দিকপাল

দুর্ঘটনায় কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হলেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা


আহমেদ রিয়াদ
আহমেদ রিয়াদ নিউজ এডিটর
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ | ১২:৩৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্ঘটনায় কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হলেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা


দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী যৌক্তিক দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি করলে, স্থানীয় প্রশাসনের বিবেচনায় তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিশেষ সুযোগ বা ‘স্পেস’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের কোনো অঞ্চলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সেই দিনের পরীক্ষা সারা দেশে একযোগে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শতভাগ স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখার পাশাপাশি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের গায়ে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ বা বডি ক্যাম সংযুক্ত থাকবে।

তবে প্রশাসনের এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বডি ক্যাম বা অতিরিক্ত কড়াকড়ির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা এর আগে তাদের কখনো হয়নি, যা পরীক্ষার হলে কিছুটা মানসিক চাপের তৈরি করতে পারে। তবে তারা আশা করছেন, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস হলেও প্রশ্নপত্র অতিরিক্ত কঠিন না হয়ে পরিমিত ও সাবলীল হবে।

সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়ন ও সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, “অভিন্ন প্রশ্নপত্র নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ঢাকা বা বড় শহরের নামী কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীরা যে ধরনের ল্যাব, মানসম্মত শিক্ষক ও সুযোগ-সুবিধা পায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা তা পায় না। তাই প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন গ্রামীণ বা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের কোনো শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার না হয়।”

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি ও দুর্যোগকালীন রূপরেখা স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, কোনো পরীক্ষার্থী ব্যক্তিগত দুর্ঘটনার কারণে সময়মতো কেন্দ্রে আসতে না পারলে স্থানীয় প্রশাসন যৌক্তিকতা বিচার করে তাকে ছাড় দিতে পারবে। এছাড়া কোনো নির্দিষ্ট বিভাগে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে শুধু সেই বিভাগ নয়, বরং প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা ও সমতা রক্ষায় সারা দেশের পরীক্ষাই স্থগিত করে পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় এবার এইচএসসিতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজারেরও বেশি। এবার ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

করোনা মহামারি এবং পরবর্তী সময়ে বন্যা ও সিলেবাস পরিমার্জনের কারণে গত কয়েক বছর ধরে এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও আংশিক নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালে এসে শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ ৩০০ নম্বরের ও পূর্ণ সময়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আকস্মিক বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, অন্যদিকে শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার অবকাঠামোগত ব্যবধান—এই দুই চ্যালেঞ্জের মাঝেই শিক্ষাবোর্ড অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মান ধরে রাখার পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও মানবিক দিক বিবেচনা করার এই দ্বিমুখী নীতি কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


দুর্ঘটনায় কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হলেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image


দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী যৌক্তিক দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি করলে, স্থানীয় প্রশাসনের বিবেচনায় তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিশেষ সুযোগ বা ‘স্পেস’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের কোনো অঞ্চলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সেই দিনের পরীক্ষা সারা দেশে একযোগে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শতভাগ স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখার পাশাপাশি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের গায়ে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ বা বডি ক্যাম সংযুক্ত থাকবে।

তবে প্রশাসনের এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বডি ক্যাম বা অতিরিক্ত কড়াকড়ির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা এর আগে তাদের কখনো হয়নি, যা পরীক্ষার হলে কিছুটা মানসিক চাপের তৈরি করতে পারে। তবে তারা আশা করছেন, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস হলেও প্রশ্নপত্র অতিরিক্ত কঠিন না হয়ে পরিমিত ও সাবলীল হবে।

সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়ন ও সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, “অভিন্ন প্রশ্নপত্র নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ঢাকা বা বড় শহরের নামী কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীরা যে ধরনের ল্যাব, মানসম্মত শিক্ষক ও সুযোগ-সুবিধা পায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা তা পায় না। তাই প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন গ্রামীণ বা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের কোনো শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার না হয়।”

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি ও দুর্যোগকালীন রূপরেখা স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, কোনো পরীক্ষার্থী ব্যক্তিগত দুর্ঘটনার কারণে সময়মতো কেন্দ্রে আসতে না পারলে স্থানীয় প্রশাসন যৌক্তিকতা বিচার করে তাকে ছাড় দিতে পারবে। এছাড়া কোনো নির্দিষ্ট বিভাগে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে শুধু সেই বিভাগ নয়, বরং প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা ও সমতা রক্ষায় সারা দেশের পরীক্ষাই স্থগিত করে পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখে নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় এবার এইচএসসিতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজারেরও বেশি। এবার ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

করোনা মহামারি এবং পরবর্তী সময়ে বন্যা ও সিলেবাস পরিমার্জনের কারণে গত কয়েক বছর ধরে এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও আংশিক নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালে এসে শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ ৩০০ নম্বরের ও পূর্ণ সময়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আকস্মিক বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, অন্যদিকে শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার অবকাঠামোগত ব্যবধান—এই দুই চ্যালেঞ্জের মাঝেই শিক্ষাবোর্ড অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মান ধরে রাখার পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও মানবিক দিক বিবেচনা করার এই দ্বিমুখী নীতি কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল