করেছেন যে, অতীতের মতো কোনো দল যেন নিজেদের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংবিধানে জোড়াতালি না দেয়। পাশাপাশি, বড় বাজেট পাসের চেয়ে তা বাস্তবায়নে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামোর যে দাবি তিনি করেছেন, তা দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের মনের কথা। বাজার নিয়ন্ত্রণে বাজেটের সুফল সরাসরি ভোক্তার পকেটে পৌঁছানোই এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


সংবিধান সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে জনগণ, সংশোধনের নয়: শফিকুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ অতীতে গণভোটের রায় না মানা, এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মতবিনিময় সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনি সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশের সাধারণ জনগণ সংবিধান সংস্কারের ম্যান্ডেট বা রায় দিয়েছে, সংশোধনের না।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দলের রাজনৈতিক স্বার্থে কিংবা দলের দিকে তাকিয়ে দেশে কোনো আইন প্রণয়ন হোক, তেমনটা তারা চান না। সংবিধানে সঠিক ও কার্যকর সংস্কার আনা সম্ভব হলে দেশে পুনরায় একটি সুস্থ ও টেকসই গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় এই নেতা তাঁর মূল্যায়নে বলেন, বাজেট নিয়ে আগে যেমনটা ধারণা বা পূর্বাভাস করা হয়েছিল, এবারের বাজেট মূলত তার কাছাকাছিই হয়েছে। তিনি মনে করেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে বড় আকারের বাজেট দেওয়া কোনো অপরাধ বা ভুল সিদ্ধান্ত নয়; তবে আসল চ্যালেঞ্জ হলো এই বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধ করা। বাজেট বাস্তবায়নের এই মূল জায়গাগুলোতে যদি আমূল সংস্কার আনা না যায়, তবে সাধারণ জনগণ বাজেটের প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।

বাজেট ঘোষণার পর কাগুজে হিসাবের বাইরে সাধারণ মানুষের বাস্তব সুবিধার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাজেটে যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সাধারণ মানুষ সরাসরি বাজারে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়। বাজারে যদি সত্যি পণ্যের দাম কমে, তবেই প্রমাণিত হবে যে এবারের বাজেট প্রকৃত অর্থেই একটি জনবান্ধব বাজেট হয়েছে।

সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য একদিকে যেমন দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে স্পর্শ করেছে, অন্যদিকে দেশের সাংবিধানিক ভবিষ্যতের একটি বড় দিক উন্মোচন করেছে। 'সংবিধান সংস্কার এবং সংশোধন'-এর মধ্যকার পার্থক্যটি তুলে ধরে তিনি মূলত ইঙ্গিত করেছেন যে, অতীতের মতো কোনো দল যেন নিজেদের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংবিধানে জোড়াতালি না দেয়। পাশাপাশি, বড় বাজেট পাসের চেয়ে তা বাস্তবায়নে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামোর যে দাবি তিনি করেছেন, তা দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের মনের কথা। বাজার নিয়ন্ত্রণে বাজেটের সুফল সরাসরি ভোক্তার পকেটে পৌঁছানোই এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল