ইসরায়েলের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দকৃত বার্ষিক সামরিক সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের দাবি তুলেছেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইসরায়েলের সামরিক তহবিল বাতিলের একটি সংশোধনী প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে টেক্সাস থেকে নির্বাচিত এই আইনপ্রণেতা বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উগ্র নীতির জন্য মার্কিন জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সোমবার (২৯ ২৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে গ্রেগ কাসার বাইডেন প্রশাসন ও কংগ্রেসের নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, “গাজায় ইসরায়েলি সরকার ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে একটি বিপজ্জনক সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার পরিবেশ তৈরি করেছে।” কংগ্রেসের প্রোগ্রেসিভ ককাসের শীর্ষস্থানীয় এই নেতা স্পষ্ট করে বলেন, “খুব শিগগিরই প্রতিনিধি পরিষদে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের প্রস্তাব তোলা হবে। আমি দৃঢ়ভাবে এর পক্ষে (হ্যাঁ ভোট) দাঁড়াব।”
কংগ্রেসে এই ঐতিহাসিক সংশোধনী প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থী কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি। এই বিলে প্রতি বছর ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩০ কোটি (৩.৩ বিলিয়ন) ডলারের নিঃশর্ত সরাসরি সামরিক সহায়তা বাতিলের জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অর্থায়ন বিলের (এনএসআরপি) আওতায় ইসরায়েলের জন্য বরাদ্দ রাখা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা তহবিলের সমস্ত অর্থ পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বিলটি চূড়ান্ত ভোটে তোলার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবকারী রিপাবলিকান নেতা থমাস ম্যাসি ইসরায়েলবিরোধী ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে সম্প্রতি খোদ নিজ দলেই তীব্র কোণঠাসা হয়ে পড়েন। গত মাসে অনুষ্ঠিত রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রাইমারি নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী এড গ্যালরেইনের কাছে তিনি পরাজিত হন।
মার্কিন মিডিয়ার তথ্যমতে, ম্যাসির এই আসনটির নির্বাচন ছিল মার্কিন কংগ্রেসের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাইমারিগুলোর একটি। তাকে পরাজিত করতে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ঢালা হয়েছিল, যার একটি সিংহভাগ জোগান দিয়েছিল আমেরিকার প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন ‘আইপ্যাক’ (AIPAC) এবং ট্রাম্প সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো।
থমাস ম্যাসির উত্থাপিত এই সংশোধনী প্রস্তাবটি মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম হলেও, এটি ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পিউ রিসার্চের জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ সাধারণ মার্কিন নাগরিক এখন ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির বিরোধী। গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার জেরে এখন শুধু প্রোগ্রেসিভ ডেমোক্র্যাটরাই নয়, কট্টরপন্থী রিপাবলিকানদের একটি অংশও ইসরায়েলকে ‘ব্ল্যাংক চেক’ বা নিঃশর্ত সহায়তা দেওয়ার নীতি থেকে সরে আসার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এই বিলের ভোটকে কেন্দ্র করে মার্কিন ক্যাপিটল হিলে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ফাটল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
ইসরায়েলের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দকৃত বার্ষিক সামরিক সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের দাবি তুলেছেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইসরায়েলের সামরিক তহবিল বাতিলের একটি সংশোধনী প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে টেক্সাস থেকে নির্বাচিত এই আইনপ্রণেতা বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উগ্র নীতির জন্য মার্কিন জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সোমবার (২৯ ২৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে গ্রেগ কাসার বাইডেন প্রশাসন ও কংগ্রেসের নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, “গাজায় ইসরায়েলি সরকার ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে একটি বিপজ্জনক সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার পরিবেশ তৈরি করেছে।” কংগ্রেসের প্রোগ্রেসিভ ককাসের শীর্ষস্থানীয় এই নেতা স্পষ্ট করে বলেন, “খুব শিগগিরই প্রতিনিধি পরিষদে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের প্রস্তাব তোলা হবে। আমি দৃঢ়ভাবে এর পক্ষে (হ্যাঁ ভোট) দাঁড়াব।”
কংগ্রেসে এই ঐতিহাসিক সংশোধনী প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থী কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি। এই বিলে প্রতি বছর ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩০ কোটি (৩.৩ বিলিয়ন) ডলারের নিঃশর্ত সরাসরি সামরিক সহায়তা বাতিলের জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অর্থায়ন বিলের (এনএসআরপি) আওতায় ইসরায়েলের জন্য বরাদ্দ রাখা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা তহবিলের সমস্ত অর্থ পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বিলটি চূড়ান্ত ভোটে তোলার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবকারী রিপাবলিকান নেতা থমাস ম্যাসি ইসরায়েলবিরোধী ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে সম্প্রতি খোদ নিজ দলেই তীব্র কোণঠাসা হয়ে পড়েন। গত মাসে অনুষ্ঠিত রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রাইমারি নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী এড গ্যালরেইনের কাছে তিনি পরাজিত হন।
মার্কিন মিডিয়ার তথ্যমতে, ম্যাসির এই আসনটির নির্বাচন ছিল মার্কিন কংগ্রেসের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাইমারিগুলোর একটি। তাকে পরাজিত করতে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ঢালা হয়েছিল, যার একটি সিংহভাগ জোগান দিয়েছিল আমেরিকার প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন ‘আইপ্যাক’ (AIPAC) এবং ট্রাম্প সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো।
থমাস ম্যাসির উত্থাপিত এই সংশোধনী প্রস্তাবটি মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম হলেও, এটি ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পিউ রিসার্চের জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ সাধারণ মার্কিন নাগরিক এখন ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির বিরোধী। গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার জেরে এখন শুধু প্রোগ্রেসিভ ডেমোক্র্যাটরাই নয়, কট্টরপন্থী রিপাবলিকানদের একটি অংশও ইসরায়েলকে ‘ব্ল্যাংক চেক’ বা নিঃশর্ত সহায়তা দেওয়ার নীতি থেকে সরে আসার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এই বিলের ভোটকে কেন্দ্র করে মার্কিন ক্যাপিটল হিলে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ফাটল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন