দিকপাল

উজানের বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ | ১০:২০ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

উজানের বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

উজানের পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারী বর্ষণে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বন্যার চোখরাঙানি শুরু হয়েছে। হু হু করে বাড়ছে প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি। ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদী বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে, আর তিস্তা-সুরমাসহ বেশ কয়েকটি নদীর পানি ছুঁই ছুঁই করছে সতর্কসীমা। আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃষ্টি এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই নদীতে পানি বেড়েছে রেকর্ড ৯৩ সেন্টিমিটার। শুধু দুধকুমারই নয়, তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটার পানিও আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে বিপদের আভাস দিচ্ছে।

নদী অববাহিকার এই পরিস্থিতির পেছনে কাজ করছে দেশের অভ্যন্তরে ও সীমান্তপারে চলা টানা বৃষ্টি। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে। একই সময়ে ভারতের অরুণাচল ও আসামের পাহাড়ি অঞ্চলেও তুমুল বৃষ্টি হয়েছে। সেই উজানের পানিই এখন পাহাড়ি ঢল হয়ে নেমে আসছে বাংলাদেশের নদীগুলোতে।

আগামী দুই দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ ভারতের উজান এলাকায় অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিন টানা বাড়তে পারে। এতে আগামী ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমা পার হতে পারে। এমনটা হলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি ঢুকে পড়তে পারে। এতে কুড়িগ্রামের চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে স্বস্তির খবর হলো, ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিরাপদ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছরই বর্ষার শুরুতে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের পাহাড়ি ঢল বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ডেকে আনে। দুধকুমার, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো আন্তঃসীমান্ত নদীগুলো দিয়ে উজানের পানি নেমে আসার সময় নদীর দুই কূল উপচে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং বাঁধগুলোর সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


উজানের বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

উজানের পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারী বর্ষণে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বন্যার চোখরাঙানি শুরু হয়েছে। হু হু করে বাড়ছে প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি। ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদী বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে, আর তিস্তা-সুরমাসহ বেশ কয়েকটি নদীর পানি ছুঁই ছুঁই করছে সতর্কসীমা। আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃষ্টি এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই নদীতে পানি বেড়েছে রেকর্ড ৯৩ সেন্টিমিটার। শুধু দুধকুমারই নয়, তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটার পানিও আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে বিপদের আভাস দিচ্ছে।

নদী অববাহিকার এই পরিস্থিতির পেছনে কাজ করছে দেশের অভ্যন্তরে ও সীমান্তপারে চলা টানা বৃষ্টি। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে। একই সময়ে ভারতের অরুণাচল ও আসামের পাহাড়ি অঞ্চলেও তুমুল বৃষ্টি হয়েছে। সেই উজানের পানিই এখন পাহাড়ি ঢল হয়ে নেমে আসছে বাংলাদেশের নদীগুলোতে।

আগামী দুই দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ ভারতের উজান এলাকায় অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিন টানা বাড়তে পারে। এতে আগামী ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমা পার হতে পারে। এমনটা হলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি ঢুকে পড়তে পারে। এতে কুড়িগ্রামের চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে স্বস্তির খবর হলো, ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিরাপদ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছরই বর্ষার শুরুতে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের পাহাড়ি ঢল বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ডেকে আনে। দুধকুমার, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো আন্তঃসীমান্ত নদীগুলো দিয়ে উজানের পানি নেমে আসার সময় নদীর দুই কূল উপচে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং বাঁধগুলোর সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল