দিকপাল

আগস্টের শেষ সপ্তাহে দিল্লি সফরের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৫৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

আগস্টের শেষ সপ্তাহে দিল্লি সফরের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে ভারতে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সরকারি সফরে যেতে পারেন। ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে বর্তমানে এই সময়সীমার মধ্যেই সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

সফরসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২০-২১ আগস্ট অথবা ২১-২২ আগস্ট—এই দুটি সম্ভাব্য তারিখ বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গত ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর প্রধান পরাগ জৈন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। এর পরদিনই (১১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বৈঠক করেন। এরপরই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই আনুষ্ঠানিক সফরের প্রস্তুতির খবরটি সামনে আসে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরই এই দ্বিপক্ষীয় সফরের নতুন সময়সূচি নির্ধারণে একমত হয় উভয় দেশ। আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কিরগিজস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার সূচি থাকায় আগস্টের শেষ সপ্তাহকেই এ সফরের সেরা সময় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর এটিই হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর (এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন)। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সম্প্রতি গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তাপ কমিয়ে আনা ছাড়াও এই সফরের মূল ফোকাস থাকবে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের ওপর। বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের জ্বালানি সহায়তা প্রয়োজন। অন্যদিকে ভারতের জন্য তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, কানেকটিভিটি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের বিষয়টি মুখ্য। পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়া ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং তিস্তা চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়েও দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


আগস্টের শেষ সপ্তাহে দিল্লি সফরের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে ভারতে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সরকারি সফরে যেতে পারেন। ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে বর্তমানে এই সময়সীমার মধ্যেই সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

সফরসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২০-২১ আগস্ট অথবা ২১-২২ আগস্ট—এই দুটি সম্ভাব্য তারিখ বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গত ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর প্রধান পরাগ জৈন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। এর পরদিনই (১১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বৈঠক করেন। এরপরই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই আনুষ্ঠানিক সফরের প্রস্তুতির খবরটি সামনে আসে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরই এই দ্বিপক্ষীয় সফরের নতুন সময়সূচি নির্ধারণে একমত হয় উভয় দেশ। আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কিরগিজস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার সূচি থাকায় আগস্টের শেষ সপ্তাহকেই এ সফরের সেরা সময় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর এটিই হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর (এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন)। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সম্প্রতি গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তাপ কমিয়ে আনা ছাড়াও এই সফরের মূল ফোকাস থাকবে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের ওপর। বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের জ্বালানি সহায়তা প্রয়োজন। অন্যদিকে ভারতের জন্য তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, কানেকটিভিটি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের বিষয়টি মুখ্য। পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়া ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং তিস্তা চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়েও দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল